আর্জেন্টিনার সেমিফাইনাল জয়
আটলান্টায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে পরাজিত করে আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠেছে। বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা এই জয়ের মাধ্যমে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলার সুযোগ পেল। নিউ জার্সিতে আগামী রোববার রাতে ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হবে স্পেন।
ম্যাচের প্রথমার্ধে ফুটবল খেলার চেয়ে ফাউল এবং শারীরিক সংঘর্ষ বেশি দেখা গেছে। এই অর্ধে কোনো দলই পোস্টে শট রাখতে পারেনি। প্রথমার্ধে মোট ১৯টি ফাউল হয়, যার মধ্যে আর্জেন্টিনা করে ১২টি এবং ইংল্যান্ড করে ৭টি। প্রথমার্ধে উভয় দলই হলুদ কার্ড দেখে। ইংল্যান্ডের এলিয়ট অ্যান্ডারসন ৩৫ মিনিটে মেসিকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন। এরপর আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেজ জেড স্পেন্সের জার্সি টেনে ধরে হলুদ কার্ড পান।
দ্বিতীয়ার্ধে খেলার গতি পরিবর্তন হয় এবং তিনটি গোলই এই অর্ধে হয়। ৫৫ মিনিটে মরগান রজার্সের ক্রস থেকে গোল করে অ্যান্থনি গর্ডন ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন। এরপর আর্জেন্টিনা ঘুরে দাঁড়ায় এবং ম্যাচের শেষ দিকে ৮৫ থেকে পরবর্তী ৮ মিনিটের মধ্যে দুটি গোল করে জয় নিশ্চিত করে।

ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত
৮৫ মিনিটে লিওনেল মেসির পাস থেকে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক শটে গোল করে এনজো ফার্নান্দেজ আর্জেন্টিনাকে সমতায় ফেরান। এনজো ফার্নান্দেজ এর আগেও একাধিকবার গোল করার চেষ্টা করেছিলেন, যার মধ্যে দুটি শট লক্ষ্যের বাইরে যায় এবং একটি শট ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড দারুণভাবে সেভ করেন। তবে চতুর্থবারের চেষ্টায় তিনি সফল হন।
যোগ করা সময়ের (৯০+২) মিনিটে মেসির ক্রস থেকে হেডে গোল করে লাউতারো মার্তিনেজ আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন। এই গোলের মাধ্যমে আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে জয় লাভ করে। ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড আর্জেন্টিনার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার এর দুটি শট পোস্টে লাগার পরও দুটি দারুণ সেভ করেন। দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনা পাঁচটি শট পোস্টে রাখতে সক্ষম হয়, যেখানে ইংল্যান্ড দুটি শট পোস্টে রাখে।
আর্জেন্টিনার এই জয়ের ফলে ইংল্যান্ডের ১৯৬৬ বিশ্বকাপের পর প্রথমবারের মতো ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভঙ্গ হয়। আর্জেন্টিনা এর আগে বিশ্বকাপের শেষ ৩২ দলের রাউন্ড, শেষ ষোলো এবং কোয়ার্টার ফাইনালে ম্যাচের শেষ দিকে গোল করে ঘুরে দাঁড়ানোর অভ্যাস তৈরি করেছিল, যা এই সেমিফাইনালেও দেখা গেছে।
ফাইনালে আর্জেন্টিনা
এই জয়ের ফলে আর্জেন্টিনা ইতিহাসের তৃতীয় দল হিসেবে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগ পেয়েছে। আর্জেন্টিনা তাদের একাদশে একটি পরিবর্তন এনেছিল, যেখানে রদ্রিগো দে পলের জায়গায় জুলিয়ানো সিমিওনে ডান দিকের মিডফিল্ডার হিসেবে খেলেন। ইংল্যান্ড তাদের একাদশে তিনটি পরিবর্তন এনেছিল, যার মধ্যে ফুলব্যাক পজিশনে দুটি পরিবর্তন ছিল। রিস জেমস এবং জেড স্পেন্স এজরি কনসা এবং নিকো ও’রাইলির জায়গায় দলে আসেন। অন্যদিকে, উইঙ্গার ননি মাদুয়েকের জায়গায় মরগান রজার্স দলে আসেন।
ইংল্যান্ডের একাদশে ছিলেন: পিকফোর্ড; জেমস, স্টোনস, গেহি, স্পেন্স; অ্যান্ডারসন, রাইস; রজার্স, বেলিংহাম, গর্ডন; কেইন। আর্জেন্টিনার একাদশে ছিলেন: এমিলিয়ানো মার্তিনেজ; নাহুয়েল মলিনা, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, নিকোলাস তালিয়াফিকো; জুলিয়ানো সিমিওনে, এনজো ফের্নান্দেজ, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, আলেক্সিস ম্যাক আলিস্টার; লিওনেল মেসি, হুলিয়ান আলভারেজ।
আর্জেন্টিনা এখন আগামী রোববার নিউ জার্সিতে স্পেনের মুখোমুখি হবে বিশ্বকাপের ফাইনালে।
Source: prothomalo.com
