লঞ্চের কেবিনে হত্যাকাণ্ড: চাকরির খোঁজে বরিশালে আসেন দুই সন্তানের জননী লাবনী

১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০১:১১

নিজস্ব প্রতিবেদক

বরিশাল নদী বন্দরে বার্দিং করা যাত্রীবাহী নৌ পরিবহন এমভি পারাবত-১১ লঞ্চ থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ বাদী হয়ে দায়েরকৃত ওই মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে বরিশাল সদর নৌ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অমল চৌধুরী বাদী হয়ে কোতয়ালী মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। তবে ওই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

এদিকে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে সদর নৌ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ‘খুন হওয়া ওই নারীর পরিচয় খুঁজে পাওয়া গেছে। জান্নাতুল ফেরদৌস লাবনী নামের ওই নারী রাজধানীর উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ডস্থ পল্লবী এলাকার বাসিন্দা অলিউর রহমানের স্ত্রী। তার দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে। সরকারি একটি সংস্থায় তিনি চাকরির আবেদন করেছিলেন। সে বিষয়ে কথা বলার জন্যই গত রোববার ঢাকা সদরঘাট থেকে পারাবত-১১ লঞ্চ যোগে তিনি বরিশালের উদ্দেশে রওনা হন বলে নিহতের স্বজনরা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক আলামতে ধারণা করা হচ্ছে, ওই নারী হত্যাকাণ্ডের শিকার। তার গলায় শ্বাস রোধের চিহ্ন রয়েছে। ওড়না পাওয়া যাচ্ছে না। তাছাড়া নিহত ওই নারীর সাথে থাকা সকল জিনিসপত্র নিয়ে গেছে ঘাতক।

ওসি আরও বলেন, ‘এই ঘটনায় কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা হয়েছে। তবে এ মামলার তদন্ত করছি আমরা (নৌ-পুলিশ)। সিসি ক্যামেরা দেখে এই ঘটনার সাথে যে ব্যক্তির সম্পৃক্ততার সন্দেহ করা হচ্ছে তাকে এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাকে খুঁজে এ হত্যা মামলার জট খুলবে বলে আশাবাদী ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন।

প্রসঙ্গেত, ‘গত ১৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টা ৩১ মিনিটে সদরঘাট থেকে এক ব্যক্তি জান্নাতুল ফেরদৌস লাবনী নামের ওই নারীকে সাথে নিয়ে পারাবত-১১ লঞ্চের তৃতীয় তলায় ৩৯১ নম্বর সিঙ্গেল কেবিনে ওঠে। লঞ্চের রেজিস্ট্রার অনুযায়ী কামরুল নামের ব্যক্তির নামে কেবিনটি বুকিং হয়েছে।

সোমবার এরপর ভোর ৪টা ৪৭ মিনিটে লঞ্চটি বরিশাল নদীবন্দরে নোঙর করলে সঙ্গে থাকা ব্যক্তি নিহত নারীর ব্যাগ, মাস্ক ও ওড়না নিয়ে দ্রুত লঞ্চ থেকে নেমে যায়। তবে তার মুখে মাস্ক পরা থাকায় সিসি ক্যামেরা তাকে তাৎক্ষণিকভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে অন্য যাত্রীরা নেমে যাওয়ার পরও কেবিনে থাকা নারী না মামায় কেবিনের স্টাফ তাকে ডাকাডাকি করে। কিন্তু কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে নৌ পুলিশকে খবর য়ে। পুলিশ গিয়ে কেবিনের দরজা খুলে নারীর মরদেহ দেখতে পায়। পরে সুরতহাল শেষে মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। মঙ্গলবার ওই নারীর মরদেহের ময়না তদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে।