রবিবার, অক্টোবর ২৫, ২০২০

নিন্দুকের মুখে ছাই দিয়ে বিসিসি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ’র দৃষ্টান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২০

নিন্দুকের মুখে ছাই দিয়ে সড়ক উন্নয়নে চমক সৃষ্টি করেছেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। তিনি অত্যাধুনিক পেভার মেশিন ব্যবহার করে নির্মাণ করছেন শহরের আমতলার মোড় থেকে লঞ্চঘাট পর্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি।

শুধু তাই নয়, সড়ক নির্মাণে পূর্বের মতই ঠিকাদারকে দিতে হয়েছে পাঁচ বছরের গ্যারান্টি। যা শুধু বরিশালই নয়, গোটা দেশে সড়ক উন্নয়ন কার্যক্রমে এক বিরল দৃষ্টান্ত বলে মনে করছেন নগরবাসী।

জানাগেছে, ‘বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রভাবে থমকে যায় গোটা দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম। ঠিক তেমনি করে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন কাজেও বাধা হয়ে দাঁড়ায় মহামারি করোনা। ফলে নগরীর বেশ কিছু সড়কে সৃষ্টি হয় খানাখন্দ। বিশেষ করে সম্প্রতি পানি বন্যার কারণে ক্ষত বিক্ষত হয় নগরীর সড়কগুলো।

এদিকে বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ নগর পিতার দায়িত্ব গ্রহণের সময় ঘোষণা করেন টেকসই উন্নয়নের। সেই প্রতিশ্রুতির একটি অংশ হিসেবে চলছে টেকসই সড়ক উন্নয়ন কাজ। তিনি যে পদ্ধতিতে বর্তমানে সড়ক উন্নয়ন কাজ করছেন তার মাধ্যমে শুধু বরিশাল নগরবাসীকেই নয়, বরং গোটা অঞ্চলের মানুষের মধ্যে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানাগেছে, ‘আমতলার মোড় থেকে লঞ্চঘাট পর্যন্ত সড়কটি জনগুরুত্বপূর্ণ। ২০০২ সালে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন গঠন হওয়ার পর থেকেই প্রতি মেয়রের আমলেই বছরে ২-৩ বার করে পুন:সংস্কার করা হতো এই সড়কটির। কিন্তু প্রতিবারই অঢেল অর্থের অপচয় হলেও কোন বারই টেকসই হয়নি। বরং কদিন না যেতেই পূর্বের অবস্থানে ফিরে যায়।

পূর্বের পরিষদে সড়কটি সংস্কারে পুকুর চুরির পাশাপাশি লিপষ্টিক মার্কা উন্নয়নের ফলে এ সড়কে ভোগান্তি বেড়ে যায়। দীর্ঘ দিন ধরেই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে সড়কটি। তার মধ্যে সম্প্রতি বৃষ্টি এবং পানি বন্যার কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়ানক হয়। ফলে এবার সেই সড়কের ডেঞ্চ কার্পেটিং করছেন মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ।

বিশেষ বরাদ্দ না থাকা সত্ত্বেও সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির উন্নয়ন কাজ শুরু করেছেন মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। কাজের মান উন্নত এবং টেকসই করার লক্ষ্যে তিনি নিজেই শ্রমিকের আসনের বসে ইট ভেঙে মান নির্ণয় করেছেন। যা নগরবাসীর মধ্যে ইতিবাচক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

বিসিসি’র প্রকৌশল বিভাগ আরও জানায়, ‘জনগুরুত্বপূর্ণ ওই সড়কটি পাঁচ বছরের গ্যারান্টিতে মহাসড়কের আদলে নির্মাণ করা হচ্ছে। পাঁচ বছরের মধ্যে নির্মিত সড়কের কোন ধরনের ক্ষতি বা সংস্কারের প্রয়োজন হলে তা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে নিজ খরচে করে দিতে হবে।

এদিকে সম্প্রতি ওই সড়কের কাজ শুরুর পর থেকেই নগরবাসীর মধ্যে উন্নয়ন কাজের মান নিয়ে নতুন করে ইতিবাচক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। কেননা যে পদ্ধতিতে নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে তা ইতিপূর্বে দেখেননি নগরবাসী। একমাত্র মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ’র কারণেই এমন টেকসই এবং আধুনিকায়ন দেখেছেন তারা। ফলে নগরবাসীর মুখে প্রশংসায় ভাসছেন মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ।

নগরীর বান্দ রোডস্থ বিআইপি কলোনী এলাকার বাসিন্দা প্রকৌশলী আনিসুর রহমান বলেন, ‘মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ যে পদ্ধতিতে রাস্তা করছেন সেটা অনেক টেকসই হবে। কেননা সড়ক নির্মাণ কাজে যেসব নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে তা মানসম্মত। নির্দ্বিধায় সড়কটির স্থায়ীত্ব পাঁচ বছরের অধিক হবে বলে মনে করেন এই প্রকৌশলী।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ‘ইতিপূর্বে মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ’র পরিকল্পনায় নগরীর সদর রোড, আমতলার মোড় থেকে জিলা স্কুল মোড় এবং বাংলাবাজার মোড় থেকে নতুন বাজার মোড় পর্যন্ত একই পদ্ধতিতে রাস্তা নির্মাণ করেছে সিটি কর্পোরেশন। সম্প্রতি ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাস এবং মুষলধারার বৃষ্টিতেও অক্ষত রয়েছে ওই সড়কগুলো। সড়ক গুলোর কোথাও পাথর খসে যাওয়ার চিত্রও দেখা যায়নি। ফলে নতুন করে নির্মাণাধীন আমতলার মোড় থেকে লঞ্চঘাট পর্যন্ত দীর্ঘ এই সড়কটিও টেকসই হবে বলে দৃঢ় বিশ্বাস নগরবাসীর।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, ‘আমাদের মেয়র মহোদয়ের নির্দেশে বরিশালে সড়ক বিভাগের সব চেয়ে বড় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এম খান ট্রেডিংকে দিয়ে এ রাস্তার নির্মাণ কাজ চলছে। তারা ৫ বছরের গ্যারান্টি দিয়ে সড়ক নির্মাণ করছে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন