বুধবার, মার্চ ৩, ২০২১

ই-পেপার

সেই রাতে আহত ববি শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে নেন এক সাংবাদিক

নিজস্ব প্রতিবেদক: | আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২১

গত ১৬ই ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে বরিশাল নগরীর রূপাতলী এলাকায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন শিক্ষার্থীর ওপর হামলা করে স্থানীয় পরিবহন কথিত শ্রমিকেরা।এদের মধ্যে ১৪ জনকে গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন এসব শিক্ষার্থীদের অধিকাংশকে সে রাতে উদ্ধার করে স্থানীয় শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন এক গণমাধ্যমকর্মী। তবে বিষয়টিকে মানবিক দায়িত্ব হিসেবেই দেখছেন তিনি। সে রাতের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে অভিযোগ উঠেছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফজলুল হক রাজিব জানান, মঙ্গলবার গভীর রাতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার সংবাদ পেয়ে তিনি সহ আরো দুজন ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হন।পথিমধ্যেই তিন – চারটি মোটরসাইকেলে ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত দুর্বৃত্তদের কবলে পড়েন তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরিচয় পেয়েই রাজিব সহ সঙ্গী দুজনার ওপর হামলা চালানো হয়।

সে রাতের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে রাজিব বলেন, ‘ আমাদের তিনজনকে সামনে পেয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত শুরু করে দুর্বৃত্তরা। নিজেদেরকে বাঁচাতে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয় নি। আহত অবস্থায় আমরা সবাই একটি আবর্জনার ডাস্টবিনের মধ্যে লুকিয়ে আত্নরক্ষার চেষ্টা করি’।

তিনি আরো বলেন, ‘সেসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেককে ফোন দিলেও তারা উদ্ধারে এগিয়ে আসেন নি। এরমধ্যে আমাদের অবস্থান নিশ্চিত হবার জন্য ফোন করেন শফিক মুন্সি নামের বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক একজন শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যমকর্মী । তিনি এসে আমাদের তিনজনকে উদ্ধার করে টহল পুলিশের একটি গাড়িতে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।সে রাতে উপরে ছিল আল্লাহ আর নিচে ছিল ঐ সাংবাদিক ‘।

হামলার ঘটনা আজীবন তাড়া করে ফিরবে আরেক শিক্ষার্থী মিথুন চন্দ্র পোদ্দারকে। এই শিক্ষার্থী জানান,রূপাতলী এলাকায় রাতে অন্য শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার সংবাদ পেয়ে তিনি সহ আরেক শিক্ষার্থী সেখানে গিয়ে নিজেরাও দুর্বৃত্তদের কবলে পরে। আহত অবস্থায় কোন রকমে নিজেদের প্রাণে বাঁচিয়ে একই এলাকায় অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে যান।

মিথুন বলেন, উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গিয়ে প্রক্টর সহ অন্যান্য শিক্ষকদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি আমরা। তবে আমাদেরকে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি নিয়ে শিক্ষকেরা অন্যত্র চলে যান। এসময় সেখানে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মী শফিক মুন্সি নিজের মোটরসাইকেলে করে আমাদের দুজনকে হাসপাতালে পৌঁছে দেন’।

তবে এভাবে আহত শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে পৌঁছে দেবার বিষয়টিকে শুধুমাত্র মানবিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী শফিক মুন্সি । তিনি জানান, রাত পৌনে দুটোর দিকে তাকে ফোন দিয়ে জানানো হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা হয়েছে। সংবাদের তথ্য সংগ্রহের জন্য সেই রাতেই সেখানে উপস্থিত হবার পর তিনি জানতে পারেন তিনজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত অবস্থায় একটি ডাস্টবিনের মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে। তখন পেশাগত দায়িত্ব পালনের চেয়ে মানবিক দায়িত্ব পালন তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এই গণমাধ্যমকর্মী বলেন, ‘ আহত তিনজন শিক্ষার্থীকে টহল পুলিশের মাধ্যমে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করি। এরপর ঘটনাস্থলের কাছাকাছি উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গিয়ে দেখতে পাই আহত আরো দুজন শিক্ষার্থী সেখানে বসে আছেন। তাদের শারিরীক অবস্থা দেখে মনে হয়েছিল দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন । যেকারণে নিজের মোটরসাইকেলে নিয়ে তাদেরকে হাসপাতালে পৌঁছে দেই ‘।

নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী শফিক মুন্সির তাৎক্ষণিক সাহসী ভূমিকার ব্যাপারে উপাচার্য ড.মোঃ ছাদেকুল আরেফিন বলেন,’শফিক প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েছেন। একজন মানবিক মানুষের পরিচয় দিয়েছে সে। একই সঙ্গে সংকটে বিপদগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের পাশে দাড়িয়ে অনন্য ভূমিকা রাখায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কৃতজ্ঞ করেছে’।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন