বুধবার, ডিসেম্বর ২, ২০২০

মুলাদীতে অভিভাবকদের বিক্ষোভের মুখে ফি কমাতে বাধ্য হলো গাছুয়া আঃ কাদের মাধ্যমিক বিদ্যালয়

মুলাদী প্রতিনিধি: | আপডেট: নভেম্বর ১৯, ২০২০

মুলাদী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী মুরাদের বিরুদ্ধে ধর্ষন, পরক্রিয়া, নারী কেলেঙ্কারী, সরকারী সম্পত্তি দখল, কমিটি বানিজ্যসহ একের পর এক বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না। গতকাল মুলাদীতে শিক্ষার্থী অভিভাবকদের বিক্ষোভের মুখে অতিরিক্ত ফি কমাতে বাধ্য হলো গাছুয়া আঃ কাদের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি । শিক্ষার্থী অভিভাবকদের তোপের মুখে বিদ্যালয়ের সভাপতি কাজী মুরাদ হোসেন ১২০০টাকা ফি নির্ধারণ করে দেন।

এর আগে শিক্ষার্থী প্রতি ফি নির্ধারণ করা হয়েছিলো ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা। জানাগেছে করোনা পরিস্থিতিতে সরকার বিদ্যালয়গুলোকে ফি আদায় বন্ধ রাখার নিদের্শণা দেয় এবং অ্যাসাইনমেন্ট গ্রহণ ও জমা দেওয়ায় কোনো প্রকার ফি আদায় করা যাবে না বলে পরিপত্র জারি করে। কিন্তু গাছুয়া আঃ কাদের মাধ্যমিক বিদ্যালয় সভাপতি শ্রেণি ভেদে বিভিন্ন ফি এর নামে অতিরিক্ত টাকা ধার্য করে দেন। অতিরিক্ত টাকা আদায় বন্ধের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ওই বিদ্যালয়কে নির্দেশণা দিলেও তা উপেক্ষা করে বিদ্যালয়ের সভাপতির নির্দেশে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের শুরু করা হয়। এতে শিক্ষার্থী অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বিক্ষুদ্ধ অভিভাবকরা বিদ্যালয়ের সামনে জড়ো হয় এবং অতিরিক্ত ফি কমানোর জন্য বিক্ষোভ শুরু করে এবং বিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত এডহক কমিটির সভাপতির নারী কেলেঙ্কারীর কারণে তাদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পরে অভিভাবকদের তোপের মুখে বিদ্যালয়ের সভাপতি কাজী মুরাদ হোসেন সরকারি নির্দেশণা অনুযায়ী ১২০০টাকা ফি আদায়ের জন্য নিদের্শণা দেন এবং যদি কোনো শিক্ষার্থী ধার্যকৃত ফি প্রদানে ব্যর্থ হয় তাহলে তিনি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ফি পরিশোধ করে দিবেন বলে আশ্বাস দেন।

এব্যাপারে গাছুয়া আঃ কাদের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ জসিম উদ্দীন জানান গত ১৮ নভেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর থেকে টিউশন ফি আদায়ের জন্য নির্দেশণা দেওয়া হয়েছে। উক্ত তারিখের আগে যদি কোনো শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়ে থাকে তবে তা ফেরৎ প্রদান করা হবে। বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী মুরাদ হোসেন জানান অভিভাবকদের সাথে সমন্বয় করেই ১২০০টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। যদি কোনো শিক্ষার্থী এই টাকা দিতে অসমর্থ হয় তাদের টাকা আমার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে দিয়ে দিব।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শহীদুল ইসলাম জানান সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী টিউশন ফি ছাড়া অন্যকোনো ফি আদায় করা যাবে না। গাছুয়া আঃ কাদের মাধ্যমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকেও টিউশন ফি ছাড়া অন্য কোনো ফি আদায় বন্ধের জন্য নির্দেশণা দেওয়া হয়েছে। যদি কেউ অতিরিক্ত ফি ধার্য করে তবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন