স্পেনের জয় ও ম্যাচের বিবরণ
লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে পরাজিত করে স্পেন সেমিফাইনালে উঠেছে। প্রায় ৭০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন স্টেডিয়ামটি ছিল কানায় কানায় পূর্ণ, যেখানে স্পেনের সমর্থকের সংখ্যা ছিল চোখে পড়ার মতো। স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় ম্যাচ শুরু হওয়ায় আবহাওয়া ছিল বেশ গরম এবং আর্দ্রতার কারণে তাপমাত্রা বেশি অনুভূত হচ্ছিল।
ম্যাচের শুরু থেকেই লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল স্পেন বলের নিয়ন্ত্রণ নেয়। প্রথমার্ধের ৩০তম মিনিটে ফাবিয়ান রুইজ গোল করে স্পেনকে এগিয়ে দেন। পেদ্রো পোরো ও লামিন ইয়ামালের বোঝাপড়ার পর পোরোর কাটব্যাক থেকে দানি ওলমো শট নেন, যা গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া ঠেকিয়ে দিলেও ফিরতি বলে রুইজ লক্ষ্যভেদ করেন। এর কিছুক্ষণ পর ৪১তম মিনিটে চার্লস ডি কেটেলারে গোল করে বেলজিয়ামকে সমতায় ফেরান। কেভিন ডি ব্রুইনার পাস থেকে বল পেয়ে টিমোথি কাস্টানিয়া ক্রস বাড়ান এবং ডি কেটেলারে হেডে গোল করেন। এটি ছিল চলতি বিশ্বকাপে স্পেনের জালে ঢোকা প্রথম গোল এবং গোলরক্ষক উনাই সিমন রেকর্ড টানা ৬৪৯ মিনিট পর গোল হজম করেন।
মিকেল মেরিনোর নায়কত্ব ও বেলজিয়ামের চোট
ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে মিকেল মেরিনো স্পেনের জয়ের নায়ক হয়ে ওঠেন। ৮৬তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে দুই মিনিটের মধ্যে তিনি গোল করেন, যা স্পেনকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেয়। এর আগে পর্তুগালের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচেও মেরিনো বদলি নেমে গোল করে স্পেনকে জিতিয়েছিলেন। আর্সেনালের এই মিডফিল্ডারকে স্পেন কোচের একটি সফল কৌশলগত বাজি হিসেবে দেখা হচ্ছে, যার ফল তিনি টানা দুটি নকআউট ম্যাচে পেয়েছেন।
বেলজিয়াম দলের জন্য ম্যাচটি ছিল চোটের কারণে বেশ চ্যালেঞ্জিং। ম্যাচের আগেই ওয়ার্মআপের সময় হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়েন অধিনায়ক ইউরি টিলেমানস। এর আগে আমাদু ওনানাকেও তারা হারিয়েছিল, যার ফলে স্পেনের শক্তিশালী মাঝমাঠের বিপক্ষে তাদের প্রায় দ্বিতীয় সারির মিডফিল্ড নিয়ে খেলতে হয়। ম্যাচের ৭১তম মিনিটে বেলজিয়ামের মূল গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া উরুতে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। তার জায়গায় সেনে লামেন্স নামে একজন ২৪ বছর বয়সী গোলরক্ষক বিশ্বকাপে অভিষেক করেন। তবে লামেন্সের অভিষেক দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়ায় যখন ৮৮তম মিনিটে কুবারসির দূরপাল্লার শট ঠিকমতো গ্লাভসবন্দি করতে ব্যর্থ হন এবং সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মেরিনো গোল করেন।
স্পেনের সেমিফাইনাল যাত্রা এবং পরবর্তী চ্যালেঞ্জ
এই জয়ের ফলে স্পেন ২০১০ সালের বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের ১৬ বছর পর সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। ২০১৪ সালে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় এবং গত দুটি আসরে শেষ ষোলোতে যাত্রা থেমে যাওয়ার পর এবার তাদের লক্ষ্য শিরোপা পুনরুদ্ধার করা। স্পেন ম্যাচে ৬৮ শতাংশ সময় বল পায়ে রেখেছিল এবং গোলমুখে ১৭টি শট নিয়ে আটটি লক্ষ্যে রাখে। অন্যদিকে, বেলজিয়াম গোলপোস্টে পাঁচটি শট নিয়ে কেবল দুটি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়।
সেমিফাইনালে স্পেনকে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে। আগামী মঙ্গলবার রাতে ডালাসে তারা ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে, যারা টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার স্বপ্নে বিভোর। ফ্রান্স যেভাবে খেলছে, তাতে কিলিয়ান এমবাপ্পেদের দলকে কিছুটা এগিয়ে রাখা হচ্ছে, তবে ব্যবধান খুব বেশি নয় বলে মনে করা হচ্ছে। স্পেনের তরুণ খেলোয়াড় লামিন ইয়ামাল এই ম্যাচে বিশেষভাবে নজর কেড়েছেন। সতীর্থরা বারবার তাকে বল বাড়িয়ে দিচ্ছিল এবং তিনি স্পেনের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত খেলোয়াড় হয়ে উঠেছেন। স্পেনের মাঝমাঠের শক্তিশালী ভূমিকা এই জয়ের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ছিল, যা থেকে একের পর এক আক্রমণ তৈরি হয়েছে।
Source: prothomalo.com
