রবিবার, মার্চ ৭, ২০২১

ই-পেপার

পটুয়াখালীতে সরকারি ঘর দেয়ার কথা বলে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ।

মোঃমেহেদী হাসান(বাচ্চু)পটুয়াখালীঃ | আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২১

মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর অনুদানে সরকারি ভাবে ভূমিহীন ও গৃৃহহীনদের বিনামুল্যে ঘর প্রদানের লক্ষ্যে সারাদেশ ব্যাপি যখন ভূমিহীনকে ভূমি ও গৃহহীনকে ঘর দেয়া হচ্ছে ঠিক এমন সময় পটুয়াখালী (৩) আসন দশমিনা-গলাচিপার এমপি এসএম শাহাজাদার নাম ভাঙ্গিয়ে এমডি মকবুল হোসেন ওরফে বারেক মোল্লা ও রিপন মোল্লা নামের এই বাপ-ছেলে মিলে ঘর বানিজ্য করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পটুয়াখালী জেলার দশমিনা উপজেলার সদর ইউনিয়নের আরজবেগি গ্রামের ০৬ নং ও ০৭ নং ওয়ার্ডে। সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, এই বাপ-ছেলে মিলে বিভিন্ন লোকজনের কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রীর অনুদান সরকারি ঘর দেয়ার কথা বলে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এ ব্যাপারে অনুসন্ধান করলে একাধিক অভিযোগ পাওয়া যায় ওই বাপ-ছেলের বিরুদ্ধে।বিশেষ করে ০৬ নং ওয়ার্ডভূক্ত আরজবেগি গ্রামের নাম না বলা শর্তে একজন জানান, আমরা অতি গরিব মানুষ।

দিন আনি দিন খাই। সরকারি ঘরের কথা শুনে বারেক মোল্লা ও তার ছেলে রিপন মোল্লাকে আমাকে একটা ঘর দেয়ার কথা বলি। যেহেতু এমপির সাথে সবসময় তারা উঠাবসা করে। তখন তারা আমাকে জানায় যে চল্লিশ হাজার টাকা দেয়া লাগবে খরচের জন্য এমপি বলেছে। তারপর অতি কষ্ট করে গত আশ্বিন মাসে ত্রিশ হাজার টাকা জোগাড় করে বারেক মোল্লার হাতে দিয়েছি। এখনো দশ হাজার টাকা সে দাবি করে। কিন্তু এখনো ঘর পাইনি।এমনি ০৭ নং ওয়ার্ডভূক্ত সৌজ্জাপুরের নাম না বলা শর্তে একজন জানান, ঘরের কথা বলে গত শ্রাবন মাসে বারেক মোল্লা আমার কাছ থেকে ত্রিশ হাজার টাকা নিয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো ঘর পাইনি কিন্তু এখন আবার আরও দশ হাজার টাকা দাবি করে। অভিযুক্ত বারেক মোল্লা জানায়, আমি ও আমার ছেলে রিপন এমপির বিশ্বস্ত লোক। দয়া করে এমপিকে এ ব্যাপারে কিছু জানাবেন না। আমি সবার টাকা দিয়ে দিব।এদিকে ছেলে রিপন মোল্লা বলেন, আমি এখন ঢাকাতে এমপির সাথে আছি। দুইদিন পরে এসে আপনাদের সাথে কথা বলব। এছাড়াও নিউজ ঠেকাতে বিভিন্ন মহল চেষ্টা চালাচ্ছে।এ ব্যাপারে গলাচিপা-দশমিনা আসনের সংসদ সদস্য এসএম শাহাজাদা (এমপি) এর নিকট জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনে জানান, প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহার নিয়ে যদি কোন অর্থ বানিজ্যের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় তার জন্য সকল ধরনের আইনি পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।

তাছাড়া মিডিয়ার কাছে কোন তথ্যের ভিত্তি থাকলে তা অবশ্যই প্রকাশ করবেন। যাতে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে ও বিচারিক কার্যক্রমকে আরও সহজ করে। তিনি প্রতিবেদককে আরও জানান, আমরা সংসদ সদস্য ব্যস্ত সময় পার করতে হয় আমাদের চারপাশে অনেক লোকজন আশা যাওয়া করে এদের সকলের ভালোমন্দ অনেক সময় আমরা জানতে পারি না। যেহেতু আমাকে জানিয়েছেন বিষয়টি আমি গুরুত্বসহকারে দেখব সরেজমিন তদন্ত করব এবং ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই বাবা কিংবা ছেলে সে যেই হোক তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এবিষয়ে দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আল-আমিন প্রতিবেদককে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘর একমাত্র গৃহহীন ও ভুমিহীনদের জন্য উপহার। এখানে অর্থ বানিজ্য করার কারো সুযোগ নেই। তবে কতিপয় খারাপ প্রকৃতির লোক বিভিন্ন মহলে প্রবেশ করে গোপনে এসমস্ত খারাপ কাজ করে।মিডিয়ার মাধ্যমে অপরাধীদের মুখোশ উন্মোচন করা হোক। আর আমরা ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন