অস্ট্রেলিয়া সিরিজের জন্য বাংলাদেশের টেস্ট দল
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আসন্ন দুই টেস্টের সিরিজের জন্য ১৫ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে। দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এই দলে কিছু চমক রয়েছে, যার মধ্যে পাঁচ বছর পর সৌম্য সরকারের টেস্ট দলে ফেরা এবং জাকের আলী অনিক-এর প্রত্যাবর্তন উল্লেখযোগ্য।
এই সিরিজে পেসার মুশফিক হাসান চমক হিসেবে দলে ডাক পেয়েছেন। তবে চোটের কারণে দলের বাইরে রয়েছেন পেসার নাহিদ রানা, অভিজ্ঞ উইকেটরক্ষক-ব্যাটার লিটন দাস এবং বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম।
চোটের কারণে অনুপস্থিত খেলোয়াড়দের অবস্থা
বিসিবির মেডিকেল বিভাগ খেলোয়াড়দের চোটের ধরন এবং পুনর্বাসনের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে তথ্য জানিয়েছে। ফাস্ট বোলার নাহিদ রানা গত ১৭ জুলাই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একটি ম্যাচের সময় বাঁ দিকের পাঁজরের নিচের পেশিতে চোট পান। স্ক্যানে তার গ্রেড-২ চোট ধরা পড়েছে, যার ফলে তিনি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজ থেকে পুরোপুরি ছিটকে গেছেন। তার শরীরের টিস্যু সেরে উঠতে আনুমানিক চার সপ্তাহ সময় লাগবে এবং এরপর বোলিং ফিটনেস ফিরে পেতে আরও দুই থেকে চার সপ্তাহ প্রয়োজন হবে। সব মিলিয়ে চোট পাওয়ার দিন থেকে মাঠে ফিরতে তার প্রায় ছয় থেকে আট সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম গত ১৪ জুলাই বাঁ পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে গ্রেড-১ চোটে পড়েন। তার পুনর্বাসন প্রক্রিয়া ভালোভাবেই এগোচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী ২৯ জুলাই থেকে তিনি পুনরায় বোলিং শুরু করবেন এবং ১২ আগস্ট নাগাদ তার ফিটনেস পরীক্ষা নেওয়া হবে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে তার খেলার সম্ভাবনা ক্ষীণ, তবে বোলিং ওয়ার্কলোড সফলভাবে সম্পন্ন করা এবং মেডিকেল ছাড়পত্র পাওয়ার ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের দ্বিতীয় টেস্টের দলে তিনি বিবেচনায় আসতে পারেন।
লিটন দাস বাঁ পায়ের কাফ মাসলের চোট থেকে সেরে ওঠার প্রক্রিয়ায় আছেন। সিঙ্গাপুরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে পিআরপি (প্লাটিলেট-রিচ প্লাজমা) থেরাপি দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৮ জুলাই থেকে তিনি রানিং ও কন্ডিশনিং কার্যক্রম শুরু করবেন এবং ১৩ আগস্টের দিকে তার ফিটনেস মূল্যায়ন করা হবে। পুনর্বাসন প্রক্রিয়া ঠিকঠাকভাবে সম্পন্ন এবং ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া সাপেক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে সুযোগ পাওয়ার জন্য তিনি বিবেচিত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ডানহাতি ফাস্ট বোলার তানজিম হাসান সাকিব চোটজনিত কারণে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যেই রয়েছেন। সম্প্রতি করানো ফলো-আপ স্ক্যান এবং বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, তাকে আরও আট থেকে দশ সপ্তাহ পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে হবে। এরপর তার আবারও স্ক্যান করানো হবে। হাড়ের চিড় কতটা দ্রুত সারছে সেটার ওপরই নির্ভর করছে তার মাঠে ফেরার সময়সীমা। আপাতত চলতি বছরের শেষের দিকে তাকে মাঠে পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।
বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিং ও কাফ মাসলের চোট থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় আছেন। তিনি বর্তমানে দৈনিক পুনর্বাসন কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন এবং চলতি জুলাই মাসের শেষেই তার ফিটনেস মূল্যায়ন করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বোলিং ওয়ার্কলোড সামলে উঠতে পারলে আগামী ১৮ আগস্টের পর থেকে তিনি দলে জায়গা পাওয়ার জন্য পুরোপুরি বিবেচনায় আসতে পারেন। মোস্তাফিজুর রহমান ২০২২ সালের পর কোনো টেস্ট ম্যাচ খেলেননি।
সিরিজের সময়সূচী ও স্কোয়াড
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্ট আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে শুরু হবে। দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট ২২ আগস্ট গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় মাঠে গড়াবে।
অস্ট্রেলিয়া সিরিজের জন্য বাংলাদেশের টেস্ট স্কোয়াড নিম্নরূপ:
- নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক)
- সৌম্য সরকার
- সাদমান ইসলাম
- তানজিদ হাসান তামিম
- মুমিনুল হক
- মুশফিকুর রহিম
- জাকের আলী অনিক
- মেহেদী হাসান
- তাইজুল ইসলাম
- খালেদ আহমেদ
- হাসান মাহমুদ
- অমিত হাসান
- এবাদত হোসেন
- মুশফিক হাসান
- তাসকিন আহমেদ
এই স্কোয়াড নিয়ে বাংলাদেশ দল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদের ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ খেলবে, যা দীর্ঘ ২৩ বছর পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
Source: ntvbd.com
