ই-পেপার

বিধিনিষেধকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখালেন খোদ থানা পুলিশ : সচেতন মহলে ক্ষোভ

বিএসএল নিউজ ডেস্ক | আপডেট: মে ১৫, ২০২১

করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে জনসচেতনতার বিকল্প নেই। আর সরকারের এই বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানে পুলিশ প্রশাসন। এমন পরিস্থিতিতে জনগণকে মাস্ক ব্যবহারে বাধ্য করতে পুলিশকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার।

ঠিক সেই মুহুর্তে সরকারের স্বাস্থ্যবিধিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখালেন বরগুনার তালতলী থানা পুলিশ। বিধিনিষেধ উপেক্ষা করেই ঈদ উপলক্ষে প্রায় দেড় শতাধিক স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে থানা চত্ত্বরে প্রীতিভোজ করা হয়। সেখানে খাবার পরিবেশন করে পুলিশ সদস্যরা। মানা হয়নি স্বাস্থ্যবিধিও।

অথচ করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারের দেয়া ১৮ দফা নির্দেশনার একটি দফায় বলা আছে- বিয়ে, জন্মদিনসহ যেকোনো সামাজিক অনুষ্ঠান উপলক্ষে কোনোরকম জনসমাগম করা যাবে না, সম্পূর্ণ নিষেধ। সরকারের এ নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়েছেন তালতলী থানা পুলিশ।

শুক্রবার (১৪ মে) দুপুর ২টার দিকে এ প্রীতিভোজের আয়োজন নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে থানা পুলিশের এমন কাণ্ড স্থানীয় সাধারণ মানুষ এবং সচেতন মহলকে ভাবিয়ে তুলেছে। তারা এ বিষয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহলের সৃ-দৃষ্টির আশাও করেছেন।

এমন প্রীতিভোজের আয়োজনে ক্ষোভপ্রকাশ করে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, আগামী ১৬ মে’র পরে দেশে কঠোর বিধিনিষেধ আসছে। সেখানে পুলিশের হাতে বিচারিক ক্ষমতা দেওয়ার জন্য অনেকে দাবি তুলেছেন। কিন্তু এমন সময় থানার কর্মকর্তারা যদি স্বাস্থ্যবিধিকে তোয়াক্কা না করে এমন প্রীতিভোজ আয়োজন করেন, তাহলে সাধারণ মানুষ কতোটা স্বাস্থ্যবিধি মানবে?

এ প্রসঙ্গে তালতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামরুজ্জামান মিয়া গণমাধ্যমকে বলেন, পুলিশ সদস্যদের খাওয়ানো হয়েছে। কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলো না। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সবকিছু করা হয়েছে। তবে বরগুনা পুলিশ সুপার মুহম্মদ জাহাঙ্গীর মল্লিক বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। খোঁজখবর নিয়ে দেখছি।

বরগুনা জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমনা সাংবাদিকদের বলেন, চলমান বিধিনিষেধের মধ্যে কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি এমন কাজ করতে পারেন না। তবে তালতলী থানার দায়িত্বশীল কেউ যদি এমন কাজ করে থাকেন তা ঠিক হয়নি। আমি খোঁজখবর নিয়ে দেখছি।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন