বিশ্বকাপ সেরা একাদশ ঘোষণা
২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার তিন দিন পর, টুর্নামেন্টের সেরা একাদশ ঘোষণা করেছে ফিফা। সমর্থকদের ভোটে নির্বাচিত এই দলে সাতটি ভিন্ন দেশের মোট ১১ জন ফুটবলার স্থান পেয়েছেন। এই একাদশটি ৪-৩-৩ ফরমেশনে সাজানো হয়েছে, যেখানে প্রতিটি পজিশনে সেরা পারফর্মারদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এই একাদশে সর্বোচ্চ সংখ্যক খেলোয়াড় এসেছে স্পেন ও ফ্রান্স থেকে, উভয় দেশ থেকে তিনজন করে ফুটবলার জায়গা পেয়েছেন। রানার্সআপ আর্জেন্টিনা থেকে দুজন খেলোয়াড় এই দলে স্থান পেয়েছেন। এছাড়া, ইংল্যান্ড, নরওয়ে এবং কেপ ভার্দে থেকে একজন করে ফুটবলার নির্বাচিত হয়েছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, ব্রাজিল বা স্পেন এর লামিনে ইয়ামাল এই একাদশে নেই।
গোলরক্ষক ও রক্ষণভাগ
গোলবারের নিচে জায়গা পেয়েছেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে আসা এই আফ্রিকান দলটির হয়ে তিনি দুর্দান্ত সব সেভ করে টুর্নামেন্টের অন্যতম চমক হয়ে ওঠেন। একাদশে জায়গা পাওয়া খেলোয়াড়দের মধ্যে ভোজিনিয়া সর্বোচ্চ ৩৯.৬% ভোট পেয়েছেন। ৪০ বছর বয়সী এই গোলকিপার স্পেন, উরুগুয়ে, সৌদি আরব ও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তার পারফরম্যান্স দিয়ে নজর কেড়েছেন, যা কেপ ভার্দের ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
রক্ষণভাগে রয়েছেন স্পেনের মার্ক কুকুরেয়া ও পেদ্রো পোরো, আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেজ এবং ফ্রান্সের দায়ো উপামেকানো। মার্ক কুকুরেয়া পুরো টুর্নামেন্টে এক মিনিটও মিস করেননি এবং দুটি অ্যাসিস্ট করেছেন। বিশ্বকাপ জয়ী স্পেন পুরো আসরে মাত্র এক গোল হজম করে সাতটি ক্লিন শিট রেখেছে, যা তাদের শক্তিশালী রক্ষণভাগের প্রমাণ।
মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগ
মাঝমাঠে স্থান পেয়েছেন স্পেনের রদ্রি, ফ্রান্সের মাইকেল ওলিসে এবং ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহ্যাম। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেনের মাঝমাঠের প্রাণভোমরা ছিলেন রদ্রি। তিনি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গোল্ডেন বলও জিতেছেন। সেমিফাইনালে খেলা ফ্রান্সের হয়ে মাইকেল ওলিসে ৭টি অ্যাসিস্ট করেছেন। অন্যদিকে, জুড বেলিংহ্যাম ইংল্যান্ডের হয়ে সাত গোল করে নতুন রেকর্ড গড়েছেন। মিডফিল্ডার হয়েও এক বিশ্বকাপে সাত গোল করে তিনি ধারাবাহিক নৈপুণ্যের প্রমাণ দিয়েছেন।
আক্রমণভাগে রয়েছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি, ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং নরওয়ের আর্লিং হলান্ড। কিলিয়ান এমবাপ্পে ১০ গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছেন এবং টুর্নামেন্টে চারটি অ্যাসিস্ট করেছেন। টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জেতার পথে তিনি এখন বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাও। এই ফরাসি তারকা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৯.৬% ভোট পেয়েছেন।
লিওনেল মেসি ৩৯ বছর বয়সেও আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলতে বড় ভূমিকা রাখেন। পুরো টুর্নামেন্টে তিনি ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট করেন। নরওয়ের বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ আটে থেমে গেলেও, আর্লিং হলান্ড এর মধ্যেই সাত গোল করেন, যা তাকে টুর্নামেন্টের অন্যতম আলোচিত ফুটবলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
ফিফার বিশ্বকাপ সেরা একাদশ (৪-৩-৩)
- গোলরক্ষক: ভোজিনিয়া (কেপ ভার্দে)
- রক্ষণভাগ: পেদ্রো পোরো (স্পেন), দায়ো উপামেকানো (ফ্রান্স), লিসান্দ্রো মার্তিনেজ (আর্জেন্টিনা), মার্ক কুকুরেয়া (স্পেন)
- মাঝমাঠ: রদ্রি (স্পেন), জুড বেলিংহ্যাম (ইংল্যান্ড), মাইকেল ওলিসে (ফ্রান্স)
- আক্রমণভাগ: লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা), আর্লিং হলান্ড (নরওয়ে), কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স)
এই একাদশটি ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে খেলোয়াড়দের অসাধারণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
Source: prothomalo.com
