আর্জেন্টিনার জয়ে শাহনাজ খুশির ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট এবং নাদিয়া আহমেদের ব্যাখ্যাআর্জেন্টিনার জয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট, যা লিখলেন শাহনাজ খুশি

আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের জয়ের পর অভিনেত্রী শাহনাজ খুশি একটি সংক্ষিপ্ত পোস্ট করেছেন, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, অভিনেত্রী নাদিয়া আহমেদ আর্জেন্টিনার ম্যাচ সরাসরি দেখা নিয়ে তৈরি হওয়া ভুল ধারণা দূর করেছেন।

শাহনাজ খুশির ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট

জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাহনাজ খুশি, যিনি ছোটপর্দার পরিচিত মুখ এবং একজন ফুটবলপ্রেমী, আবারও আর্জেন্টিনার প্রতি তার সমর্থন প্রকাশ করেছেন। তার প্রিয় দলের জয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা একটি সংক্ষিপ্ত পোস্ট ঘিরে নেটদুনিয়ায় আলোচনা চলছে।

রোববার (১২ জুলাই) বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা জয় লাভ করে সেমিফাইনালে ওঠার পর অভিনেত্রী উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। এর আগেও তিনি বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আর্জেন্টিনার প্রতি তার সমর্থনের কথা জানিয়েছেন।

দলের জয়ের পর শাহনাজ খুশি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লেখেন, ‘আর কথা না বলি!’ এর সঙ্গে দুটি ইমোজি ছিল। অভিনেত্রীর এই সংক্ষিপ্ত পোস্টকে তার অনেক অনুসারী আর্জেন্টিনার সমালোচকদের উদ্দেশে একটি ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য হিসেবে দেখছেন। পোস্টটি প্রকাশের পর মন্তব্যের ঘরে আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা তাদের জয় উদযাপন করেন। একজন অনুসারী মন্তব্য করেন, ‘এবার নিন্দুকদের মুখ বন্ধ।’

শাহনাজ খুশির এই সংক্ষিপ্ত পোস্টটি ফুটবলপ্রেমী ভক্তদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে।

নাদিয়া আহমেদের ম্যাচ দেখার অভিজ্ঞতা

আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের সমর্থক হিসেবে অভিনেত্রী নাদিয়া আহমেদ বেশ আগে থেকেই পরিচিত। সম্প্রতি আর্জেন্টিনার ম্যাচ ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নিয়মিত ছবি পোস্ট করাকে কেন্দ্র করে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই ধারণা করছিলেন যে, তিনি এবং তার স্বামী অভিনেতা এফ এস নাঈম আর্জেন্টিনার প্রতিটি ম্যাচই সরাসরি স্টেডিয়ামে বসে উপভোগ করছেন। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও এমন খবর প্রকাশিত হয়েছিল। তবে নাদিয়া আহমেদ এই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলে ভুল ধারণা দূর করেছেন।

অভিনেত্রী জানান, তিনি আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচটি গ্যালারিতে বসে দেখেছিলেন এবং সেই সময়ের কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছিলেন। এরপর বিভিন্ন সময়ে আর্জেন্টিনাকে ঘিরে আরও কিছু ছবি পোস্ট করলেও, অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন যে তিনি প্রতিটি ম্যাচই সরাসরি দেখছেন। নাদিয়ার ভাষ্যমতে, অনেক সংবাদমাধ্যম তার সঙ্গে যোগাযোগ না করেই এমন খবর প্রকাশ করেছে।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, আর্জেন্টিনার সব ম্যাচ তিনি স্টেডিয়ামে বসে দেখেননি। এমনকি সাম্প্রতিক আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড ম্যাচটিও তিনি সরাসরি দেখেননি। ওই দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ছবি পোস্ট করেছিলেন, সেগুলো ছিল আগের তোলা ছবি। নাদিয়া উল্লেখ করেন, অনেকেই আবারও ধরে নিয়েছিলেন যে তিনি মাঠে উপস্থিত ছিলেন, তবে বাস্তবে তিনি ম্যাচটি দেখেননি। যদিও তার বোন ও ভগ্নিপতি স্টেডিয়ামে গিয়ে খেলা উপভোগ করেছেন।

এর আগেও মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচ শেষে নাদিয়া ও নাঈম কিছু ছবি পোস্ট করেছিলেন। তখনও বিভিন্ন মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয় যে তারা সরাসরি ম্যাচটি দেখেছেন। পরে নাদিয়া জানান, ওই ম্যাচেও তারা গ্যালারিতে ছিলেন না। তার মতে, খেলা দেখার ইচ্ছা থাকলেও টিকিট পাওয়া খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে।

আগামী ম্যাচে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। এই ম্যাচটি সরাসরি দেখার পরিকল্পনা আছে কি না জানতে চাইলে নাদিয়া বলেন, তাদের কাছে কোনো টিকিট নেই। টিকিট সংগ্রহ করা কঠিন হওয়ায় হয়তো আর কোনো ম্যাচ সরাসরি স্টেডিয়ামে বসে দেখা হবে না।

বর্তমানে নাদিয়া আহমেদ ও এফ এস নাঈম যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। মাঠে উপস্থিত না থাকলেও আর্জেন্টিনার প্রতি তাদের সমর্থন ও ভালোবাসা যে আগের মতোই অটুট, তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের সক্রিয় উপস্থিতিতেই স্পষ্ট।

আর্জেন্টিনার সেমিফাইনালে ওঠার আনন্দে অভিনেত্রী নাদিয়া আহমেদ আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক পোস্টে তিনি দীর্ঘদিনের একজন আর্জেন্টিনা সমর্থকের অনুভূতি, অপেক্ষা এবং ভালোবাসার গল্প তুলে ধরেছেন।

স্বামী এফ এস নাঈমকে সঙ্গে নিয়ে কানসাস স্টেডিয়ামে বসেই ম্যাচটি উপভোগ করেন নাদিয়া। স্টেডিয়াম থেকে তোলা ছবি শেয়ার করে তিনি লেখেন, ‘ভামোস আর্জেন্টিনা। সেমিফাইনালের পথে। গর্জে ওঠো আর্জেন্টিনা।’ একই পোস্টে স্টেডিয়ামটির বিশেষ স্মৃতির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি জানান, এই মাঠেই ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়াকে হারিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল আর্জেন্টিনা।

ম্যাচের আগে দেওয়া আরেকটি দীর্ঘ পোস্টে নাদিয়া স্মরণ করেন আর্জেন্টিনা সমর্থকদের দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও হতাশার দিনগুলোর কথা। তিনি লেখেন, ‘২০২২ সালের আগে আর্জেন্টিনার শেষ বিশ্বকাপ জয় ছিল ১৯৮৬ সালে। তাই এই দলের সমর্থক হতে হলে মনোবল সত্যিই শক্ত হতে হয়।’

এরপর ২০০২, ২০০৬, ২০১০, ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের বিশ্বকাপের তিক্ত স্মৃতিগুলো একে একে তুলে ধরে তিনি লেখেন, ‘আমরা ২০০২-এর হতাশা দেখেছি, ২০০৬-এর আক্ষেপ দেখেছি, ২০১০-এর ব্যর্থতা দেখেছি, ২০১৪-এর ফাইনালে হৃদয়ভাঙা দেখেছি, ২০১৮-এর কষ্ট দেখেছি। তার পরও দল ছাড়িনি। অনেকেই ঠাট্টা করে আর্জেন্টিনাকে বলত, আরজেতেনা।’

তিনি আরও বলেন, ‘এসব দেখেছি, তবু কখনো দল ছাড়িনি। বছরের পর বছর ধৈর্য, বিশ্বাস আর ভালোবাসা নিয়ে একই দলের পাশে থেকেছি। অবশেষে ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।’

নাদিয়ার কথায়, আর্জেন্টিনার প্রতি তার ভালোবাসা কখনোই শুধু শিরোপানির্ভর ছিল না। তার কাছে এই দল ইতিহাস, ঐতিহ্য, জার্সি এবং আবেগের প্রতীক। তাই একটি দলের প্রতি সমর্থনকে কেবল ট্রফির সংখ্যায় মূল্যায়ন করা যায় না। তিনি বলেন, ‘আর্জেন্টিনা আমাদের কাছে শুধু একটি ফুটবল দল নয়; এটি একটি অনুভূতির নাম। তাই আমাদের ভেঙে দেওয়া এত সহজ নয়।’

পোস্টের শেষাংশে বর্তমান সময়ের আর্জেন্টিনা দলকে নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই অভিনেত্রী। তার মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কোপা আমেরিকা ও বিশ্বকাপ জয়ের সাফল্য সমর্থকদের আত্মবিশ্বাস আরও দৃঢ় করেছে। ফলে সমালোচনা কিংবা বিদ্রুপ এখন আর তাদের বিশ্বাসকে নড়বড়ে করতে পারে না।

inline gn 321ff98523cb img 9
Credit: silkcitynews.com

নাদিয়া আহমেদ ও এফ এস নাঈম বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।

Source: vibenewsbd.com

আর জ ন ট ন র জয শ হন জ খ শ র ইঙ গ তপ র ণ প স ট এব ন দ য আহম দ র ব য খ য image 2

সাকিব রহমান

ফুটবল ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা নিয়ে কাজ করা ক্রীড়া প্রতিবেদক।

By সাকিব রহমান

ফুটবল ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা নিয়ে কাজ করা ক্রীড়া প্রতিবেদক।