কোয়ানসার নিষেধাজ্ঞা এবং দলের প্রতিক্রিয়া
ইংল্যান্ড দলের ডিফেন্ডার জ্যারেল কোয়ানসাকে দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে তিনি নরওয়ের বিপক্ষে আসন্ন বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনাল এবং দল সেমিফাইনালে উঠলে সেই ম্যাচেও খেলতে পারবেন না। মেক্সিকোর বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে ভিএআর পর্যালোচনার পর কোয়ানসাকে লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল। ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি জানিয়েছে যে, কোয়ানসা ফিফার কোড অব কন্ডাক্টের ১৪ নম্বর ধারা ভঙ্গ করেছেন, যার ফলস্বরূপ তার উপর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তকে ইংল্যান্ড দলের তারকা ফুটবলার বুকায়ো সাকা ‘খুবই হতাশাজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বৃহস্পতিবার কানসাস সিটির সোয়োপ সকার ভিলেজে ইংল্যান্ডের অনুশীলনের পর এই বিষয়ে কথা বলেন। সাকা উল্লেখ করেন যে, এটি একটি বাস্তবতা এবং দলকে এই পরিস্থিতি মেনে নিয়ে পরবর্তী ম্যাচের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। কোয়ানসার সতীর্থ নিকো ও’রিলিও এই সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছেন, উল্লেখ করে যে এটি কোয়ানসার জন্য একটি দুঃখজনক ঘটনা।
রক্ষণভাগের সমস্যা এবং আপিলের সম্ভাবনা
জ্যারেল কোয়ানসার নিষেধাজ্ঞা ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেলের জন্য রক্ষণভাগে নতুন সমস্যা তৈরি করেছে। দলের একমাত্র স্বাভাবিক রাইট-ব্যাক রিস জেমস হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে টানা তিন ম্যাচ খেলতে পারেননি এবং বুধবারও তিনি অনুশীলনে অংশ নেননি, যার ফলে নরওয়ের বিপক্ষে তার খেলার সম্ভাবনা অনিশ্চিত। জেমসের অনুপস্থিতিতে ডিজেড স্পেন্স এবং কোয়ানসাকে রাইট-ব্যাকে খেলানো হলেও কেউই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। মেক্সিকোর বিপক্ষে কোয়ানসা লাল কার্ড দেখার পর শেষ আধাঘণ্টা সেন্টার-ব্যাক এজরি কনসাকে রাইট-ব্যাকে খেলাতে হয়েছিল।
ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) কোয়ানসার নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আপিলের পথ খুঁজছে। তারা ফিফার সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, কারণ এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা বিতর্কিতভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ফোন করে শাস্তি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানানোর পর বালোগানকে বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠে নামার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। টুখেল এই ঘটনা উল্লেখ করে ফিফার সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, জানতে চেয়েছেন যে, কোনো সিদ্ধান্ত উল্টানো যাবে কি না এবং সীমারেখা কোথায় টানা হবে।
বুকায়ো সাকা বালোগুনের ঘটনার সঙ্গে কোয়ানসার নিষেধাজ্ঞার তুলনা করা যায় কি না এমন প্রশ্নের জবাবে সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি, তবে তিনি বলেছেন যে এটি ফিফার সিদ্ধান্ত। ফিফার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠতে পারলেই কেবল কোয়ানসা আবার মাঠে নামার সুযোগ পাবেন।
Source: bangla.thedailystar.net