বুধবার, ডিসেম্বর ২, ২০২০

১ যুগ পর অতিথি পাখিদের কলকাকলিতে মুখর ঐতিহ্যবাহী দুর্গাসাগর

আরিফ হোসেন, বাবুগঞ্জ | আপডেট: নভেম্বর ১৩, ২০২০

হঠাৎ পাখির কিচিরমিচিরে মুখর হয়ে উঠল দুর্গাসাগর জলাশয়ের চারপাশ। চোখ আটকে গেল ওড়াউড়ি, ছোটাছুটি আর পানিতে হুটোপুটিতে ব্যস্ত একঝাঁক পাখির দিকে। দূর্গা সাগর দীঘিতে নতুন অতিথি এখন তারা। ‘পাতি সরালি’ পাখি এরা। এই অতিথি পাখির দেখা মিলল প্রায় দীর্ঘ ১২ বছর পর।

শীতকালে বাংলাদেশে যেসব অতিথি পাখির আগমন ঘটে, তার মধ্যে এই পাতি সরালি অন্যতম। এটি ছোট সরালি বা গেছো হাঁস নামেও পরিচিত।

সরেজমিনে বৃহস্পতিবার বিকেলে দেখা যায়, দূর্গা সাগর দীঘির দক্ষিণ অংশের এই জলাশয়েই ঘুরছে পাতি সরালির দল। ওদের কিচিরমিচিরে মুখর পুরো এলাকা। আগত পর্যটক ও এলাকাবাসী উপভোগ করছে সেই দৃশ্য।

কথা হয় স্থানীয় এলাকার বাসিন্দা ওবায়দুল ইসলাম উজ্জ্বল এর সঙ্গে তিনি বলেন, এই পাখি দেশি প্রজাতির হলেও দূর্গা সাগরের জন্য তারা অতিথি। পাখি শিকারের বিরুদ্ধে সরকারি ও বেসরকারিভাবে প্রচারণা বাড়ানোর পাশাপাশি আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এই পাখিদের রক্ষা করতে হবে।

পাখি পর্যবেক্ষকদের তথ্যমতে, পাতি সরালি নিশাচর স্বভাবের পাখি। দিনে জলমগ্ন ধানখেত ও জলাশয়ের আশপাশে দল বেঁধে খুনসুটিতে ব্যস্ত থাকলেও রাতে খাবারের সন্ধানে চরে বেড়ায়।

এদের প্রধান খাবার জলজ গুল্ম, নতুন কুঁড়ি, শস্যদানা, ছোট মাছ, ব্যাঙ, শামুক, কেঁচো ইত্যাদি। এরা মূলত জুটি বেঁধে দুর্গম বিল-হাওরে বসবাস করে। তাই শীত ছাড়া এদের একত্রে তেমন একটা দেখা যায় না।

এতদিন পর দুর্গাসাগর দীঘিতে অতিথি পাখি এসেছে বিষয়টি নানাভাবে ভাবিয়ে তুলেছে প্রাণী ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন দুর্গাসাগর দীঘি তার নিজস্ব প্রকৃতি ফিরে পেয়েছে । তাদের মতে, এতোদিন খাদ্য সংকট, শব্দদূষণ ও নিরাপত্তাহীনতার কারণেই পাখিগুলো দুর্গাসাগর বিমুখ ছিলো।

বরিশাল নগরী থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা গ্রামে দুর্গাসাগরের অবস্থান। মাধবপাশা ছিল চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যের সর্বশেষ রাজধানী। ১৭৮০ সালে চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যের তৎকালীন রাজা শিব নারায়ণ তার স্ত্রী দুর্গা রানীর নামে খনন করেন এক বিশাল জলাধার। নাম দেওয়া হয় ‘দুর্গাসাগর’।

১৯৯৬ সালে প্রায় ৪৬ একরের এই দীঘিকে ‘দুর্গাসাগর দীঘি উন্নয়ন ও পাখির অভয়ারণ্য’ প্রকল্পের আওতায় নিয়ে পরিণত করা হয়েছে অন্যতম পর্যটন কেন্দ্রে। দীঘিটির তত্তাবধানের দায়িত্বে রয়েছে বরিশাল জেলা প্রশাসন।

তথ্য মতে, এক যুগ আগেও পুরো শীত মৌসুমজুড়ে এই দুর্গাসাগর দীঘি মুখরিত থাকত হাজারো অতিথি পাখির কাকলিতে। স্থানীয় লোকজন জানান, ২০০৭ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় সিডরের পর থেকে আর অতিথি পাখি আসছিল না।

দূর্গা সাগর দিঘির তত্বাবধায়ক মোঃ জাহাঙ্গির হোসেন জানান, গত এক সপ্তাহ আগে থেকে সহস্রাধিক অতিথি পাখি ঝাঁক বেঁধে দুর্গাসাগরের জলাশয়ে আশ্রয় নিয়েছে। পাখির জলকেলি আর কলকাকলিতে মুখর দূর্গা সাগর দীঘি।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন