ই-পেপার

শেবাচিম হাসপাতালে আগুনের গুজব ছড়িয়ে মোবাইল চুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২১

হঠাৎ করেই আগুন লাগার খবরে আতঙ্কিত রোগী এবং স্বজনরা প্রঠু বাচাতে শুরু করে ছোটা-ছুটি। হুরোহুরি করে হাসপাতাল থেকে নামতে গিয়ে আহত হন কয়েকজন স্বজন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস টিমও যথারিতি পৌছে গেলো ঘটনাস্থলে। কিন্তু গিয়ে জানলেন আগুন লাগেনি। বরং আগুনের গুজব ছড়িয়ে রোগী এবং স্বজনদের মোবাইল সেট চুরি করে নিয়েছে চোর চক্র।

ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার দুপুর দুইটার দিকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় শিশু ওয়ার্ডে। ঘটনাটি সুষ্ঠুভাবে খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন হাসপাতাল প্রশাসন।

শেবাচিম হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার আবুল কালাম জানান, ‘হঠাৎ করেই হাসপাতালের পূর্ব পাশে মুল ভবনের দ্বিতীয় তলায় শিশু ওয়ার্ডে আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পরে। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুন আগুন বলে চিৎকার চেচামেচি শুরু করে। এসময় দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ তলা পর্যন্ত রোগী এবং স্বজনরা আতঙ্কিত হয়ে শয্যা ছেড়ে যে যার মতো তারাহুরো করে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে নিরাপদে দূরত্বে জড়ো হয়।

তিনি বলেন, কোথায় আগুন লেগেছে তা বলতে পারেনি রোগী বা স্বজনরা। এজন্য আগেভাবেই নিরাপত্তার জন্য ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়া হয়। তবে তাদের পৌঁছাবার আগেই হাসপাতাল স্টাফরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন শিশু ওয়ার্ডে কিছু লোক আগুন আগুন বলে চিৎকার করে গুজব ছড়িয়েছে।

শিশু ওয়ার্ডের স্টাফরা জানিয়েছেন, ‘ওয়ার্ডে কোন আগুন লাগার ঘটনা ঘটেনি। ঘটনার সময় সিনিয়র চিকিৎসকরা ওয়ার্ডে রাউন্ড দিচ্ছিলেন। দুজন লোক আকস্মিকভাবে আগুন লাগছে বলে চিৎকার করে ওয়ার্ডের বাইরে বের হয়ে যায়। তখন ওয়ার্ডে থাকা অন্যান্য রোগীরাও আতঙ্কে ওয়ার্ডের বাইরে বেরিয়ে যায়। সেই সুযোগে ওয়ার্ড থেকে দুটি মোবাইল ফোন চুরি হয়ে যায় বলে জানিয়েছেন স্টাফরা।

ঘটনাস্থলের পাশেই সন্তানকে নিয়ে ভর্তি থাকা ভিজিটর হালিম জানান, ‘ঘটনার আগ মুহুর্তে একজন স্বজন ওয়ার্ডের মধ্যে একজন নারী মোবাইল চার্জ দিচ্ছিল। সকেটে চার্জার প্রবেশের সময় ভেতরে স্পর্ক করে। এতে ওই নারী ভয়ে আতকে ওঠে। ঠিক সেই মুহুর্তে দুজন লোক আগুন আগুন বলে চিৎকার করে ওয়ার্ড থেকে বেরিয়ে যায়।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মনিরুজ্জামান শাহীন বলেন, ‘ঘটনাটি একধরনের প্রতারণা। আগুন লাগার গুজব ছড়িয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে রোগীদের মালামাল এবং মোবাইল চুরির চেষ্টা করেছে। শুনেছি দুজনের দুটি মোবাইল চুরিও হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আমাদের কাছে কেউ কোন লিখিত অভিযোগ করেননি।

তিনি বলেন, ‘বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের কোন অঘটন আর কেউ ঘটাতে না পারে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাছাড়া আজকের ঘটনা পরিকল্পিত হলে সেটাও খতিয়ে দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বরিশাল সদর ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্বাস উদ্দিন বলেন, ‘আগুনের খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে গিয়ে জানতে পারি এটি ছিল আগুনের গুজব। পরে হাসপাতালের স্টাফরা রোগী এবং স্বজনদের বুঝিয়ে শুনিয়ে পুনরায় ওয়ার্ডে পাঠিয়েছে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন