বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নাটকীয় টাইব্রেকারে নেদারল্যান্ডসকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে মরক্কো। নির্ধারিত ৯০ মিনিট এবং অতিরিক্ত ৩০ মিনিট শেষে ম্যাচের স্কোরলাইন ছিল ১-১। এই জয়ের ফলে মরক্কো টুর্নামেন্ট থেকে ইউরোপের শক্তিশালী দল নেদারল্যান্ডসকে ছিটকে দিয়েছে।
ম্যাচের ৭২তম মিনিটে কোডি গাকপোর গোলে এগিয়ে গিয়েছিল নেদারল্যান্ডস। মনে হচ্ছিল জয় তাদের হাতের মুঠোয়। তবে যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে ইসা দিওপের হেডে গোল করে মরক্কো সমতায় ফেরে। এরপর অতিরিক্ত সময়ে কোনো দলই গোল করতে পারেনি, ফলে ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়ায়।
টাইব্রেকারের নাটকীয়তা
টাইব্রেকারে দুই দলই বেশ কিছু সুযোগ নষ্ট করে। নেদারল্যান্ডস তিনটি শট মিস করে। তাদের দ্বিতীয় শট জাস্টিন ক্লুইভার্ট পোস্টে মারেন এবং চতুর্থ শটও পোস্টে মারেন কুইন্টেন টিম্বার। ক্রিসেনসিও সামারভিলের পঞ্চম শটটি মরক্কোর গোলকিপার ইয়াসিন বুনু ঠেকিয়ে দেন।
অন্যদিকে, মরক্কোও দুটি শট মিস করে। তাদের প্রথম শটটি পোস্টে মারেন মিডফিল্ডার নিল এল আয়নাউয়ি এবং চতুর্থ শটও পোস্টে মারেন আশরাফ হাকিমি। শেষ পর্যন্ত ইসমায়েল সাইবারি পঞ্চম শটটি জালে পাঠিয়ে মরক্কোর জয় নিশ্চিত করেন।

এই ম্যাচটি বোস্টনে অনুষ্ঠিত জার্মানি–প্যারাগুয়ে ম্যাচের মতোই নাটকীয় ছিল, যেখানে নির্ধারিত সময়ে ১-১ ড্রয়ের পর অতিরিক্ত সময়েও কোনো গোল হয়নি এবং ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়িয়েছিল। জার্মানিও টাইব্রেকারে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়।
ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত
ম্যাচের প্রথমার্ধ এবং পরের অর্ধ মিলিয়ে মরক্কো তুলনামূলকভাবে বেশি ভালো খেলেছে। তারা ৭০ শতাংশ বল দখলে রেখে ১১টি শটের মধ্যে ৫টি পোস্টে রাখতে সক্ষম হয়, যেখানে ডাচরা ৬টি শটের মধ্যে ২টি পোস্টে রাখতে পেরেছিল। আফ্রিকার দলটি বেশ কিছু গোলের সুযোগ তৈরি করলেও ফিনিশিংয়ের অভাবে গোল করতে পারেনি।
নির্ধারিত সময় গোলশূন্য ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল যখন কোডি গাকপোর গোলে নেদারল্যান্ডস এগিয়ে যায়। ডাচ উইঙ্গার ক্রিসেনসিও সামারভিল মরক্কোর বক্সে ঢুকে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের বাধায় পড়ার আগে কোনোমতে পাস বাড়ান গাকপোর কাছে, যিনি বক্সের ভেতর থেকে জোরালো শটে গোল করেন।
গাকপো গোল করার পর আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এবং হাঁটু মুড়ে বসে পড়েন। তার ডাচ সতীর্থরাও ছুটে এসে তাকে ঘিরে ধরে গোলটি উদযাপন করেন। তবে যোগ করা সময়ে মরক্কোর মিডফিল্ডার শেমসদিন তালবির বাঁ প্রান্ত থেকে দেওয়া ক্রস থেকে ইসা দিওপ হেডে গোল করে সমতা ফেরান। ডাচ ডিফেন্ডার ভার্জিল ফন ডাইকের ক্লিয়ার করার কথা থাকলেও, দিওপ তার চেয়ে বেশি উচ্চতায় লাফিয়ে গোলটি করেন।
নেদারল্যান্ডসের টাইব্রেকার ভাগ্য
বিশ্বকাপে এই নিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো পেনাল্টি শুটআউটে হেরে বিদায় নিল নেদারল্যান্ডস। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে তারা আর্জেন্টিনার বিপক্ষে টাইব্রেকারে হেরেছিল। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে দলটি খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। চার বছর আগে কাতারে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালেও আর্জেন্টিনার বিপক্ষেই টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিয়েছিল ডাচরা।
এই পরাজয় নেদারল্যান্ডসের জন্য একটি বড় ধাক্কা, কারণ তারা টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে বিবেচিত ছিল। মরক্কোর এই জয় বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে একটি বড় চমক তৈরি করেছে।
হিউস্টনে আগামী শনিবার শেষ ষোলোর লড়াইয়ে কানাডার মুখোমুখি হবে মরক্কো।
Source: prothomalo.com
