ই-পেপার

সব ‍আমলেই ক্ষমতাসীন তাঁরা !

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২১

বরিশাল বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের রাজনীতিতে পূর্বে থেকেই সুবিধাবাদী নেতা হিসেবে কথিত ‍আছেন দক্ষিণ জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এইচ.এম তসলিম উদ্দিন। যিনি জেলা এবং মহানগর পর্যায়ের প্রতিটি কিমিটিতে নগ্ন হস্তক্ষেপ করে আসছেন। এর পেছনে তার বড় শক্তি হিসেবে কাজ করেছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি রাজীব আহসান।

অথচ সেই নেতাকেই বিপদের মধ্যে রেখে পাশ কাটিয়ে এলেন সুযোগ সন্ধানি নেতা তসলিম উদ্দিন। গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীতে রাজীব আহসানসহ ১০ নেতার সাথে তসলিম উদ্দিন পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেও যুবলীগ নেতা ভাইয়ের প্রভাবে ছাড়া পেয়ে যান তিনি। যা নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়েছেন কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

দলীয় নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, ‘গত ৮ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডি ৩ নম্বর রোডে লেকপাড়ে আড্ডারত অবস্থায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাজীব আহসান, সাবেক সহসভাপতি আব্দুর রহিম সেতু এবং দক্ষিণ জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এইচ.এম তসলিম উদ্দিন সহ ১০ নেতাকর্মী।

নেতৃবৃন্দ জানান, ‘এইচ.এম তসলিম উদ্দিনের ভাই আসাদুজ্জামান আসাদ কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য। তিনি ঢাকায় থাকেন। ক্ষমতাসিন দলের নেতা হওয়ার প্রভাবে আটককৃত যুবদল ও ছাত্রদল নেতাদের মধ্যে থেকে কেবল তসলিম উদ্দিনকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেন আসাদুজ্জামান।

বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা বলেন, ‘এইচ.এম তসমিল উদ্দিনরা পাঁচ ভাই। তাদের মধ্যে তিনজন তিন দলের রাজনীতি করেন। একজন ইকবাল হোসেন তাপস জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব। অপরজন আসাদুজ্জামান আসাদ কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য। আর এইচ.এম তসলিম উদ্দিন বরিশাল জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক। এ কারণে স্থানীয় রাজনীতিতে তারা ‘গণতান্ত্রিক পরিবার’ হিসেবেও আখ্যা পেয়েছেন।

দলীয় নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, ‘এইচ.এম তসলিম উদ্দিনের সাথে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি রাজিব আহসান এবং সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুর রহিম সেতু’র সঙ্গে খুব ঘনিষ্ট সম্পর্ক। বরিশালে বিএনপি’র অঙ্গ সংগঠনের কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে নানা তদবির এবং শুপারিস বাস্তবায়নও করেছেন কেন্দ্রীয় ওই নেতাদের মাধ্যমে। জেলা ছাত্রদল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল এবং সবশেষ উত্তর জেলা যুবদলের কমিটিতে নিজের পছন্দের লোকেদের পদ নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ওই নেতাদের স্মরণাপন্ন হতে হয় তাকে।

অথচ যেই নেতাদের ব্যবহার করে তছলিম স্থানীয় রাজনীতিতে বলায় তৈরি করেছেন সেই নেতাদের বিপদে ফেলে চলে আসতে গায়ে বাধেনি তসলিমের। শুধুমাত্র ছোট ভাই আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে বলেই তসলিম উদ্দিন ছাড়া পেয়েছেন। আর এটা দলের জন্য বড়ই লজ্জার। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে বলে দাবি নেতাকর্মীদের।

তারা বলেন, ‘এইচ.এম তসলিম উদ্দিন বিএনপি’র রাজনীতি করলেও সে দলের উপকারে আসছে না। যার প্রমাণ মেলে সিটি নির্বাচনে। যুবদলের শীর্ষ পদের নেতা হয়েও তিনি বিএনপি’র মেয়র প্রার্থী আহসান হাবিব কামাল এর বিরোধীতা করেন।

নেতাকর্মীরা দাবি করেন, ‘বর্তমান সরকারের গত ১৩ বছরে বরিশাল জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। রাজপথে আন্দোলন করতে গিয়ে তারা নির্যাতন এবং পুলিশি হয়রানির শিকার হয়েছেন। অথচ গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেও গত ১৩ বছরে তার বিরুদ্ধে একটি রাজনৈতিক মামলাও হয়নি।

‍এর কারণ হিসেবে বিএনপি দলীয় নেতা-কর্মীরা বলেন, ‘তসলিম ‍উদ্দিনের তিন ভাই প্রভাবশালী তিনটি দলেই নেতৃত্ব স্থানীয় পর্যায়ে রয়েছেন। ‍এ কারণে যে দলই ক্ষমতায় ‍আসুক সব ‍আমলেই তারা ক্ষমতাসীন! যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে, তখন সেই দলের নেতার সাপোর্টে চলেন অন্য ভাইয়েরা। তাই ‍এ ধরনের লোকেদের দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হলে দলের ‍উপকারের থেকে বিতর্ক বাড়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন