সাবেক ফরাসি ফুটবলার জেরেমি আলিয়াদিয়ের মনে করেন, ২০২৬ ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড় থেকে কিলিয়ান এমবাপে কার্যত ছিটকে গেছেন। তার মতে, বিশ্বকাপে ফ্রান্সের সেমিফাইনাল থেকে বিদায় এমবাপের ব্যালন ডি’অর জয়ের স্বপ্নে বড় ধাক্কা দিয়েছে। অন্যদিকে, লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনাকে আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলেছেন, যা তাকে নবম ব্যালন ডি’অরের অন্যতম প্রধান দাবিদারে পরিণত করেছে।

ফ্রান্সের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা এমবাপে এখনও পর্যন্ত ব্যালন ডি’অর জিততে পারেননি। ফলে এই ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ সম্মানের জন্য তাকে অন্তত আরও এক বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে। রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন। সেমিফাইনাল পর্যন্ত যাত্রায় তিনি আট গোল করে নিজেকে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে প্রমাণ করেন।

তবে স্পেনের কাছে সেমিফাইনালে হারের ফলে আরেকটি আন্তর্জাতিক শিরোপার সুযোগ হাতছাড়া হয় তার। ক্লাব পর্যায়েও ২০২৫-২৬ মৌসুমটি হতাশাজনক ছিল, কারণ রিয়াল মাদ্রিদ টানা দ্বিতীয় মৌসুমের মতো কোনো বড় শিরোপা জিততে পারেনি। ব্যালন ডি’অর জিততে হলে সাধারণত চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, বিশ্বকাপ বা ইউরোর মতো বড় শিরোপা জেতা প্রয়োজন। আর সেই কারণেই এমবাপের সম্ভাবনা অনেকটাই কমে গেছে বলে আলিয়াদিয়ের মনে করেন।

মেসির সম্ভাবনা ও ব্যালন ডি’অর কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা

অন্যদিকে, লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনাকে আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলেছেন। টুর্নামেন্টে তার গোলসংখ্যাও আট। বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখতে পারলে এবং ফাইনালেও দারুণ পারফরম্যান্স দেখাতে পারলে নবম ব্যালন ডি’অরও তার হাতে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বেটিনিয়া এনজের সহযোগিতায় গোল ডটকমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আলিয়াদিয়ের বলেন, যদি রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে এমবাপে দুর্দান্ত একটি বছর কাটাত এবং বড় কোনো শিরোপা জিতত, তাহলে হয়তো এখনও দৌড়ে থাকত। কিন্তু রিয়ালের হয়ে কিছুই না জেতায় সেটা কঠিন হয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগতভাবে এমবাপের মৌসুম অসাধারণ ছিল। সে অবিশ্বাস্য সংখ্যক গোল করেছে এবং মৌসুমের বেশিরভাগ সময় দলকে টেনে নিয়েছে। কিন্তু ব্যালন ডি’অর জিততে হলে শুধু ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স যথেষ্ট নয়। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, বিশ্বকাপ বা ইউরোর মতো বড় শিরোপা জিততে হয়। আলিয়াদিয়েরের ভাষায়, যেহেতু সে তা করতে পারেনি, তাই তিনি তাকে ব্যালন ডি’অর জিততে দেখছেন না।

আলিয়াদিয়ের মেসিকে নিয়েও নিজের মত স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, ব্যালন ডি’অর আর্জেন্টিনারই কোনো খেলোয়াড় জিতবে বলে তার মনে হয়। যদি মেসি আবারও বিশ্বকাপ জেতে, তাহলে তার বয়স এবং বিশ্বকাপে তার পারফরম্যান্স দেখে সবাই মুগ্ধ হবে। তখন হয়তো অনেকে ভুলেই যাবে যে সে ইন্টার মিয়ামির হয়ে মেজর লিগ সকারে খেলছে।

এর আগে সাবেক ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার ও বিশ্বকাপজয়ী ক্লেবারসনও গোল ডটকমকে বলেছিলেন, মেসি আবারও ব্যালন ডি’অর জিততে পারেন। তিনি বলেন, মেসিকে নিয়ে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি, কারণ সে এখনও অসাধারণ মানের ফুটবল খেলছে। ক্লেবারসন আরও বলেন, রোনালদোর পরিস্থিতি ভিন্ন। সেও ভালো খেলছে, কিন্তু তার চারপাশের খেলোয়াড় আর মেসির আর্জেন্টিনা দলের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের মান ও সমন্বয় আলাদা। তাই মেসির সুযোগও অনেক বেশি।

তার ভাষায়, যদি মেসি বিশ্বকাপ জিতে, তাহলে শতভাগ নিশ্চিতভাবে সে আবারও ব্যালন ডি’অরের অন্যতম দাবিদার হবে। তিনি অসাধারণ। এমনকি ব্রাজিলের খেলোয়াড় ও সমর্থকরাও চায়, এমন আনন্দদায়ক ফুটবলাররা ব্যালন ডি’অর ও বিশ্বকাপ জিতুক। মেসি তাদেরই একজন।

ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে এমবাপেকে পেছনে ফেলে আবারও আলোচনায় মেসি
ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে এমবাপেকে পেছনে ফেলে আবারও আলোচনায় মেসি Credit: jagonews24.com

ইউরোপের বাইরে খেলার প্রভাব

২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির জন্য একটি বড় সুখবর এসেছে। ব্যালন ডি’অর কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, বিশ্বের সেরা ফুটবলারের এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার জিততে ইউরোপের কোনো ক্লাবে খেলার প্রয়োজন নেই। ফলে ইন্টার মায়ামিতে খেললেও নবম ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে মেসির সম্ভাবনা অক্ষুণ্ন রয়েছে।

বিশ্বকাপ শেষ হতে বাকি দুটি ম্যাচ। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের পর ফাইনালে শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে আর্জেন্টিনা স্পেনের মুখোমুখি হবে। এমন সময় ব্যালন ডি’অর আয়োজক কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে পুরস্কারটি নিয়ে প্রচলিত একটি ধারণা পরিষ্কার করেছে। শুরুতে ব্যালন ডি’অর শুধু ইউরোপীয় লিগে খেলা ইউরোপীয় ফুটবলারদের দেওয়া হতো। ১৯৯৫ সালে পুরস্কারটি আন্তর্জাতিক করা হলেও তখনও ইউরোপের কোনো ক্লাবে খেলার শর্ত ছিল। তবে ২০০৭ সাল থেকে সেই নিয়ম তুলে দেওয়া হয়। এরপর থেকে বিশ্বের সেরা ফুটবলারকেই এই পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।

ব্যালন ডি’অর কর্তৃপক্ষ তাদের বিবৃতিতে জানায়, ইউরোপের বাইরে খেলে কোনো ফুটবলারের ব্যালন ডি’অর জেতা বাস্তবসম্মত কি না, তা বোঝার জন্য তারা গত ১৮টি আসর বিশ্লেষণ করেছে। ২০০৭ সালে কাকা, ২০০৮ সালে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং ২০০৯ সালে লিওনেল মেসি—তিনজনই সে বছর উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছিলেন, যেটিকে ক্লাব ফুটবলের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতা হিসেবে ধরা হয়। লুকা মদরিচ, করিম বেনজেমা, রদ্রি এবং উসমান দেম্বেলেও যখন ব্যালন ডি’অর জিতেছেন, তখন সবাই ইউরোপের ক্লাবেই খেলছিলেন।

তারা আরও জানায়, মাত্র একজন ফুটবলার ইউরোপের বাইরে খেলার সময় ব্যালন ডি’অর জিতেছেন—লিওনেল মেসি। ২০২৩ সালের ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ৬৭তম ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানের সময় আর্জেন্টাইন তারকা ইতোমধ্যেই ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলছিলেন। এর মাধ্যমে আটবারের বিজয়ী মেসিই প্রথম পুরুষ ফুটবলার হিসেবে ইউরোপের বাইরের কোনো ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করে এই পুরস্কার জেতেন। সবশেষে আয়োজকরা জানায়, ব্যালন ডি’অরের ক্ষেত্রে কিছুই অসম্ভব নয়। তারা আরও যোগ করে, প্রযুক্তিগতভাবে, যেকোনো ফুটবলারই এই পুরস্কার জিততে পারেন। এই ব্যাখ্যার পর নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন মেসি। ৩৯ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন তারকা এবারের বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন। সাত ম্যাচে করেছেন আট গোল, পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও চারটি গোল।

Source: jagonews24.com

ব য লন ড অর র দ ড এমব প ক প ছন ফ ল আব রও আল চন য ম স image 2

সাকিব রহমান

ফুটবল ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা নিয়ে কাজ করা ক্রীড়া প্রতিবেদক।

By সাকিব রহমান

ফুটবল ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা নিয়ে কাজ করা ক্রীড়া প্রতিবেদক।