বুধবার, ডিসেম্বর ২, ২০২০

বাসের ছাদে ড্রামে ভরা নারীর লাশের পরিচয় খুঁজে পেয়েছে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: নভেম্বর ২১, ২০২০

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সীমান্তবর্তী ভূরঘাটা বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীবাহী বাসের ছাদে ড্রামের ভিতর থেকে উদ্ধার হওয়া নারীর লাশের পরিচয় মিলেছে।

লাশ উদ্ধারের ২৪ ঘন্টা না যেতেই শনিবার বিকালে তার পরিচয় সনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। তবে তাকে হত্যার কারণ এখন উদঘাটন করতে পারেনি তারা।

নিহত নারী সাবিনা বেগম (৩০) বরিশালের মুলাদী উপজেলার নাজিরপুর এলাকার সাহেব আলীর মেয়ে এবং কুয়েত প্রবাসী শহিদুল ইসলামের স্ত্রী।

তিনি দুই শিশু সন্তান নিয়ে ঢাকায় বসবাস করতেন। শুক্রবার সকালে ঢাকা থেকে গৌরনদী উপজেলার দিয়াসুর গ্রামে শ্বশুর বাড়িতে আসেন।

তথ্য নিশ্চিত করে গৌরনদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আফজাল হোসেন স্বজনদের বরাত দিয়ে জানান, ‘শ্বশুর বাড়িতে বাচ্চাদের রেখে বরিশালে যান ওই গৃহবধূ।

এরপর থেকেই তার সাথে শ্বশুর বাড়ির লোকেরা আর যোগাযোগ করতে পারেনি। সবশেষ শনিবার থানা পুলিশের মাধ্যমে খবর পেয়ে নিহতের পরিচয় সনাক্ত করেন তারা।

এর আগে গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে আঞ্চলিক রুটের আর.সি পরিবহন নামের একটি বাস জেলার সীমান্তবর্তী ভূরঘাটার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

পথিমধ্যে সন্ধ্যা ৭টায় বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের গড়িয়ারপাড় বাস স্ট্যান্ডে হেলপারের সহায়তায় একটি প্লাস্টিকের ড্রাম বাসের ছাদে উঠায় আনুমানিক ৪৫ বছর বয়সি এক ব্যক্তি। ড্রামটিতে কাঁচের জিনিস রয়েছে বলে সুপারভাইজার ও হেলপারকে জানিয়েছিল ওই যাত্রী।

রাত ৯টার দিকে বাসটি ভূরঘাট বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছলে ড্রামের মালিক ভ্যান আনার কথা বলে বাস থেকে নেমে পড়ে। এরপর দেড় ঘন্টায় তিনি ভ্যান নিয়ে না আসায় স্থানীয়দের উপস্থিতিতে ড্রামের মুখ খুলে ভেতরে বোরকা পরিহিত আনুমানিক ৩০-৩৫ বছর বয়সি নারীর মৃতদেহ দেখতে পান বাস শ্রমিকরা।

গৌরনদী মডেল থানার ওসি আফজাল হোসেন বলেন, ‘শ্রমিকদের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে সুরতহাল রিপোর্টে ওই নারীর মাথার পেছনের দিকে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ওই নারীকে হত্যা করে লাশ গুম করতে ড্রামে ভরে বাসের ছাদে তুলে দেয়া হয় বলে জানান তিনি।

এই ঘটনায় ওই বাসের চালক- হেলপার এবং বরিশালের গড়িয়ারপাড় এলাকার যে কাউন্টারের সামনে থেকে ড্রামটি বাসে তোলা হয়েছিল সেই কাউন্টারের শ্রমিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

তাছাড়া এই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে গৌরনদী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি নিহতের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য শেবাচিম হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়। ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলেও জানিয়েছেন ওসি।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন