কেইনের জোড়া গোলে ইংল্যান্ডের জয়
হ্যারি কেইন তার অসাধারণ ক্লাব মৌসুমের ধারাবাহিকতা বিশ্বকাপেও ধরে রেখেছেন। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে তার জোড়া গোলে ইংল্যান্ড শেষ ষোলোতে পৌঁছেছে। এই ম্যাচে ইংল্যান্ড প্রথমে পিছিয়ে পড়েও জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।
ম্যাচে অ্যান্থনি গর্ডন ও বুকায়ো সাকা মাঠে নামার পর খেলার মোড় ঘুরে যায়। বিশেষ করে গর্ডন বাম পাশ থেকে গোলের সুযোগ তৈরি করেন এবং কেইনের দুটি গোলেই তার সহায়তা ছিল। গর্ডন কেইনের পারফরম্যান্সে মুগ্ধতা প্রকাশ করে লিওনেল মেসির সঙ্গে তার তুলনা করেছেন, যাকে তিনি সর্বকালের সেরা ফুটবলার মনে করেন।

গর্ডন উল্লেখ করেছেন যে, কেইনের মতো একজন শীর্ষ পর্যায়ের খেলোয়াড়ের আশেপাশে থাকাটা এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। তিনি মনে করেন, কেইনের এই মৌসুমের পারফরম্যান্স কেবল মেসিই ছাড়িয়ে যেতে পেরেছেন, যা কেইনের খেলার উচ্চ মান প্রমাণ করে। উইঙ্গার কেইনের কাছ থেকে শেখার চেষ্টা করছেন এবং তার কঠোর পরিশ্রম ও ধারাবাহিকতাকে অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন।
ইংল্যান্ড যখন পিছিয়ে ছিল এবং ফেরার পথ খুঁজছিল, তখন কোচ টুখেল ৬০তম মিনিটে সাকা ও গর্ডনকে মাঠে নামান। দল ৭৫ মিনিটের আগ পর্যন্ত পিছিয়ে থাকলেও গর্ডন জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, তাদের দল শেষ পর্যন্ত জিতবে কারণ তিনি সতীর্থদের ওপর ভরসা রাখতেন এবং জানতেন যে তারা অনুশীলনে কঠোর পরিশ্রম করে।
কঙ্গোর গোলকিপার লিওনেল এমপাসি ইংল্যান্ডের সামনে একটি শক্তিশালী বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তবে ৭৫তম মিনিটে কেইনের হেডে সেই বাধা ভেঙে যায়। ৮৬তম মিনিটে তার জয়সূচক গোলটি বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা গোল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গর্ডন কেইনের শট নেওয়া মাত্রই বুঝে গিয়েছিলেন যে বল জালে ঢুকবে। তিনি কেইনের ধারাবাহিকতার প্রশংসা করেন, যা তাকে অনুশীলনে এবং প্রতিটি ম্যাচে অসাধারণ করে তোলে।
মেক্সিকো ম্যাচের প্রস্তুতি ও চ্যালেঞ্জ
২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটি ৬০ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো এই দুই দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এবারের লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট ভিন্ন, কারণ মেক্সিকো তাদের ঘরের মাঠে ইংলিশদের আতিথ্য দেবে।
মেক্সিকোর মূল শক্তি হলো তাদের ঐতিহাসিক ‘এস্তাদিও আসতেকা’ স্টেডিয়াম, যা মেক্সিকানদের জন্য একটি দুর্ভেদ্য দুর্গ হিসেবে পরিচিত। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মেক্সিকান সমর্থকদের গগনবিদারী সমর্থনই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে প্রধান ভূমিকা রাখতে পারে।

ম্যানচেস্টার সিটি ও ইংল্যান্ড দলের সাবেক গোলরক্ষক জো হার্ট মেক্সিকোর কোলোসো দে সান্তা উরসুলা স্টেডিয়ামের অবিশ্বাস্য আবহের কথা স্মরণ করেন। তবে ইংলিশ কিংবদন্তি ওয়েইন রুনি মেক্সিকোর বিপক্ষে ইংল্যান্ডকে ফেবারিট দাবি করেছেন। রুনি বলেছেন, বর্তমান ইংল্যান্ড দল মেক্সিকোর চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও সেরা।
তবে রুনি সতর্ক করেছেন যে, মেক্সিকোর পেছনে তাদের ঘরের মাঠের দর্শক ও আবেগ একটি বড় শক্তি হিসেবে কাজ করবে। মেক্সিকানরা ফুটবল বা বক্সিংয়ে কতটা আবেগপ্রবণ, তা উল্লেখ করে রুনি বলেন, পুরো দেশ এক হয়ে তাদের দলের জন্য গলা ফাটায়, যা ইংল্যান্ডের জন্য সবচেয়ে বড় মনস্তাত্ত্বিক চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে।
এস্তাদিও আসতেকা স্টেডিয়ামে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নামবে এই দুই দল। এই ঐতিহাসিক মাঠে ইংলিশরা সর্বশেষ ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে খেলেছিল, যেখানে ডিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং শতাব্দীর সেরা গোলের কাছে হেরে তাদের বিদায় নিতে হয়েছিল। দীর্ঘ সময় পর একই মাঠে ফিরে এসে ইংলিশদের লক্ষ্য থাকবে মেক্সিকানদের আবেগের জোয়ার রুখে দিয়ে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঠেকানো।
বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী ঘরের মাঠের দর্শক বনাম মাঠের শক্তিমত্তার এই ধ্রুপদী লড়াই দেখার জন্য অপেক্ষা করছেন।
Source: bd-pratidin.com
