মেক্সিকোর মন্তেরেই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের এক ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে টাইব্রেকারে হারিয়ে মরক্কো শেষ ষোলোতে উঠেছে। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় শেষে ১-১ গোলে সমতা থাকার পর টাইব্রেকারে মরক্কো জয় লাভ করে। এই হারের ফলে নেদারল্যান্ডস চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপে টাইব্রেকারে হেরে স্পেনের রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছে।
ম্যাচ শেষে নেদারল্যান্ডস কোচ রোনাল্ড কোমান তার রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়ে সমালোচিত হলেও নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। তিনি জানান, মরক্কোর মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এই পরিকল্পনা কার্যকর ছিল এবং একই পরিস্থিতি এলে তিনি আবারও একই সিদ্ধান্ত নেবেন।
ম্যাচের বিবরণ ও টাইব্রেকারের নাটকীয়তা
ম্যাচের ৭২তম মিনিটে কোডি গাকপোর গোলে নেদারল্যান্ডস এগিয়ে যায়। গাকপোর এই গোলটি ছিল তার অনাগত সন্তান হারানোর শোকের মাঝে এক আবেগঘন মুহূর্ত। তবে যোগ করা সময়ে ইসা জিওপ হেডে গোল করে মরক্কোকে সমতায় ফেরান, যা ম্যাচকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যায়।
অতিরিক্ত সময়েও কোনো দল গোল করতে না পারায় ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়ায়। টাইব্রেকারে দুই দলই ভুল করে। নেদারল্যান্ডসের জাস্টিন ক্লাইভার্ট ও জুরিয়েন টিম্বার শট মিস করেন। মরক্কোর নেইল এল আয়নাউই এবং আশরাফ হাকিমিও গোল করতে ব্যর্থ হন। শেষ পর্যন্ত ইসমায়েল সাইবারির গোলে মরক্কো জয় নিশ্চিত করে।
নেদারল্যান্ডস গোলকিপার বার্ট ভেরব্রাখেন ম্যাচে পাঁচটি সেভ করে দলকে রক্ষা করার চেষ্টা করলেও সতীর্থদের ব্যর্থতায় তা যথেষ্ট হয়নি। মরক্কোর গোলকিপার ইয়াসিন বোনুও টাইব্রেকারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
কোচের কৌশলগত সিদ্ধান্ত ও সমালোচনা
নেদারল্যান্ডস কোচ রোনাল্ড কোমান মরক্কোর বিপক্ষে ঐতিহ্যবাহী আক্রমণাত্মক ফুটবল থেকে সরে এসে পাঁচ ডিফেন্ডার নিয়ে রক্ষণভিত্তিক পরিকল্পনা সাজান। এই সিদ্ধান্তের জন্য তাকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। তবে কোমান সংবাদ সম্মেলনে তার অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, এই কৌশলের কারণে তার দল আগের ম্যাচগুলোর তুলনায় কম ভুল করেছে।
তিনি আরও বলেন, এই কৌশলে তারা আক্রমণে কিছুটা কম কার্যকর হলেও বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার ক্ষেত্রে সফল ছিলেন। কোমান বিশ্বাস করেন, যদি মরক্কো শেষ মুহূর্তে গোল না করত, তাহলে তার এই কৌশল প্রশংসিত হতো। তিনি খেলোয়াড়দের সঙ্গে আলোচনা করেই এই পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন এবং তারা এতে সম্মতি দিয়েছিলেন।
কোমান সমালোচকদের উদ্দেশে বলেন, তারা সাইডলাইন থেকে ম্যাচ দেখেন, আর তিনি মাঠের বাস্তবতা বুঝে সিদ্ধান্ত নেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটি ভয়ের বিষয় নয়, বরং রক্ষণকে আরও সংগঠিত করার এবং প্রতিপক্ষকে বিশ্লেষণ করে পরিকল্পনা সাজানোর একটি কৌশল।
মরক্কোর প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ
জয়ের পর মরক্কোর তারকা আশরাফ হাকিমি বলেন, তাদের এমন ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা আছে এবং তারা মনোযোগ ধরে রাখার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিকভাবে শক্তিশালী ছিলেন। মরক্কোর কোচ মোহাম্মদ উয়াহবি জানান, তাদের শান্ত থাকা এবং নিজেদের সামর্থ্য উপলব্ধি করা দরকার ছিল। তিনি মনে করেন, মরক্কো পরের রাউন্ডে যাওয়ার যোগ্য দাবিদার এবং তারা মাঠেই তা প্রমাণ করেছেন।
এই জয়ের পর মরক্কো এখন কোয়ার্টার-ফাইনালের স্বপ্ন দেখতে পারে। নেদারল্যান্ডসের ভার্জিল ফন ডাইক জানান, তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী সব চলছিল, কিন্তু অতিরিক্ত সময়ে চাপ বাড়ায় এবং দুর্ভাগ্যবশত তারা টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যান। নেদারল্যান্ডসের এই হার বিশ্বকাপে টাইব্রেকারে তাদের চতুর্থ হার, যা স্পেনের রেকর্ডের সমান।
কোডি গাকপোর গোলটি ম্যাচের ৭২তম মিনিটে হয়েছিল।
Source: prothomalo.com
