বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী ২৫, ২০২১

ই-পেপার

চরমোনাই দরবার শরীফের মাহফিল শুরু কাল

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২১

বরিশালের কীর্তনখোলা নদীর তীরে চরমোনাই দরবার শরীফে আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী বার্ষিকী মাহফিল। এ দিনর বাজ জোহর চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম উদ্বোধনী বয়ানের মধ্যে দিয়ে মাহফিলের সূচনা করবেন। এছাড়া আগামী শনিবার সকাল ৯টায় আখেরী মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে মাহফিল শেষ হবে।

এদিকে, মাহফিলকে ঘিরে এরি মধ্যে দেশ-বিদেশের লাখো মুসল্লি চরমোনাইয়ের মাফিলের ময়দানে অবস্থান নিয়েছেন। পাশাপাশি মাহফিলকে ঘিরে মুসল্লীদের চাহিদা পুরনে চরমোনাইয়ে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন অস্থায়ী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

জানাগেছে, ‘বছরে দুটি মাহফিলের মধ্যে ফাল্গুন মাসের মাহফিলটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে গণ্য করে থাকেন চরমোনাই পীর অনুসারীরা। এ কারণে এই সময়ের মাহফিলে লাখ মুসল্লি’র সমাগম ঘটে। চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সকলস্তরের নেতাকর্মী এবং পীর অনুসারীরা মাহফিলে অংশ নেওয়ায় দলটির রাজনৈতিক অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ফাল্গুন মাসের বার্ষিক মাহফিল থেকে।

চরমোনাই মাদ্রাসার অধ্য ও পীরের বড় ভাই মাওলানা মোসাদ্দেক বিল্লাহ-আল মাদানী জানান, মাহফিলের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। মুসল্লিদের জন্য ৩০০ একর জমির ওপর মোট পাঁচটি মাঠ প্রস্তুত করা হয়েছে। সবগুলো মাঠ কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়েছে। মাহফিলে সার্বিক সহযোগিতা নিয়ে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে।

ইসলামী যুব আন্দোলন বরিশাল জেলা সভাপতি মো. সানাউল্লাহ জানান, এই মাহফিলে কয়েক লাখ মুসল্লি অংশ গ্রহণ করেন। নির্ধারিত মাঠের সামিয়ানার নিচে জায়গা নিতে ২-৩ দিন আগে এসে অবস্থান নিয়েছেন মুসল্লিরা। প্রতিবছরই সামিয়ানা উপচে কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে আশপাশের বাড়িঘর এবং ফাঁকা জায়গায় মুসল্লিরা অবস্থান নেন।

মাহফিলের মিডিয়া সেলের প্রধান মো. শরীয়াতুল্লাহ জানান, প্রতিদিন ফজর ও মাগরিবের নামাজের পর পীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম মাহফিলে বয়না করবেন। তিনি মোট পাঁচটি বয়ান করবেন। এছাড়া মাহফিলের দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ওলামা-মাশায়েখ মহাসমাবেশ এবং তৃতীয় দিন শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় ছাত্র আন্দোলনের মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি জানান, ‘মাহফিলে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বসানো হয়েছে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প। পুলিশের পাশাপাশি চরমোনাইয়ের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক রয়েছে। অসুস্থ হয়ে পড়া মুসল্লিদের চিকিৎসার জন্য মেডিকেল ক্যাম্পসহ সার্বিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন