দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জায়ে মিয়ুং বিশ্বকাপ থেকে দলের বিদায় এবং কোচ হং মিয়ুং-বোর পদত্যাগের ঘটনায় তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি এই ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধান, বিশ্লেষণ এবং ভবিষ্যতে এর পুনরাবৃত্তি রোধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে এই বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করতে বলেছেন।
উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়ার পারফরম্যান্সে প্রেসিডেন্ট মিয়ুং ‘হতবাক’ হয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি হং মিয়ুং-বোকে কোচের দায়িত্ব দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেছেন, যেহেতু বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে করদাতাদের অর্থ এবং রাষ্ট্রের তহবিল থেকে বিনিয়োগ করা হয়, তাই এই ব্যর্থতার জন্য জবাবদিহিতা প্রয়োজন।
কোচের পদত্যাগ ও প্রেসিডেন্টের সমালোচনা
বিশ্বকাপে দলের ভরাডুবির পর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জি মিয়ুং সরাসরি দল এবং কোচের কঠোর সমালোচনা করেছিলেন। এই সমালোচনার পরপরই হং মিয়ুং-বো বাজে পারফরম্যান্সের দায় মাথায় নিয়ে কোচের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তিনি মেক্সিকোতে সাংবাদিকদের সামনে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।
হং মিয়ুং-বো বলেছেন যে, দক্ষিণ কোরিয়া জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়া তার জন্য সহজ সিদ্ধান্ত ছিল না। তবে একবার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তিনি আর দ্বিতীয় কোনো বিকল্পের কথা ভাবেননি। তিনি কোরিয়ান ফুটবলকে ভালোবাসেন এবং সবসময় সমর্থন করে গেছেন এমন সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সমর্থকেরা যে ফলাফল আশা করেছিলেন, তা তিনি পূরণ করতে পারেননি এবং এই ব্যর্থতার পুরো দায় তার।
হং মিয়ুং-বো এর আগেও দক্ষিণ কোরিয়া জাতীয় দলের কোচের দায়িত্বে ছিলেন এবং ২০১৪ সালের বিশ্বকাপেও তার দল দ্রুত বিদায় নিয়েছিল। এবারও গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের একদিন পরেই তিনি দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, গত দুই বছরে যখনই তাকে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে, দল বাছাই করতে হয়েছে, কিংবা ম্যাচের আগে প্রস্তুতি নিতে হয়েছে, প্রতিবারই তিনি নিজেকে জিজ্ঞেস করেছেন, এটা কি কোরিয়ান ফুটবলের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত? তিনি নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি যে তার নেওয়া সব সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল, তবে তিনি বলেছেন যে, তার প্রতিটি সিদ্ধান্ত কোরিয়ান ফুটবলের কথা চিন্তা করেই নেওয়া হয়েছিল।

বিশ্বকাপে দলের পারফরম্যান্স
দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হয়েছিল চেকিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে। তবে পরের দুটি ম্যাচে মেক্সিকো এবং দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে যায় ২০০২ সালের বিশ্বকাপে চতুর্থ স্থান অর্জনকারী দলটি।
দক্ষিণ কোরিয়া ৩ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ পর্বে তৃতীয় স্থান অধিকার করে। গোল পার্থক্যে পিছিয়ে থাকার কারণে তারা নকআউট পর্বে ওঠা সেরা আট তৃতীয় দলের একটি হতে পারেনি এবং গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। দলের এই ব্যর্থতার দায় কাঁধে নিয়ে কোচ হং মিয়ুং-বো পদত্যাগ করেন।
প্রেসিডেন্ট লি জি মিয়ুং দলের পারফরম্যান্সের প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন এবং জাতির কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন। তিনি বলেছেন, যখন যোগ্যতার বদলে আনুগত্যকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয় এবং নেতৃত্বের জায়গায় অযোগ্য লোকদের নিয়োগ দেওয়া হয়, তখন এমন ফলাফল আসা অবধারিত। এই অগ্রহণযোগ্য ফলাফলের কারণে তিনি দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এবং দ্রুত ক্রীড়া প্রশাসনে সংস্কার আনার কথা বলেছেন, যেন এমন ফলাফলের পুনরাবৃত্তি না হয়।
কোরিয়ার দর্শক-সমর্থকদের কাছে হং মিয়ুং-বো খুব একটা জনপ্রিয় ছিলেন না। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ইয়ুর্গেন ক্লিন্সম্যানের বদলে মূল কোচের দায়িত্ব নেওয়ার পর ঘরের মাঠেই তাকে দর্শকদের দুয়োধ্বনি শুনতে হয়েছিল। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দলের সেরা তারকা সন হিউং-মিনকে শুরুর একাদশে না রাখায় এবং দ্বিতীয়ার্ধে তাকে নামিয়েও ম্যাচ হেরে যাওয়ায় তার অনেক সমালোচনা হয়েছিল।
প্রেসিডেন্ট লি জায়ে মিয়ুং বলেছেন, এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন আর কখনই ঘটতে না পারে, এজন্য তারা ক্রীড়া প্রশাসনে দ্রুত সংস্কার আনবেন।
Source: bangla.thedailystar.net
