মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১, ২০২০

দুর্গাসাগরে সংযোগ সেতু নির্মাণ হবে পরিবেশ এবং প্রকৃতির সঙ্গে শত্রুতা

বাবুগঞ্জ (বরিশাল) প্রতিবেদক | আপডেট: নভেম্বর ৮, ২০২০

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী ‘দুর্গাসাগর’। দীঘিটির প্রধান আকর্ষণ প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা সৌন্দর্য এর কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে দীঘির মাঝ বরাবর চারদিকের পানির মধ্যে বিশাল উঁচু মাটির টিলা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ধারক দেড়শ’ বছরের ঐতিহ্য দুর্গাসাগরে পর্যটক আকর্ষণে কৃত্রিম সৌন্দর্য বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে বরিশাল জেলা প্রশাসন। এ আকর্ষণের নামে দুর্গাসাগরের বুক চিরে ঝুলন্ত সেতু তৈরির পরিকল্পনায় উদ্বিগ্ন এবং ক্ষুব্ধ এখানকার পরিবেশবাদীরা।

দুর্গাসাগর দীঘির মাঝ বরাবর প্রায় ৮০০ ফুট কাঠের ঝুলন্ত সেতু । যেটিকে সংযোগ করা হবে দীঘির মূল আকর্ষণ টিলার সাথে। আগামী দুই এক মাসের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন হতে পারে। তবে দীঘির মাঝে এভাবে ঝুলন্ত ব্রিজ করার পরিকল্পনায় প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের আশংকা করছেন পরিবেশবাদীরা। রোববার দুর্গাসাগর পরিদর্শন করে বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এধরনের স্থাপনা বন্ধে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছেন।

রোববার দুপুরে দুর্গাসাগর দীঘি পরিদর্শন করে এর প্রাকৃতিক পরিবেশ ক্ষতির দাবী করেছেন বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এসময় তারা বিশাল দীঘির চারপাশ ঘুরে নানা পাকা স্থাপনা দেখেও ক্ষুব্ধ হন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রীন মুভমেন্টের জেলা সমন্বয়ক কাজী মিজানুর রহমান ফিরোজ বলেন, দুর্গাসাগর দেখে তিনি দু:খিত, বিস্মিত, হতভম্ব। এর প্রাকৃতিক পরিবেশকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা চলছে । দীঘির মাঝখানে টিলার গাছ, বনজঙ্গল সাফ করে জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করা হয়েছে। টিলায় তো মানুষ নয়, জীবজন্তু থাকবে। সেখানে কেন গোলঘর করতে হবে? তিনি বলেন, এতো কিছুর পর দুর্গাসাগরের বুক চিরে ব্রিজ করলে এর নৈস্বর্গিক সৌন্দর্য বিনষ্ট হবে। এটি বন্ধে তারা বিবৃতি দিবেন।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এর জেলা সভাপতি রনজিৎ দত্ত বলেন, দুর্গাসাগরে উন্নয়নের নামে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। ব্রিজ হলে এটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র হবে। এরকম কর্মকা- যাতে না হয় এজন্য যা করার দরকার তাই করার চেষ্টা করবে বাপা।

নদী খাল বাঁচাও আন্দোলন কমিটির সদস্য সচিব কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু বলেন, রোববার দুপুরে দীঘি ঘিরে অনেকগুলো স্থাপনা দেখে বিস্মিত হয়েছেন। চারদিকে এতো সোলার লাইট, পিকনিক পার্টি, ইভেন্ট। তাতে তো আর অতিথি পাখি থাকবে না। তিনি বলেন, যে স্থান থেকে ব্রিজ করার পরিকল্পনা নিয়েছে সেটা বাস্তবায়ন হলে দুর্গাসাগরের প্রাকৃতিক পরিবেশের সর্বনাশ হবে। এটা কোনভাবে চান না পরিবেশবাদীরা। দীঘির মধ্যে ব্রিজ করার এমন পরিকল্পনাবিদদের সরে যেতে হবে। এটা বিনোদন কেন্দ্র নয়, প্রকৃতি ও পরিবেশের অভয়াশ্রম। তিনি বলেন, দুর্ঘাসাগরকে রক্ষায় চলতি সপ্তাহেই তারা প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিবেন।

সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) এর বরিশাল জেলা সদস্য শুভংকর চক্রবর্তী বলেন, দুর্গাসাগরকে ন্যাড়া করে কৃত্রিম উন্নয়ন চলছে। বরিশালবাসী দুর্গাসাগরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে ধ্বংস করে পাথরের স্থাপনা চায় না। সেখানকার টিলার গাছপালা কেটে ছাফ করা হয়েছে। অনেক স্থাপনা করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হৈচৈ পড়েছে।

সরেজমিনে দেখে মনে হলো দুর্গাসাগরের বুক চিরে ব্রিজ করা মোটেই যুক্তিযুক্ত হবে না। তারা এ বিষয়ে দ্রুত কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলবেন, স্মারকলিপিও দিবেন।
এ ব্যাপারে দুর্গাসাগর ও পাখির অভয়ারণ্য প্রকল্পের কেয়ারটেকার তপন লস্কর বলেন, পরিবেশবাদী নেতৃবৃন্দ রোববার দুপুরে দুর্গাসাগর পরিদর্শন করেছেন। তারা দীঘি ঘুরে দেখেছেন। তবে নেতৃবৃন্দ তাদের সাথে কথা বলেননি। তিনি দাবী করেন এখানে পরিবেশ বিরোধী কিছুই হচ্ছে না।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন