ই-পেপার

বেড়েছে নারীদের তালাক ও বিচ্ছেদের ঘটনা

বিএসএল নিউজ ডেস্ক | আপডেট: জুলাই ২৩, ২০২১

দেশে গত পাঁচ বছরে পুরুষের তুলনায় নারীদের বিবাহ বিচ্ছেদ বেড়েছে। এর মধ্যে অনেক নারী তাদের স্বামী কর্তৃক তালাকের শিকার হয়েছেন আর অনেকে নিজে থেকে বিচ্ছেদ নিয়েছেন।

সম্প্রতি প্রকাশিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘রিপোর্ট অন বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিকস-২০২০’ থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ‘মনিটরিং দ্যা সিচুয়েশন অব ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিকস অব বাংলাদেশ (এমএসভিএসবি) (৩য় পর্যায়)’ প্রকল্পের আওতায় এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটি তৈরি করতে দুই হাজার ১২টি নমুনা এলাকার তিন লাখ এক হাজার ১৩১টি খানা বা পরিবার থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। খানাগুলো থেকে ১২ লাখ ৮৫ হাজার ১৩ জন পুরুষ ও নারীর তথ্য নেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাংলাদেশে গত ৫ বছরে পুরুষের বিয়ের গড় বয়স কমেছে। বর্তমানে পুরুষের বিয়ের গড় বয়স দাঁড়িয়েছে ২৪ দশমিক দুই বছরে, যা পাঁচ বছর আগে ছিল ২৫ দশমিক দুই বছর।

সর্বশেষ ২০২০ সালে দেশের পুরুষেরা গড়ে ২৪ দশমিক দুই বছরে বিয়ে করেছেন। তবে গত পাঁচ বছরে নারীদের বিয়ের গড় বয়স বেড়েছে। তাদের বিয়ের গড় বয়স এখন ১৮ দশমিক সাত বছর।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রতিবেদন বলছে, গত পাঁচ বছরে নারীদের ক্ষেত্রে তালাক ও বিয়ে বিচ্ছেদের হার বেড়েছে এক দশমিক তিন শতাংশ। ২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত এ হার যথাক্রমে- ১০, ১০ দশমিক পাঁচ, ১০ দশমিক আট, ১১ ও ১১ দশমিক তিন শতাংশ।

অন্যদিকে, গত পাঁচ বছর সময়ে পুরুষদের ক্ষেত্রে তালাক ও বিয়ে বিচ্ছেদের হার দশমিক তিন শতাংশ বেড়েছে। ২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত এ হার যথাক্রমে- এক দশমিক চার, এক দশমিক পাঁচ, এক দশমিক আট ও এক দশমিক আট শতাংশ।

এদিকে প্রতিবেদন অনুযায়ী সাম্প্রতিক সময়ে পুরুষের ক্ষেত্রে প্রথম বিয়ের গড় বয়স কিছুটা নিম্নমুখী। পুরুষের বিয়ের গড় বয়স ২০১৬ সালে ছিল ২৫ দশমিক দুই বছর। ২০২০ সালে তা কমে হয়েছে ২৪ দশমিক দুই বছর।

একইসঙ্গে নারীর ক্ষেত্রে বিয়ের গড় বয়স ২০১৬ সালে ছিল ১৮ দশমিক চার বছর। ২০২০ সালে তা বেড়ে হয়েছে ১৮ দশমিক সাত বছর। শহরের তুলনায় গ্রামের নারী ও পুরুষেরা আগে বিয়ে করছেন।

প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ২০২০ সাল পর্যন্ত দেশে বিবাহিত পুরুষের হার শতকরা ৬০ ভাগ। অবিবাহিত পুরুষের হার ৩৮ দশমিক তিন ভাগ। আর তালাক বা বিয়ে বিচ্ছেদ ঘটেছে এক দশমিক সাত ভাগ পুরুষের।

বিবাহিত নারীর হার ৬৩ দশমিক দুই ভাগ। অবিবাহিত রয়েছেন ২৫ দশমিক পাঁচ ভাগ নারী। তালাক ও বিয়ে বিচ্ছেদ ঘটেছে ১১ দশমিক তিন ভাগ নারীর। পুরুষের তুলনায় বেশিসংখ্যক নারী তালাকপ্রাপ্ত ও বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকছেন।

‘মনিটরিং দ্যা সিচুয়েশন অব ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিকস অব বাংলাদেশ (এমএসভিএসবি) (৩য় পর্যায়)’ প্রকল্প পরিচালক আ ক ম আশরাফুল হক বলেন, সরকারের আইন অনুযায়ী দেশের পুরুষেরা ২১ বছর ও নারীরা ১৮ বছর বয়সে বিয়ে করতে পারেন।

প্রতিবেদনে বিয়ের গড় বয়স দেখানো হয়েছে। গত পাঁচ বছরের হিসাব অনুযায়ী দেখা গেছে, দেশে পুরুষের বিয়ের গড় বয়স কমেছে, নারীর ক্ষেত্রে বেড়েছে। কেননা তারা ধীরে ধীরে শিক্ষিত ও সচেতন হচ্ছেন।

বিয়ের গড় বয়সের হার কোন বিভাগে কত জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা কোনো বিভাগ ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন করি না। সারাদেশে পরিসংখ্যান মেথড অনুসরণ করে বিবিএস এর স্যাম্পল ডিজাইনে প্রতিবেদনটি করা হয়।

বর্তমানে স্যাম্পল ডিজাইনের আওতায় দুই হাজার ১২টি নমুনা এলাকা রয়েছে। এসব নমুনা এলাকা থেকে সারা বছর ধরে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। বিভাগের হিসাব না থাকলেও প্রতিবেদনে শহর ও পল্লী অঞ্চলের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের সাবেক প্রফেসর ড. নুরুল ইসলাম বলেন, প্রতিবেদনটি স্যাম্পলের (নমুনা) ভিত্তিতে তৈরি করা হয়। একই প্রতিবেদন যদি বিবিএস ছাড়া অন্য কেউ করে, তবে ফল ভিন্ন হবে। সারাদেশের নমুনা নিয়ে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হলে দেখা যাবে, গড় আয়ু ওঠানামা করছে।

একইভাবে বিয়ের গড় বয়সও ওঠানামা করতে দেখা যাবে। মূলত বেকারত্বসহ আরও নানা সমস্যায় আমাদের দেশের পুরুষেরা এখনও পিছিয়ে রয়েছেন। অন্যদিকে নারীরা শিক্ষিতসহ সচেতন হওয়ার ফলে তারা সবকিছুতে এগিয়ে যাচ্ছেন।

শহুরে পুরুষদের তুলনায় গ্রামের পুরুষরা কেন আগে বিয়ে করছেন- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গ্রামের বাবা-মায়েরা চান ছেলেদের আগে বিয়ে করিয়ে ঘরমুখো করতে। তারা মনে করেন, বিয়ে করলে ছেলেরা চাকরিসহ সংসারের কাজে মন দেবে। এটি আমার ব্যক্তিগত ধারণা।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন