ই-পেপার

ক্যাপ্টেন জাহাঙ্গীর ও মেজর জলিল সেতুতে জ্বলছে না আলো, ভাঙা স্লাবে ঝুঁকি

আরিফ হোসেন, বাবুগঞ্জ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২১

ঢাকা- বরিশাল মহাসড়কের বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতুতে ল্যাম্প পোস্ট থাকলেও আলো জ্বলছে না। এ ছাড়াও সেতুতে পায়ে হাঁটার পথের স্ল্যাব ভাঙা থাকায় এই পথে চলাচলকারী মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

জণগুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটির যুগ পেরিয়ে গেলেও জ্বলছে না সড়ক বাতি। লাখ-লাখ টাকায় সড়ক বাতি স্থাপন করা হলেও ঠুনকো অজুহাতে আলোক রশ্মির বাইরেই থেকে যাচ্ছে সেতুটি। ফলে সেতুতে সন্ধ্যা নামলেই ভিড় বাড়ে অপরাধী চক্রের।

ছোটখাটো মারামারি, ছিনতাই, দর্শনার্থীদের যৌন হয়রানি, প্রেমিক প্রেমিকাদের জিম্মি করাসহ নানা অপকর্মের আখড়া হয়ে উঠেছে এই সেতুটি। অথচ বাবুগঞ্জের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের নিদর্শন সুগন্ধা নদীর উপর বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর (দোয়ারিকা) সেতু। সমস্যা সমাধানে স্থানীয়রা সড়ক ও জনপথ বিভাগকে একাধিকবার জানালেও কোনো প্রতিকার মেলেনি বলে দাবী এলাকাবাসীর।

বাবুগঞ্জ উপজেলার মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে সুগন্ধা নদী। এর একপাশে জেলা শহর, আরেক পাশে উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন। দৈনন্দিন কাজে কেদারপুর, দেহেরগতি ও জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়নের মানুষ সেতু পারাপার হতে দেখা যায়।

এছাড়া প্রতিদিন এই পথ দিয়েই বরিশাল সদর ও কুয়াকাটার সঙ্গে সারা দেশের যানবাহনগুলো চলাচল করে। তবে সেতুতে পায়ে হাঁটার পথের কংক্রিট স্ল্যাবগুলো ভাঙা থাকায় ও ল্যাম্প পোস্টগুলোতে লাইট না থাকায় অনেকটা ভোগান্তি নিয়ে এই পথে চলাচল করতে হয়। মাঝে মধ্যেই ঘটে দুর্ঘটনা।

২০০৩ সালে জনগুরুত্বপূর্ণ এই সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে সেতুর সোলার ল্যাম্প পোস্টগুলোর লাইট জ্বলছে না। সেতুতে লাইট না থাকায় অনেকটা ভোগান্তি নিয়ে চলাচল করতে হয় দুই পাড়ের মানুষকে। রাতে সেতুতে ভুতুড়ে পরিবেশ তৈরি হয়। আড্ডায় মত্ত হয় বখাটেরা।

দোয়ারিকা সেতু এলাকার বাসিন্দা মোঃ নাসির উদ্দিন বলেন, ‘সেতুর স্ল্যাবগুলো ভাঙা। বহু বছর সেতুতে লাইট জ্বলছে না। বরিশাল জেলা শহর থেকে রাতে কাজ শেষ করে এই সেতু পার হয়ে আসতে হয়। সেতুতে লাইট না থাকায় অন্ধকারে চলাচলের সময় দুর্ঘটনা ঘটে।’ তাছাড়া সেতুর ঢালে সন্ধ্যায় পরে আলো না থাকার সুবাদে ছিনতাই সহ চুরি সহ নানা অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছে।

সেতু এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী মোঃ শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘সেতুটিতে সোলার বাতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাতিগুলোর বেশির ভাগ নষ্ট হয়ে গেছে। এখন আর বাতি জ্বলে না। আমার বরিশাল শহরে কাপড়ের দোকান আছে । রাতে দোকান বন্ধ করে আসার সময় আতঙ্কে থাকি। কারণ রাতের আঁধারে প্রায়ই বখাটেদের আড্ডা লক্ষ্য করা যায়।

উদ্বোধনের প্রায় ১১ বছর পরে এই সেতুতে ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন করে বাংলাদেশ সড়ক ও জনপথ বিভাগ বরিশাল। তবে ওই ল্যাম্পপোস্টগুলো স্থাপনের বহু বছর অতিবাহিত হলেও সেতুতে আজও জ্বলেনি বাতি।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সড়ক ও জনপথ বিভাগ এ সেতু নির্মাণ করার উদ্যোগ নেয়। কুয়েতের অর্থ সহায়তায় চীনের একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ‘চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি’ সেতু টির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করে। রাতে অন্ধকারে সেতু পারাপার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতার আশংকা সত্বেও কর্তৃপক্ষ অর্থ স্বল্পতার অজুহাতে সেতুতে আলোর ব্যবস্থা করেনি।

এ ব্যাপারে বরিশাল সড়ক ও জনপদ বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী তাপশ কুমার পাল সাংবাদিকদের জানান, তাঁরা পদক্ষেপ নিচ্ছেন। শীঘ্রই বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর ( দোয়ারিকা) ও মেজর এম এ জলিল (শিকারপুর) সেতুর ল্যাম্প পোস্টের বাতি ও স্ল্যাব বসানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করার আশ্বাস দেন।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন