ই-পেপার

আত্মশুদ্ধির মাস মাহে রমযান

ফিরোজ মাহমুদ | আপডেট: এপ্রিল ২৬, ২০২১

নেয়ামত যত বেশি মূল্যবান, তার হক আদায় করার দায়িত্ব ততই ভারী। আল্লাহর কিতাব ও তাঁর বানী সবচেয়ে বড় রহমত ও বরকতের জিনিস।

সূরা ইউনুস এর ৫৭-৫৮নং আয়াতে মহান আল্লাহ বলেনঃ “হে মানবজাতী! তোমাদের নিকট তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে পথ প্রদর্শন এসে গেছে। এটা সেই জিনিস যা অন্তরের অসুস্থতা নিরাময় করে, যারা এটা গ্রহন করবে তাদের জন্য পথপ্রদর্শক এবং রহমত হিসেবে কাজ করবে।

(হে নবী) আপনি বলে দিন যে, আল্লাহ অত্যন্ত কর”না ও মেহেরবানী করে এ মহামূল্যবান জিনিস পাঠিয়েছেন, এ কারনেই লোকদের উৎসব করা উচিত মানুষ যা কিছু সংগ্রহ করার কাজে ব্যাস্ত, সেসব কিছুর চেয়ে এটা শ্রেষ্ঠ”।

যদি অত্র আয়াতটি আপনি ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারেন। তাহলে বার বার স্বরন কর”ন; এবং বুঝুন আল্লাহ আমাদের এই কুরআনকে ঊহলড়ু. করতে বলেছেন, আর মানুষ যদি কোন জিনিস উপভোগ করে তাহলে সেটা খুব ভালোভাবেই সমাধা করতে পারে। আপনাকেও এই রমযান মাস কুরআন অধ্যয়নের মাধ্যমে উপভোগ করতে হবে।

আপনি যদি দূর্বল হন, তাহলে স্বয়ং কুরআন মাজীদ আপনার জন্য বিষয়টি সহজ করে দিয়েছে। আর এই দূর্বলতা অসুস্থতার জন্য হোক বা জীবিকার সংগ্রামের কারনে হউক বা আল্লাহর পথে করার জন্য হউক, বলা হয়েছে, কুরআনে সহজ-স্বাভাবিক ভাবে যতটুকু সম্ভব ততটুকু পড়।

সুতরাং দ্বিতীয় অবস্থা এটা হতে পারে যে, রমযান মাসের প্রথম তারিখ থেকে আপনি এ মনোবল নিয়ে কুরআন পড়ার কাজ শুর” করে দিন, আর তেলাওয়াতের সময় লক্ষ রাখবেন আল্লাহর এ বানী কুরআন নিজে বর্ণনা করেছে যে, যখন তার তেলাওয়াত করা হয়, তখন পাঠক ও শ্রোতার অন্তর কেঁপে উঠে এবং নরম হয়ে যায়। তাদের শরীরের পশম কাঁটা দিয়ে উঠে, তাঁদের চোখ অশ্র”স্বজল হয়ে ওঠে। তাঁরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন, তাঁদের ঈমান বৃদ্ধি হয়ে যায়।

নবী করীম (সাঃ) বলেছেন “তোমরা কুরআন মাজীদ পড়ার সময় কাঁদবে। যদি কাঁদা না আসে তাহলে কাঁদার চেষ্টা করো। কেননা কুরআন ভাব গম্ভীর পরিবেশে নাযিল করা হয়েছে”। হয়তো আপনি খুব ক্ষুদ্র অংশ পড়ছেন, যেমন “আল ক্বারিয়াহ” সূরা কুরআনের যেখানে কঠিন বিপদ সম্পর্কে সাবধান করা হয়েছে, অথবা সূরা “যিলযাল” থেকে যেখানে ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র অসৎকাজ এবং ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র সৎকাজ সম্মুখে উপস্থাপন করার সংবাদ দেয়া হয়েছে। গভীর মনোনিবেশে ডুবে থেকে পড়ুন যেন আল্লাহ তাআলার সামনে উপস্থিত রয়েছেন।

তিনি আপনার সাথে কথা বলেছেন এবং দিক নির্দেশনা দিয়েছেন আপানার কি করতে হবে আর কি করা থেকে বিরত থাকতে হবে, তা তিনি বলে দিয়েছেন। আপনার মন মানসিকতা আর দেহ সবকিছুকেই এ তেলাওয়াতের কাজের অংশীদার করতে হবে। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন- আমীন।

লেখক : ইসলামি গবেষক

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন