পুলিশের ধারণা হত্যা: পারাবত লঞ্চের কেবিন থেকে ঢাকার তরুণী লাবনীর লাশ উদ্ধার

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:৫৪

বিএসএল নিউজ ডেস্ক

বরিশাল-ঢাকা নৌ রুটের এমভি পারাবত-১১ লঞ্চের কেবিন থেকে জান্নাতুল ফেরদৌস লাবনী (৩০) নামের এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে লঞ্চটির তৃতীয় তলায় ৩৯১ নম্বর সিঙ্গেল কেবিন থেকে মৃতদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত জান্নাতুল ফেরদৌস লাবনী ঢাকা (উত্তর) সিটি কর্পোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ডস্থ পল্লবী এলাকার বাসিন্দা আব্দুল লতিফ মিয়ার মেয়ে বলে জানিয়েছেন বরিশাল অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এর পরিদর্শক মো. সেলিম।

এর আগে রোববার ঢাকা সদর ঘাট থেকে বরিশালের উদ্দেশে পারাবত-১১ লঞ্চের ৩৯১ নম্বর কেবিনে ওঠেন তিনি। ওই কেবিনটি কামরুল নামক ব্যক্তির নামে বুকিং করা। সেখানে ০১৭১১-০২৫০৯২ মোবাইল নম্বর উল্লেখ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের ধারণা লাবনী নামের ওই নারীকে হত্যা করা হয়েছে। এর পূর্বে তিনি ধর্ষণের শিকার হতে পারেন বলেও ধারণা করছেন থানা এবং সিআইডি পুলিশের কর্মকর্তারা।

এদিকে পারাবত-১১ লঞ্চের তৃতীয় তলার কেবিন বয় বায়েজিদ জানিয়েছেন, ‘তিনি ওই কেবিনে দেখা শুনার দায়িত্বে ছিলেন। রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ওই কক্ষে কাউকে আসতে দেখেননি তিনি।

বায়েজিদ আরও জানান, ভোরে লঞ্চ বরিশাল নদী বন্দরে বার্দিং করার পরে সকল যাত্রী নেমে যায়। এরপর নিয়মিত রুটিন কাজের অংশ হিসেবে কোন কেবিনে যাত্রী অবস্থান করছেন কিনা সেটা চেকিং করতে যান তিনি। এসময় দেখতে পান ৩৯১ নম্বর কেবিনের ভেতরে যাত্রী অবস্থান করলেও তার কোন সাড়া শব্দ পাওয়া যাচ্ছে না। পরে তিনি লঞ্চের সুপারভাইজার নজরুলকে বিষয়টি অবহিত করেন।

লঞ্চের সুপারভাইজার নজরুল ইসলাম জানান, ‘বয়ের কাছ থেকে খবর পেয়ে তিনি তৃতীয় তলার ওই কেবিনে যান। গিয়ে দেখতে পান দরজা পূর্বে থেকেই খোলা অবস্থায় রয়েছে। ভেতর থেকে কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে নৌ থানা পুলিশকে ফোন করে বিষয়টি অবগত করেন।

বরিশাল সদর নৌ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, ‘খবর পেয়ে তিনি সহ অন্যান্য অফিসার এবং ফোর্স নিয়ে লঞ্চের কেবিনের সামনে হাজির হন। কেবিনের দরজা ধরে টান দিতেই এটি খুলে যায় এবং দেখতে পান ওই নারীর নিথর দেহ শয্যার ওপর পড়ে আছে। পরে বিষয়টি কোতয়ালী মডেল থানা এবং সিআইডিকে জানানো হয়।

এদিকে খবর পেয়ে সকালে কোতয়ালী মডেল থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার মো. রাসেল, অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুরুল ইসলাম, ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আব্দুর রহমান মুকুল, ইন্সপেক্টর (অপারেশন) মোয়াজ্জেম হক, ডিআইজি’র ইন্সপেক্টর সেলিমসহ থানা এবং সিআইডি’র একাধিক টিম ঘটনাস্থলে ছুটে যান।

ঘটনাস্থলে থাকা সিআইডি’র পরিদর্শক আল মামুন ইসলাম জানান, মৃতদেহের গলায় একটি কালো দাগ দেখা গেছে। যেটা আলামত হিসেবে রাখা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যৌন সম্পর্কের পর ওই নারীকে হত্যা করা হতে পারে। তবে এটি ময়না তদন্তের রিপোর্ট পেলে পুরোপুরিভাবে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

অপরদিকে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (কোতয়ালী) মো. রাসেল বলেন, ‘আলামত দেখে যতটুকু বোঝা যাচ্ছে তাতে ওই নারীকে হত্যা করা হতে পারে। তবে ময়না তদন্ত ছাড়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। এ ঘটনায় নৌ থানা পুলিশকে মামলা করতে বলা হয়েছে।

এদিকে সোমবার রাতে কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘আপাতত এই ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। তাছাড়া ওই নারীর পরিচয় খুঁজে পাওয়া গেছে বলে সিআইডি থেকে আমাকে জানানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত থাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে তারা কোন কাগজপত্র পাঠায়নি।

তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনাটি আপাতত সিআইডি’র সহযোগিতায় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য শেবাচিমের মর্গে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি প্রাথমিক পর্যায়ে লঞ্চের বয় থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সকলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাছাড়া লঞ্চের প্রতিটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করেছি। যেখানে এক ব্যক্তির গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হয়েছে। তার বিষয়ে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে।

অপরদিকে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)’র পরিদর্শক মো. সেলিম জানিয়েছেন, ‘ফিঙ্গার প্রিন্ট এর সহযোগিতায় ওই নারীর জাতীয় পরিচয়পত্র খুঁজে পাওয়া গেছে। সেখানে তার নাম জান্নাতুল ফেরদৌস লাবনী এবং তার বাবার নাম আব্দুল লতিফ মিয়া বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
তাছাড়া জাতীয় পরিচয় পত্র অনুযায়ী তার বয়স ৩০ বছর এবং তিনি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ডস্থ পল্লবী এলাকার বাসিন্দা। তার পরিবারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সিআইডি’র এই কর্মকর্তা।