ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনের প্রার্থিতা থেকে ওয়েলস তাদের সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছে। মহাদেশীয় সংস্থাগুলো পূর্বে ইনফান্তিনোর ওপর আস্থা হারানোর কথা বললেও, ওয়েলসই প্রথম জাতীয় ফুটবল সংস্থা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত ইনফান্তিনোর জন্য একটি নতুন চাপ তৈরি করেছে, কারণ এতদিন পর্যন্ত বিরোধিতা মূলত বিভিন্ন আঞ্চলিক ফুটবল সংস্থা ও কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এলেও, এবার সরাসরি একটি সদস্যদেশ তার পুনর্নির্বাচনের প্রার্থিতাকে সমর্থন না করার ঘোষণা দিয়েছে।
সম্প্রতি বিশ্বকাপ সহ ফিফার প্রধান প্রতিযোগিতাগুলোর বাণিজ্যিক স্বত্বের অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির একটি উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, একটি নতুন প্রতিষ্ঠান ফিফার প্রধান প্রতিযোগিতাগুলোর দেখভাল করবে এবং এর ২০ শতাংশ শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে ৪২০ কোটি ডলার তোলার লক্ষ্য ছিল। তবে অংশীজনদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে ফিফা এই পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়। এই ব্যর্থতার পরই ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে ফুটবল বিশ্বে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ওয়েলসের অনাস্থা ও কারণ
ওয়েলস ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএডব্লিউ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, ২০২৭-২০৩১ মেয়াদের জন্য ফিফা সভাপতি পদে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনের প্রার্থিতা থেকে তারা সমর্থন প্রত্যাহার করছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে সুশাসন, প্রক্রিয়া, নেতৃত্ব, মূল্যবোধ, অংশীজনদের ব্যবস্থাপনা, যোগাযোগ এবং বিচক্ষণতার ঘাটতির কারণে বিশ্ব ফুটবলের হাল ধরে রাখার আস্থা হারিয়েছেন ইনফান্তিনো।
ওয়েলস আরও উল্লেখ করেছে যে, ফুটবলের স্বার্থকে সবার আগে রাখতে ব্যর্থ হওয়াটা ‘মেনে নেওয়া যায় না’। তাদের মতে, ইনফান্তিনোর এই ব্যর্থতা বিশ্ব ফুটবলের নেতৃত্বে থাকার জন্য তার ওপর এফএডব্লিউর আস্থা নষ্ট করেছে। এই প্রস্তাবিত পরিকল্পনাটি সামনে আসার পর থেকেই ইউরোপ সহ বিভিন্ন মহলে তীব্র আপত্তি তৈরি হয়। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা এমনকি পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বিশ্বকাপ সহ ফিফার সব প্রতিযোগিতা বয়কটের হুমকিও দিয়েছিল। উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনকাকাফও ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে সমালোচনা করে।
ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি
এই বিতর্কের মধ্যেই উয়েফা ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে চিঠি দিয়ে সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে এবং অনুরোধ করেছে যে, এ-সংক্রান্ত কোনো নথি বা ডিজিটাল তথ্য যেন ধ্বংস, মুছে ফেলা বা পরিবর্তন করা না হয়। শনিবার উয়েফা এবং কনকাকাফ উভয় মহাদেশীয় সংস্থাই ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের ওপর তাদের আস্থা নেই বলে জানিয়ে দিয়েছে।
এপ্রিলে ইনফান্তিনো জানিয়েছিলেন যে, তিনি চতুর্থ মেয়াদের জন্য ফিফার প্রধান পদে পুনর্নির্বাচনে লড়তে চান। ২০১৬ সালে সেপ ব্লাটার এর স্থলাভিষিক্ত হওয়ার পর তিনি দুবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ব্যর্থ এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে যে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে, তা ফিফা সদস্যদের মধ্যকার অসন্তোষ প্রকাশ করে দিয়েছে। মরক্কোতে সামনের মার্চে অনুষ্ঠিতব্য কংগ্রেসের আগে ইনফান্তিনোর পথ আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
Source: prothomalo.com
