এক লাফে ৮৫ টাকায় পৌঁছেছে পেঁয়াজের কেজি

১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০১:০৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

বন্ধুরাষ্ট্র ভারত গত সোমবার থেকে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। তাই আবার বাড়ছে পেঁয়াজের মূল্য! এমন গুজবে হৈই চৈ পড়ে যায় ক্রেতাদের মধ্যে। তাই মঙ্গলবার সকাল থেকেই বরিশাল নগরীর বাজার রোড এবং পেঁয়াজ পট্টিতে ক্রেতাদের ভিড় ছিলো দেখার মতো।

এদিকে ভারত পেঁয়াজ রাপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে, এমন গুজব ছড়িয়ে পেঁয়াজের মূল্য বাড়িয়ে ফেলেছে পাইকার থেকে খুচরা বিক্রেতারা। মাত্র এক রাতের ব্যবধানে প্রতি কেজি পেঁয়াজের মূল্য ৩০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে।

ফলে সোমবার যে পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে, তা মঙ্গলবার সকাল থেকে ৮০ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। দু-একদিনে পেঁয়াজের মূল্য আরও দ্বিগুণ হওয়ার গুজবে ক্রেতারাও হুমড়ি খেয়ে পড়ে পেঁয়াজের বাজারে। তারা অতিরিক্ত মূল্য দিয়েই পেঁয়াজ কিনে তা মজুদ করতে শুরু করেছে।

যদিও পেঁয়াজ নিয়ে গুজবে কান না দেয়ার পরামর্শ দিয়েছে বরিশাল জেলা প্রশাসক এস.এম অজিয়র রহমান। পাশাপাশি পেঁয়াজের মূল্য স্বাভাবিক রাখতে বাজার মনিটরিং কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

জানাগেছে, ‘গত সোমবার রাতে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রাপ্তানি বন্ধ করছে ভারত এ সংক্রান্ত সংবাদ বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল ও অনলাইন সংবাদ মাধ্যমে প্রচার হয়। এর পর থেকেই মূল্যবৃদ্ধি’র গুজব ছড়িয়ে পড়ে। সেই সাথে সোমবার রাত থেকেই ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে পেঁয়াজ মজুদ শুরু করে। অভিযোগ রয়েছে ভারতীয় পেঁয়াজ গুদামে রেখে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পেঁয়াজ অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি শুরু করে।

সরেজমিনে নগরীর বাজার রোড পেঁয়াজ পট্টিতে ঘুরে দেখা যায়, ‘প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৮০-৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা পূর্বের দিন অর্থাৎ সোমবার বিক্রি হয়েছে ৫০-৫৫ টাকায়। সে হিসেবে মাত্র এক রাতের ব্যবধানে পেঁয়াজের মূল্য ৩০-৩৫ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যায়।

পেঁয়াজ পট্টি পরির্দশনকালে কথা হয় বানারীপাড়ার মুদী ব্যবসায়ী আমজেদ হোসেন এর সাথে। তিনি এক সঙ্গে ৫ মণ পেঁয়াজ কিনেছেন। এর কারণ জানতে চাইলে আমজেদ হোসেন বলেন, ‘ইতিপূর্বে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। এর ফলে দেশে পেঁয়াজের মূল্য প্রতি কেজি দেড়শ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। আবার টাকা থাকলেও পেঁয়াজ পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, ‘শুনেছি ভারত আবার পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। এবারও পেঁয়াজের মূল্য পূর্বের ন্যায় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় এক সঙ্গে পাঁচ মণ পেঁয়াজ কিনে রেখেছি।

অপরদিকে নগরীর আগরপুর রোডের বাসিন্দা এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক রাজিয়া বেগম। তিনিও বাজার থেকে ১০ কেজি দেশী পেঁয়াজ কিনেছেন। তার কাছ থেকে প্রতি কেজি পেঁয়াজের মূল্য রাখা হয়েছে ৮৫ টাকা করে। মূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কায় কিছু বাড়তি পেঁয়াজ কিনে রেখেছেন বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদককে জানিয়েছেন তিনি।

পেঁয়াজ পট্টির ব্যবসায়ীদের সাথে আলাপকালে তারা বলেন, ‘ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। এ খবর টেলিভিশনে প্রচারের পর পরই পাইকাররা আমাদের পেঁয়াজ দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে। পূর্বে যেখানে ৫০ মণ পেঁয়াজ পেয়েছি সেখানে মঙ্গলবার এক একজন কমিশন এজেন্ট সর্বোচ্চ ২০ থেকে ৩০ মণ পেঁয়াজ পেয়েছেন। তাদেরও অভিযোগ কিছু সুযোগ সন্ধানী ব্যবসায়ী গুজব ছড়িয়ে পেঁয়াজের বাজার অস্থির করে তোলার চেষ্টা করছে। যেখান থেকে পেঁয়াজ আমাদের কাছে রপ্তানি হচ্ছে সেখানে প্রশাসনের মনিটরিং জোরদার করা উচিৎ বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয়ভাবে খুচরা ব্যবসায়ীদের অভিযোগ ভিন্নটা। তাদের অভিযোগ আড়তদারাই সিন্ডিকেট করে পেঁয়াজের মূল্য বাড়িয়েছে। তারা ঘোষনার সাথে সাথেই পেঁয়াজ আড়ৎ থেকে সরিয়ে গুদামে মজুদ করে রেখেছে। সেই সুযোগে সংকট দেখিয়ে দেশি পেঁয়াজ বেশি দামে বিক্রি করছে। প্রতিটি গুদামে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযোগ জরুরী বলে মনে করছেন তারা।

সার্বিক বিষয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসক এস.এম অজিয়র রহমান গণমাধ্যমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘আপাতত ভারত থেকে পেঁয়াজ রাপ্তানি বন্ধ থাকলেও মূল্যবৃদ্ধির কোন সম্ভাবনা নেই। কেননা এখন প্রতিটি আড়তেই পর্যন্ত পেঁয়াজ মজুত রয়েছে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফা লাভের আশায় পেঁয়াজ মজুদ করে পেনিক সৃষ্টি করছে। এ ব্যাপারে আমরা সতর্ক রয়েছি। তাছাড়া মূল্য বৃদ্ধি ঠেকাতে বাজার মনিটরিং কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।