ই-পেপার

ভিক্ষার টাকায় আকাশ-হালিমা দম্পতির শখের ঈদ উদযাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: মে ১৫, ২০২১

সকালে খাবার হোটেল থেকে পরোটা কিনে খেয়ে ঈদের দিনের যাত্রা শুরু, এরপর স্ত্রী হালিমাকে বরিশাল নদীবন্দরে রেখে নগরীর গোরস্থান রোড মসজিদে ভিক্ষার জন্য যান শারীরিক প্রতিবন্ধী আকাশ। ফিরে এসে ভিক্ষার টাকায় কেনা নতুন পোশাক পরে দুজনে অপেক্ষায় ছিলেন দুপুরের খাবারের।

সংবাদকর্মীদের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “উদ্যোগ” এর নিয়মিত রান্না করা খাদ্য সহায়তার অংশ হিসেবে শুক্রবার (১৪ মে) ঈদের দিন দুপুরে নদীবন্দরে মুরগির রোস্ট আর পোলাওয়ের ব্যবস্থা করা হয়। যা খেয়ে হালিমা ও তার স্বামী আকাশ একে অপরের হাত ধরে হাসিমাখা মুখে চোখে চশমা হাঁকিয়ে পায়ে হেঁটে গোটা বরিশাল নগরী ঘুর বেড়ান।

এর আগে গোটা দুপুর জুড়েই নতুন পোশাকে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পাতারহাটের মেয়ে হালিমা ও তাঁর স্বামী চাঁদপুরের ছেলে আকাশের ঈদ উদযাপনের দৃশ্য বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে নদীবন্দর এলাকায়।

শারীরিক প্রতিবন্ধী আকাশ স্বাভাবিকভাবে কথা না বলতে পারলেও ঈদের দিনে নতুন পোশাকে তার আনন্দের যেন কমতি ছিলো না। বিয়ের পর থেকেই তাদের এমন একটি ঈদ উদযাপনের স্বপ্ন ছিলো এ দম্পতির।

হালিমা বলেন, ভিক্ষার টাহা জোমাইয়া দুইজন দুইজনের জামা কিইন্যা দিছি। আকাশ মোরে ঈদে থ্রি-পিস কিইন্যা দেছে, আর মুই হ্যারে পাঞ্জাবি কিইন্না দিছি। যা গায় দিয়া মোরা ঘুরতে বাইরাইছি। পায়ে হাইট্টাই হারা শহর ঘুরমু।

হালিমা বলেন, আকাশের বাপ-মা কেউ নাই, মোর (হালিমা) মায় থাকতেও এহন নাই। একসময় হে (আকাশ) লঞ্চঘাডে ডিম ব্যচতে। তিন বছর আগে আকাশ মোর প্রেমে পড়ে। হে মোর পাশে পাশে ঘোরতে। একদিন হে যে মোরে ভালোবাসে হ্যার প্রমাণ দেতে  অটোরিকশার চাক্কার তলে মাতাও দেছে। হ্যারপর ঘাডের লোকজনই মোগো বিয়া দিয়া দেয়।

ঘাটের লোকেরা জানান, বিয়ের পর হালিমা কিছু না করলেও আকাশ ভিক্ষা করে। যা দিয়ে তাদের দু’জনের পেট চলে যায়।

হালিমা বলেন, সত্য কইতে আকাশ মোরে অনেক ভালো পায়। মোগো কোনো বাড়িঘর নাই, হ্যার লইগ্যা লঞ্চঘাডেই মোরা থাহি। রোজায় সাংবাদিকরা প্রেত্যেক রাইতে খাওন দেছে, যা খাইয়্যা দিন কাডাইছি। হ্যার লইগ্যা রোজায় কিছু রান্না না হরলেও এমনে দিনের বেলা এহানেই কোনো জায়গায় খাওন রান্দি। আবার টাহা থাকলে কোনো দিনে হোটেল দিয়া কিইন্যাও খাই, কোনো দিন কেই খাওন দেয়।

তিনি বলেন, ‘বিয়ার তিন বছরে দুইড্যা বাচ্চা হইছিলো কিন্তু দুইডাই জন্মের কয়দিন পর ঠাণ্ডা লাইগ্যা মইরা গ্যাছে। কিন্তু আকাশ মোরে এত ভালো পায় যে, ঝগড়াঝাডি হইলেও মোরে ছাইড়্যা যায় না। মুই ও অরে অনেক ভালো পাই।’

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন