ভান্ডারিয়ার জাকির হোসেনের মাল্টা বাগানে বাম্পার ফলন

০৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২০:১৭

এম. শফিকুল ইসলাম আজাদ, ভান্ডারিয়া

মাল্টায় ভারে পুরো বাগানের গাছ গুলো নুয়ে পড়েছে। পুরো বাগান জুড়েই যেন মাল্টার স্বর্গ রাজ্য। পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার ইকড়ী ইউনিয়নের আতরখালী গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বার হাওলাদারের পুত্র মোঃ জাকির হোসেন ১০ একর জমির উপরে ১০০০ মাল্টা গাছের বাগান তার।

চাষ শুরু করেন ৩ বছর পূর্বে প্রথমে ৩০০ পিছ বারি-১ জাতের প্রর্দশনী বাগান শুর করে ছিলেন।কিন্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মাইনুল হুদার পরামর্শে বানিজ্যিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য আরো ৭০০ মাল্টা চাড়া রোপন করেন। সাথে বন্ধু কৃষি আদা, হলুদ, পুঁইশাক, করল্লা, ঢেরস ইত্যাদি চাষ করেন।

বৃহস্পতিবার (০৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টার সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নাজমুল আলম নবীন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, মোঃ আবদুল্লাহ-আল-মামুন মাল্টা বাগান পরির্দশনে যান। বাগানে জুলে থাকা মাল্টা দেখে অভিভূত হন। সাথে ছিলেন মোঃ লুতৎফর রহমান লিখন, উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা, মোঃ মাইনুল হুদা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা চাষী মোঃকবির হোসেন, সাংবাদিক শহীদুল ইসলাম মল্লিক।

বাগান মালিক জাকির হোসেন জানান, বেকার অবস্থায় বিদেশ যাওয়ার জন্য মনোনিবেশ করেছিলাম কিন্তু ভাগ্য সহায় না হওয়ার কারনে বিদেশ যাত্রা বাতিল হয়। প্রথমে কলা চাষ শুরু করি কিন্তু বন্যার কারনে লোকসানেরসম্মুখীন হই। পরবর্তীতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পরামর্শে মাল্টা চাষে উদ্বুদ্ধ হই।

প্রথম বছরে ইতি মধ্যে ১০০ মন মাল্টা ঢাকায় পাইকারী বাজার বাদামতলী আড়তদার মোঃইদ্রিস মিয়ার এর কাছে বিক্রি করেছি। এই বাগানের মাল্টা স্বাদে খুব মিষ্টি ও আকারে বড় হওয়ার কারনে আবারো তিনি ঢাকা থেকে এসেছেন বাগানের সব মাল্টার অগ্রিম বায়না করতে।

জাকির হোসেন আরো জানান, এই বাগান তৈরীতে এ পর্যন্ত তার খরচ হয়েছে ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। প্রথমবার বিক্রি হয় ৩ লক্ষ ৬০ হাজার টাকার মাল্টা আরো ৪০০ মন মাল্টা বিক্রি করা যাবে বলে তিনি আশা করেন। যার বাজার মূল্য ১৪লক্ষ ৪০ হাজার টাকা।

এ কারনে তাকে এলাকার সবাই মাল্টা জাকির বলে ডাকে। তার দেখাদেখি তার চাচাতো ভাই মোঃ আবু হোসেন, শিক্ষক হারুন অর-রশিদ সহ অনেক বেকার যুবক এই মাল্টা চাষে আগ্রহী হয়ে পড়েছেন। হয়তো দুই এক বছরের মধ্যে পুরো গ্রাম মাল্টা বাগানে ছেয়ে যাবে।