ই-পেপার

সাত বছরেই এসআই মহিউদ্দিনের সম্পদের পাহাড়

খান রুবেল | আপডেট: জানুয়ারি ৯, ২০২১

বর্তমান সময়ের আলোচিত নাম এসআই মহিউদ্দিন। যার বিরুদ্ধে রেজাউল করীম রেজা নামের শিক্ষানবিশ আইনজীবীকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগে মামলা হয়েছে। এমনকি মামলা করায় বিভিন্ন লোক দিয়ে নিহতের বাবা ইউনুস মুন্সিসহ পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে এরই মধ্যে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার আলোচিত এসআই মহিউদ্দিন আহমেদ মাহি’র বিরুদ্ধে শুধুমাত্র রেজাউলকে মাদক দিয়ে ধরে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগই নয়, বরং রেজাউলের মৃত্যুর ঘটনার পরে তার বিরুদ্ধে বেরিয়ে আসে এমন আরও বহু ঘটনার অভিযোগ।

মাদক দিয়ে ধরে নিয়ে আসামি করা, ক্রসফায়ারের হুমকি, অন্যের জমি দখল, সালিসের নামে চাঁদাবাজির মত একের পর এক ঘটনার জন্ম দিয়ে মাত্র সাত বছরেই নগরীর দক্ষিণ জনপদের এক আতঙ্কের নামে পরিণত হন এসআই মহিউদ্দিন আহমেদ।

এদিকে, পুলিশি ক্ষমতার অপব্যহার করে তিনি শুধু আতঙ্কের সৃষ্টিই করেননি, বরং এসআই পদে পদোন্নতি পাওয়ার পর থেকে মাত্র ৭ বছরেই গড়ে তুলেছেন অঢেল সম্পদের পাহাড়। অবৈধ অর্থে বিলাসবহুল বাড়ি এবং নামে-বেনামে বহু জমি-জমার মালিক বনে গেছেন এসআই মহিউদ্দিন।

জানাগেছে, এসআই মহিউদ্দিন আহমেদ এর গ্রামের বাড়ি বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলায়। তার বাবা আব্দুল মজিদ ছিলেন পুলিশের কনস্টেবল। বাবার লবিং-তদবিরের কারণে পুলিশের কনস্টেবল পদে চাকরি পান মহিউদ্দিন। সেখান থেকে প্রথমে এএসআই এবং পরে এসআই পদে পদোন্নতি লাভ করেন তিনি।

নগর পুলিশের কয়েকটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, চাকরি হওয়ার পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বেশিরভাগ সময়ই তার কেটেছে বরিশাল মহানগর পুলিশে। কখনো থানা আবার কখনো গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। দায়িত্ব পালনে সফলতার কারণে তিনি সর্বোচ্চ সম্মাননা পিপিএম পদকও পেয়েছেন।

এমনকি মাদক উদ্ধারে বিশেষ অবদান রাখায় গত নভেম্বরেও বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। তবে দীর্ঘ সময় এক মেট্রোপলিটন এলাকায় চাকরির সুবাদে বরিশালেই বাড়ি-গাড়ি এবং জমি এবং অর্থ সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলেন।

যার দরুণ মাত্র তিন বছর আগেও ভাড়া বাসায় দিন কাটানো এসআই মহিউদ্দিন এখন ১০ তলা ফাউন্ডেশনের ৪ তলা বিলাসবহুল বাড়িতে বসবাস করেন।

নগরীর সাগরদী শেরে বাংলা সড়কের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ২০১৩ সালে ওই এলাকায় ভাড়া বাসায় ওঠেন মহিউদ্দিন আহমেদ। মাত্র তিন বছরের মাথায় ৩২ লাখ টাকা দিয়ে ওই সড়কে ৪৫৯০, ৪৫৯৩, ৪৫৬৯ দাগের ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি ক্রয় করেন তিনি। সেই জমিতেই গড়ে তোলেন চার তলা ভবন।

স্থানীয় সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, ওই একটি বাড়িই নয়, রূপাতলী পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের পেছনে আবাসিক এলাকায় ৩৩ শতাংশ জমি রয়েছে এসআই মহিউদ্দিন আহমেদের। ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের উকিলবাড়ি সড়কে রফিক মেম্বারের বাড়ির পেছনে রয়েছে আরও ৬ শতাংশ জমি।

এর বাইরে বরিশাল র‌্যাব-৮ সদর দপ্তর সংলগ্ন রূপাতলী এলাকায় ৩০ শতাংশ, জাগুয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের পেছনের স্কাউট অফিস সংলগ্ন ফরিদ মুন্সীর বালু ভরাট করা প্লটে ১০ শতাংশ এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন খয়রাবাদ সেতুর ঢালে তার রয়েছে আরও ৫০ শতাংশ জমি।

দৃশ্যমান এসব সম্পদ ছাড়াও নিজ, স্ত্রী এবং স্বজনদের নামেও ব্যাপক অর্থ-সম্পদ রয়েছে বলে দাবি করেছে একাধিক সূত্র। তবে পুলিশে চাকরি করে মাত্র সাত বছরের ব্যবধানে মহিউদ্দিনের এতো সম্পদের মালিক হওয়া নিয়ে কানাঘুষা চলছে সর্বমহলে। তার এ অঢেল সম্পদের বিষয়ে পুলিশ বিভাগের পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন অনেকে।

তবে স্থানীয়দের দেয়া অভিযোগ থেকে মহিউদ্দিনের জমি এবং সম্পদের খোঁজ মিললেও এর সত্যতা যাচাই সম্ভব হয়নি। অঢেল সম্পদের মালিক হওয়ার বিষয়ে জানতে এসআই মহিউদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

যদিও সাম্প্রতি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেয়া বক্তব্যে বলেছেন, ‘রেজাউল করীম রেজাকে ধরে নিয়ে নির্যাতনের যে অভিযোগ উঠেছে তা তদন্ত করে দেখছেন তারা।

পাশাপাশি স্থানীয়দের পক্ষ থেকে আরও যে অভিযোগটি এসেছে তাতে উল্লেখিত সকল বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বাহিনীর কারও অন্যায়কে কখনো প্রশ্রয় দেননি এবং ভবিষ্যতেও দেয়া হবে বলেও গণমাধ্যমকে জানান বিএমপি কমিশনার।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন