ই-পেপার

বিটিআরসির তরঙ্গ নিলাম শেষ, ৫ মেগাহার্টজ নিয়ে গ্রামীণ-রবির যুদ্ধ

বিএসএল নিউজ ডেস্ক: | আপডেট: মার্চ ৯, ২০২১

দ্রুত পরিবর্তনশীল টেলিযোগাযোগ খাতে গ্রাহকদের মোবিলিটি এবং উচ্চতর ডাটারেটের চাহিদার উত্তরোত্তর বৃদ্ধির উপর গুরুত্বারোপ করে ১৮০০-২১০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের তরঙ্গ নিলাম সম্পন্ন করেছে বিটিআরসি।

সোমবার (০৮ মার্চ) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব আফজাল হোসেন অনুষ্ঠানে নিলাম সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বক্তব্য দেন।
বেলা ১১টায় দেশের চার মোবাইল অপারেটরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে শুরু হয় টেলিযোগাযোগ খাতের বহুল আলোচিত এ নিলাম অনুষ্ঠান।

নিলামে ভিত্তিমূল্য ধরা হয় সরকারের পুর্বানুমোদনপূর্বক ২০১৮ সালের নিলামের বিক্রয় মূল্য অনুযায়ী অর্থাৎ, ১৮০০ মেগাহার্জ ব্যান্ডের ১ মেগাহার্জ তরঙ্গ মূল্য ১৫ বছরের জন্য ৩১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার হারে এবং ২১০০ মেগাহার্জ ব্যান্ডের ১ মেগাহার্টজ তরঙ্গ মূল্য ১৫ বছরের জন্য ২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার হারে। ২০১৮ সালের নিলামে নিলামকৃত তরঙ্গ অপারেটর তার চাহিদা অনুযায়ী টুজি বা থ্রিজি অথবা ফোরজি লাইসেন্সের মেয়াদে তরঙ্গ বরাদ্দ নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছিল।

এবারের নিলামে প্রাপ্ত তরঙ্গ, বরাদ্দের তারিখ থেকে ৫.৫৯ বছর মেয়াদকালের জন্য প্রযোজ্য চার্জের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভ্যাট যোগ করে প্রাপ্ত সর্বমোট চার্জের ২৫ শতাংশ অগ্রিম আগামী ২২ মার্চের মধ্যে পরিশোধ সাপেক্ষে সাময়িক তরঙ্গ বরাদ্দপত্র জারি করা হবে। তরঙ্গ বরাদ্দপত্র জারির তারিখ থেকে প্রতি এক বছর অন্তর বার্ষিক ১৫ শতাংশ হারে বাকি ৭৫ শতাংশ চার্জ পাঁচটি কিস্তিতে পাঁচ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। নিলামে সর্বমোট প্রস্তাবিত ২৭.৪ মেগাহার্জ (১৮০০ মেগাহার্জ ব্যান্ডে ৭.৪ এবং ২১০০ মেগাহার্জ ব্যান্ডে ২০ মেগাহার্জ) তরঙ্গ প্রদানের নিষ্পত্তি হয়। যার থেকে সরকারের আয় হবে ভ্যাটসহ প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা।

কমিশনের স্পেকট্রাম বিভাগের কমিশনার এ.কে.এম. শহীদুজ্জামানের সভাপতিত্বে প্রায় ১২ ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত এ নিলামে গ্রামীণফোন ১৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড হতে ৩১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার-মেগাহার্টজ দামে ০.৪ মেগাহার্টজ এবং ২১০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড হতে ২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার-মেগাহার্টজ দামে ০৫ মেগাহার্টজ এবং ৪৬.৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার-মেগাহার্টজ দামে ০৫ মেগাহার্টজ তরঙ্গ বরাদ্দ পেয়েছে। সুতরাং, ১৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে গ্রামীণফোনের বর্তমান তরঙ্গ ১৯.৬ মেগাহার্জ হতে ২০ মেগাহার্টজে এবং ২১০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে গ্রামীণফোনের বর্তমান তরঙ্গ ১০ মেগাহার্টজ হতে ২০ মেগাহার্টজে উন্নীত হলো।

রবি ১৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড হতে ২.৬ মেগাহার্জ এবং ২১০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড হতে ২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার-মেগাহার্জ দামে ০৫ মেগাহার্টজ তরঙ্গ বরাদ্দ পেয়েছে। সুতরাং, ১৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে রবির বর্তমান তরঙ্গ ১৭.৪ মেগাহার্জ হতে ২০.০ মেগাহার্টজে এবং ২১০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে রবির বর্তমান তরঙ্গ ১০ মেগাহার্টজ হতে ১৫ মেগাহার্জে উন্নীত হলো।

বাংলালিংক ১৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড হতে ৪.৪ মেগাহার্টজ এবং ২১০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড হতে ৫.০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ বরাদ্দ পেয়েছে। সুতরাং, ১৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে বাংলালিংক-এর বর্তমান তরঙ্গ ১৫.৬ মেগাহার্টজ হতে ২০ মেগাহার্টজে এবং ২১০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে বাংলালিংকের বর্তমান তরঙ্গ ১০ মেগাহার্টজ হতে ১৫.০ মেগাহার্জে উন্নীত হলো।

টেলিটক ২১০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক নিলামে অংশগ্রহণ করেও শেষ পর্যন্ত কোনো তরঙ্গ কিনতে পারেনি। সুতরাং, ২১০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে টেলিটকের বর্তমান তরঙ্গ ১০ মেগাহার্টজ ব্যবহার করেই তাদের সেবা প্রদান কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে।

বরাদ্দকৃত তরঙ্গে আগামী ৯ এপ্রিল হতে অপারেটরগণ সেবা দিতে সক্ষম হবে।

বিটিআরসি আশা করে তরঙ্গ বরাদ্দ করায় মোবাইল টেলিযোগাযোগের গুণগত মান বৃদ্ধি পাবে।

বিটিআরসি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বাংলাদেশে মোবাইল প্রযুক্তির শুরুর দিকে ১৯৯৬ সালে তিনটি অপারেটরকে বিনামূল্যে তরঙ্গ বরাদ্দ দিয়ে সেই সময়ের সরকার প্রধান, আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত দূরদর্শীতার পরিচয় দিয়েছিলেন। যা, আজকের ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে বিটিআরসি তথা সরকারকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

তরঙ্গ বরাদ্দ নিয়ে গ্রামীণফোনের অ্যাক্টিং সিইও এবং সিএফও ইয়েন্স বেকার বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় ডিজিটালকরণ উদ্যোগে আরো সহায়তা প্রদান করতে এবং দেশব্যাপী মানুষকে ফোরজি সুবিধার মাধ্যমে ক্ষমতায়নের জন্য এই স্পেকট্রাম প্রদান গ্রামীণফোনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই অতিরিক্ত স্পেকট্রামের মাধ্যমে আমরা মানুষের বাড়ন্ত দ্রুত ইন্টারনেট চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হবো এবং শহর সহ প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতেডিজিটাল সেবার ধারনা পৌঁছে দিতে পারবো।

তিনি আরো বলেন, এ রকম সুপরিচালিত একটি নিলামের জন্য বিটিআরসি এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রনালয়কে আমরা ধন্যবাদ জানাই। আমরা আশাকরছি যে আমাদের যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে ‘নিউ-নরমাল’ গ্রাহক চাহিদা অনুসারে আমরা মানসম্মত সেবা প্রদানের সক্ষম হবো। এই মাসেই বাংলাদেশ তার স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করবে। বাংলাদেশের ডিজিটাল ভবিষ্যত নিশ্চিতের যাত্রায়, ডিজিটালকরনের অপরিসীম সম্ভাবনা উন্মোচনে এবং অজস্র সম্ভাবনার সংযোগে ভূমিকাপালন করতে আমরা বদ্ধপরিকর।

এই নিলামের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ সম্ভাবনার দিকে আরো এক ধাপ এগিয়ে গেলো। এটির মাধ্যমে মানসম্মত সংযোগ নিশ্চিতে সরকারের নিষ্ঠার পরিচায়ক। এছাড়া এই নিলামের ইতিবাচক ফলাফল একই লক্ষ্যের প্রতি সরকার এবং টেলিযোগাযোগখাতের অংশীদারিত্বের প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন করেছে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন