ই-পেপার

বদরের প্রান্তরে পর্ব-১

ফিরোজ মাহমুদ | আপডেট: এপ্রিল ২৯, ২০২১

১৭ রমযান। ইতিহাসের এই দিনে ঘটেছিল মুসলমানদের সাথে কাফেরদের প্রথম যুদ্ধ। ‘বদর যুদ্ধ’ ইতিহাসের পাতা থেকে আজকে আমরা জেনে নেব ‘বদর’ যুদ্ধ সম্পর্কে কিছু কথা। বদর একটি জায়গার নাম। মক্কা থেকে কিছুটা উত্তরে মদিনা থেকে কিছুটা দক্ষিণ-পশ্চিমে।

প্রায় চৌদ্দশ চল্লিশ বছর আগে ওই আমলের আরব দেশে মক্কা নগরীর কুরাইশদের সাথে যে বানিজ্য হতো সেই বানিজ্যের কাফেলাগুলো চলাচল করার যে পথ ছিল সেটি ‘বদর’ নামক জায়গার পাশ দিয়েই যেত।

বদরের যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল হিজরি দ্বিতীয় সালে ১৭ রমযান মহানবী (স:) মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত করে চলে এলেন, তারপর মদীনায় নতুন একটি নগর রাষ্ট্র, নতুন সভ্যতা, সংস্কৃতি, স্বকীয়তা ও দ্বীন ইসলামের মূল কেন্দ্ররূপে গড়ে তোলার জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছিলেন। এটা দেখে মক্কার কুরাইশগন ঈর্ষান্বিত হলো। দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে তারা নানা ষড়যন্ত্রের পথ খুঁজতে লাগলো।

মক্কার কুরাইশগন চিন্তা করল যে, আমরা তো সবাই মিলে মক্কায় মুহাম্মদ (স:) কে দমন রাখতে পেরেছিলাম, কিন্তু এখন মদীনায় গিয়ে তিনি নতুন রূপে বাধাহীনভাবে ইসলাম প্রচার করছে। যদি এরূপ প্রচার অব্যাহতভাবে চলতে থাকে আর তার এই সংগ্রাম সামনে অগ্রসর হতে থাকে তাহলে অচিরেই মদীনার মুসলিমরা মক্কার লোকজনের প্রতি হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

অতএব এই মুসলমানদের অঙ্কুরেই বিনাস করা প্রয়োজন। অপরদিকে মাত্র জন্ম নেয়া মদীনা নামক নগর রাষ্ট্র তথা ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থার ভিত্তি ক্রমবর্ধমান হচ্ছিল। যেটি সেখানে মহানবী (স:) এবং তার সাথীরা চিন্তা করলেন যে, আমরা মক্কা থেকে বের হয়ে এসেছি সত্য, কিন্তু মক্কার হুমকি থেকে আমরা এখোনো মুক্ত হতে পারিনি।

আমরা এখনো তেমন শক্তি অর্জণ করতে পারিনি। তাই আমাদের শক্তি সঞ্চয় করা প্রয়োজন এবং আল্লাহর দ্বীনকে তার জমিনে প্রতিষ্ঠা করতে হলে যুদ্ধের কোন বিকল্প নেই। মোটামুটি এ ধরনের চিন্তা-ভাবনার প্রেক্ষাপটের পরেই মক্কা ও মদিনা এই দুই শহর কেন্দ্রিক জনগোষ্ঠির মধ্যে একটি যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। তা ছাড়া পরোক্ষভাবে আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে নির্দেশ এলো যুদ্ধের প্রস্থতি গ্রহণ করার।

মোট কথা, যুদ্ধ বেধে গেল এবং উভয় পক্ষ হতে যোদ্ধারা একে অন্যের মুখামুখি হয়ে বলতে লাগলেন কোন প্রতিদ্বন্ধী আছে কী? বদরের যুদ্ধে মুসলমানদের সৈন্যসংখ্যা আর কাফেরদের সৈন্যসংখ্যা সম্পর্কে ছোটখাটো মতপার্থক্য আছে। তবে যে মতামতটি জোরালোভাবে গ্রহণ যোগ্য সেটা এ রকম: মুসলমানগন ছিলেন ৩১৩ জন, অপর পক্ষে কাফেরদের সংখ্যা ছিল এক হাজার।

মুসলমানদের ৩১৩ জন সাহাবীর মধ্যে ৮৫ জন ছিলেন মুহাজির সাহাবী; বাকী সবাই ছিলেন মদীনার আনসার। পুরো ৩১৩ জনের দলে উট ছিল ৭৩ টি আর ঘোড়া ছিল মাত্র দুটি। অপর পক্ষে কাফেরদের এক হাজারের দলের ৬০০ জনের কাছে ছিল দেহ রক্ষাকারী বর্ম এবং তাদের ঘোড়া ছিল ২০০ টি।

যুদ্ধের ক্ষেত্রটির অবস্থান এবং পরিবেশের বর্ণনা দেয়া অবশ্যই প্রয়োজন, মুসলমানরা যে স্থানটিতে অবস্থান নিয়েছিলেন সেখানে সূর্যের তেজ সরাসরি তাদের মুখের ওপরে পতিত হয়। কিন্তু কাফেরদের মুখে দিনের বেলায় সূর্যের আলো পড়ে না। মুসলমানেরা যেখানে দাড়িয়ে যুদ্ধ করবেন সেখানের মাটি একটু নরম। যা যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য উপযুক্ত নয়।

অপরদিকে কাফেরেরা যেখানে অবস্থান নিয়েছিল সেখানের মাটি শক্ত এবং যুদ্ধের জন্য স্প্যানটি উপযুক্ত। রমযান মাসের ১৬ তারিখ দিনটি শেষ, মাগরিবের পর তারিখ বদলে গেল, অতঃপর ১৭ রমযান শুরু হলো…

লেখকঃ মাদ্রাসা শিক্ষক

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন