বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ৩, ২০২০

বরিশালে চলছে উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ দীপালি উৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: নভেম্বর ১৩, ২০২০

প্রতিবছরের ন্যায় এবারও বরিশালে কাউনিয়া আদি মহাশ্মশানে আয়োজন করা হয়েছে ভারতীয় উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ দীপাবলি উৎসব। লগ্ন অনুযায়ী শুক্রবার বিকাল ৪টা ৩২ মিনিটে শুরু হওয়া এই আয়োজন চলবে শনিবার দুপুর ২টা ২৮ মিনিট পর্যন্ত।

তবে করোনার কারণে খুব সল্প পরিসরে পালন হচ্ছে এই উৎসব। তোরণ নির্মাণ, আলোকসজ্জা এবং মেলার আয়োজন থেকে পিঁছু হটেছে আয়োজকরা। এমনকি প্রার্থনায় যেন স্বাস্থবিধি উপেক্ষিত হয় সে ব্যাপারেও তদারকি করা হচ্ছে।

কাউনিয়া মহাশ্মশানে দেখাগেছে, ‘দীপাবলি উৎসবের জন্য মহাশ্মশানের মঠসহ সমাধীস্থলগুলো সাঁজানো হয়েছে নতুন রূপে। সামাধীতে জালানো হয়েছে মোমবাতি। কাছে গিয়ে প্রার্থনাসহ প্রয়াতদের পছন্দের খাবার সাঁজিয়ে রেখেছেন স্বজনরা।

প্রতি বছর এই দিনটির অপেক্ষায় থাকেন প্রয়াতদের হিন্দু ধর্মাবলম্বী স্বজনেরা। এ লক্ষ্যে নগরীর কাউনিয়ায় ২শত বছরের ঐতিহ্যবাহী মহাশ্মশানে নির্মান করা হয় একাধিক তোরন এবং নজরকারা আলোকসজ্জা। দীপাবলি উদৎসব ঘিরে আয়োজন করা হয় মেলার। দেশ বিদেশ থেকে হাজারো পূর্ণার্থী এবং দর্শনার্থী আসেন এই মহাশ্মশানে।

তবে এবারের আয়োজনে এর কোনটিই নেই। মহামারি করোনার সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে সরকারি নির্দেশনা এবং স্বাস্থবিধি মানতেই আবারের আয়োজনে নেই সাজসজ্জা।

বরিশাল মহাশ্মশান রক্ষা কমিটির সভাপতি মানিক মুখার্জি কুডু বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, কালি পূজার আগের দিন ভূত চতুর্দশী পূণ্য তিথিতে পূজা অর্চনা করলে মৃত ব্যক্তির আত্মা শান্তি লাভ করে। তাই প্রিয়জনদের আত্মার শান্তি কামনার পাশাপাশি প্রয়াতের সামাধিস্থলে নিবেদন করা হয় তার পছন্দের নানা ধরনের খাবার। সব কিছু করা হয় তিথি থাকা অবস্থায়। এছাড়া সামাধির পাশে মোমবাতি প্রজ্বলন করে স্বজনরা’।

সর্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটির বরিশাল মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক সুরঞ্জিত দত্ত লিটু জানান, করোনার প্রকোপ বিবেচনা করে এবার সংক্ষিপ্ত পরিসরে আয়োজন করা হয়েছে শ্মশান দিপালী উৎসব। এ কারণে বিগত দিনে জাঁকজমকপূর্ণ যে মেলা, তোড়ন এবং আলোকসজ্জার আয়োজন করা হতো তা এবার করা হয়নি।

তাছাড়া করোনা শতর্কতায় মাস্ক ছাড়া কাউকে স্মশানে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। জীবাণুনাশক দুটি টানেল বসানো হয়েছে শ্মশানের প্রবেশ মুখে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য সার্বক্ষনিক করা হচ্ছে মাইকিং।

এদিকে, ‘সংক্ষিপ্ত পরিসরে হলেও দীপাবলি উৎসব নির্বিঘœ এবং মান্তিপূর্ণ করতে সব বাহিনীর সমন্বয়ে নানা পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উত্তর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. খাইরুল আলম। তিনি জানিয়েছেন, ‘নিরাপত্তার কাজে পোষাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকধারী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং র‌্যাব সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছে।

শ্মশান কমিটি সূত্রে জানাগেছে, ‘প্রায় ছয়শত একর জমির ওপর গড়ে ওঠা মহাশ্মশানে প্রায় ৬১ হাজার সমাধী (মঠ) রয়েছে। এর মধ্যে ৫০ হাজারের অধিক পাকা, ১০ হাজার কাঁচা মঠ এবং ৮শ মঠ রয়েছে যাদের স্বজনরা এই দেশে থাকেন না। সেসব মঠ হলুদ রং করা হয়েছে।

ভারত উপ-মহাদেশে এত বড় সমাধীস্থল আর নেই বলেও জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ১৯২৭ সাল থেকে এখানে দীপাবলির আয়োজন করা হয় বলে দাবি কমিটির। তবে ঐতিহাসিক কিছু মত আরো আগে থেকে এখানে দীপাবলির আয়োজন হবার পক্ষে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন