গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসের আয়োজন ভবিষ্যতের জন্য পথ দেখিয়েছেআলো নিভল, পথ দেখিয়ে গেল গ্লাসগো - Jugantor

কমনওয়েলথ গেমস উপলক্ষে প্রকাশিত একটি স্বাধীন মূল্যায়ন প্রতিবেদন অনুসারে, গ্লাসগো ভবিষ্যতের কমনওয়েলথ গেমস আয়োজনের জন্য একটি ‘প্রুফ অব কনসেপ্ট’ তৈরি করেছে। এই মডেলটি আগামী দিনের আয়োজকদের পথ দেখাবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মাত্র ১১ দিনে ৭৪টি দেশ ও অঞ্চলের অ্যাথলেটরা ১০টি খেলা ও ৬টি প্যারা খেলায় অংশ নিয়েছেন। মোট ২১৫টি পদক ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং ১ হাজার ১৬৮টি পদক বিতরণ করা হয়েছে।

এই উৎসবে ৬ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ মাঠে, লাইভ সাইটে এবং ফেস্টিভ্যালে সরাসরি যুক্ত হয়েছেন। চার হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবক ১ লাখ ৫৬ হাজার ১১০ ঘণ্টা সেবা দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গেমসের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রায় অর্ধশত কোটি বার দেখা হয়েছে। কমনওয়েলথ স্পোর্ট, গ্লাসগো আয়োজক কমিটি, দ্য বাল্ব এবং ইউনিভার্সিটি অব দ্য ওয়েস্ট অব স্কটল্যান্ডের সেন্টার ফর কালচার, স্পোর্ট অ্যান্ড ইভেন্টস এই প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।

সাশ্রয়ী ও টেকসই আয়োজন

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্র ১৮ মাসের প্রস্তুতিতে এই ধরনের আন্তর্জাতিক আসর আয়োজন করা বড় ক্রীড়া ইভেন্টের ইতিহাসে বিরল। গ্লাসগো নতুন স্টেডিয়াম নির্মাণ না করেও বিশ্বমানের আয়োজন করেছে। শহরের সমস্ত ভেন্যু মাত্র আট মাইলের মধ্যে অবস্থিত ছিল, যার ফলে ব্যয়, যাতায়াত এবং পরিবেশের ওপর চাপ কমেছে।

এই গেমসে কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সমন্বিত প্যারা ক্রীড়া আয়োজন হয়েছে, যেখানে ছয়টি খেলায় ৪৭টি প্যারা ইভেন্ট ছিল। প্রথমবারের মতো গেমসের উদ্বোধনী পদক ইভেন্টও ছিল প্যারা খেলার। গ্লাসগো পরিবেশ নিয়েও আপস করেনি; সব প্রতিযোগিতা ভেন্যু শতভাগ নবায়নযোগ্য বিদ্যুতে পরিচালিত হয়েছে। অস্থায়ী অবকাঠামোর ৯০ শতাংশের বেশি ব্যবহারের পর পুনর্ব্যবহারের জন্য ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ৯৯ হাজার ৪০১টি পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে ভেন্যুর ব্যানার তৈরি করা হয়েছিল। গেমসে পরিবেশিত খাবারের ৫৯ শতাংশ ছিল নিরামিষ বা উদ্ভিদভিত্তিক।

পরিবহনের ক্ষেত্রেও একই ভাবনা দেখা গেছে। ব্যবহৃত যানবাহনের ৭১ শতাংশ ছিল হাইব্রিড বা বৈদ্যুতিক, যার মধ্যে ৬৩ শতাংশ ছিল পুরোপুরি বৈদ্যুতিক। রাজা তৃতীয় চার্লসের ব্যাটন রিলকে ঘিরে আরেকটি অনন্য অধ্যায় লেখা হয়েছে। সমুদ্রে প্লাস্টিক বর্জ্য কমানোর লক্ষ্যে শুরু হওয়া অভিযানে ১৪ হাজার ৩০৪ জন স্বেচ্ছাসেবক অংশ নিয়ে ১ কোটি ১৯ লাখ ৫৫৪টি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করেছেন। ৭৫০টির বেশি সংগঠন ‘অল ইন’ কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছিল। গ্লাসগোর ২৩টি ওয়ার্ডে কমিউনিটি আয়োজনের জন্য ১৬১টি অনুদান দেওয়া হয়েছিল। জাতীয় লটারি তহবিলের সহায়তা পেয়েছে ১১০টি ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও সামাজিক প্রকল্প।

ভারতের পদক জয়

গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে ভারত মোট ৩৯টি পদক জিতে চতুর্থ স্থানে শেষ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৩টি সোনা, ১৭টি রুপো এবং ৯টি ব্রোঞ্জ। ভারত অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও কানাডার পরে চতুর্থ স্থান দখল করেছে। ভারতীয় ক্রীড়াবিদরা অ্যাথলেটিক্স, বক্সিং, ভারোত্তোলন, জুডো, প্যারা অ্যাথলেটিক্স ও প্যারা পাওয়ারলিফ্টিং-সহ বিভিন্ন ইভেন্টে পদক জিতেছেন।

সবচেয়ে বেশি সাফল্য এসেছে বক্সিংয়ে, যেখানে ভারত ৭টি সোনা জিতেছে। সোনাজয়ীদের তালিকায় রয়েছেন প্রীতি পাওয়ার, জ্যাসমিন ল্যাম্বোরিয়া, সাক্ষী চৌধুরী এবং অঙ্কুশ পাঙ্ঘালঅঙ্কুশ পাঙ্ঘাল পুরুষদের ৮০ কেজি বিভাগে ইংল্যান্ডের দিমেজি শিতুকে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়ে স্বর্ণপদক জিতেছেন। এটি ভারতীয় বক্সিং দলের নবম পদক এবং সপ্তম স্বর্ণপদক ছিল। যদুমণি সিংলাভলিনা বরগোহাইন রুপো জিতেছেন।

ভারোত্তোলনেও ভারত একাধিক পদক পেয়েছে, যেখানে অলিম্পিক পদকজয়ী মীরাবাঈ চানু সোনা জিতেছেন। জুডোতেও ভারত ৩টি পদক পেয়েছে, যার মধ্যে অস্মিতা দেহর্ষ সিং রওনা পদক জিতেছেন। এছাড়া উন্নতি শর্মাযামিনী মৌর্যও পদক পেয়েছেন। অ্যাথলেটিক্সে অলিম্পিক পদকজয়ী নীরজ চোপড়া রুপো জিতেছেন এবং যশবীর সিং ব্রোঞ্জ জিতেছেন।

গ্লাসগোর সম্ভাব্য মোট ব্যয় ছিল ১৬ কোটি ২৬ লাখ পাউন্ড, যা ২০১৪ সালের গ্লাসগো গেমসের ব্যয় ৫৪ কোটি ৩০ লাখ পাউন্ড এবং বার্মিংহাম ২০২২-এর ব্যয় ৬৮ কোটি পাউন্ডের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। কমনওয়েলথ স্পোর্টের প্রধান নির্বাহী কেটি স্যাডলির বলেছেন, এই গেমস ভবিষ্যতের কমনওয়েলথ গেমসের সেতুবন্ধন। গ্লাসগোর প্রধান নির্বাহী ফিল ব্যাটি মনে করেন, সবচেয়ে বড় উত্তরাধিকার কোনো স্টেডিয়াম নয়, বরং এই বিশ্বাস যে আরও অনেক শহর এখন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনের সাহস পাবে। ২০৩০ সালের শতবর্ষের কমনওয়েলথ গেমস ভারতের আহমেদাবাদে বসবে।

Source: jugantor.com

গ ল সগ কমনওয লথ গ মস র আয জন ভব ষ যত র জন য পথ দ খ য ছ image 1

সাকিব রহমান

ফুটবল ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা নিয়ে কাজ করা ক্রীড়া প্রতিবেদক।

By সাকিব রহমান

ফুটবল ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা নিয়ে কাজ করা ক্রীড়া প্রতিবেদক।