বগুড়ার মসলা গবেষণা কেন্দ্র পর্যটকদের কাছেও জনপ্রিয়

২৬ আগস্ট ২০২০, ১৯:৩৪

নিজস্ব প্রতিবেদক

এমদাদুল হক,বগুড়া জেলা প্রতিনিধি:

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের আওতায় মসলা গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়। বগুড়া শহর হতে প্রায় ১৮ কি. মি. উত্তরে ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়ের পার্শ্বে শিবগঞ্জ উপজেলার রায়নগর ইউনিয়নে অবস্থিত মসলা গবেষণা কেন্দ্রটি। মসলা গবেষণা কেন্দ্রের মোট আয়তন ২৮ হেক্টর যার মধ্যে আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ ১৮ হেক্টর যেখানে বিভিন্ন ধরনের মসলা ফসলের গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

বগুড়া মসলা গবেষণা কেন্দ্রের অধীনে ৩টি আঞ্চলিক মসলা গবেষণা কেন্দ্র ও ৪টি উপ-আঞ্চলিক মসলা গবেষণা কেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে। আঞ্চলিক মসলা কেন্দ্র গুলো মাগুরা, কুমিল্লা ও গাজীপুরে । উপ-আঞ্চলিক মসলা গবেষণা কেন্দ্র লালমনিরহাট, ফরিদপুর, সিলেট ও খাগরাছড়িতে। বর্তমানে দেশে প্রায় ৪ লাখ হেক্টর জমিতে মসলা আবাদ করে উৎপাদিত হচ্ছে অন্তত ২৯ লাখ মে. টন। দুই যুগ আগে মসলার উৎপাদন ছিল ৩ লাখ মে. টন।

তবে আমাদের দেশে ব্যবহার করা হয় ২৭ প্রকার মসলা। তবে ঔষধি গুন সম্পন্ন প্রায় ১০৯ প্রকার মসলা ব্যবহার করা হয় সারা বিশ্বে। তার মধ্যে মাত্র ১৭ প্রকার মসলা উৎপাদিত হয় আমাদের দেশে। শিবগঞ্জ মসলা গবেষণা কেন্দ্রে পিঁয়াজ, মরিচ, রসুন, হলুদ, আদা, মেথি, ধনিয়া, মৌরি, গোল মরিচ, কালো জিরা, পানপাতা, পিঁয়াজ, বিলাতি ধনিয়া, আলু বোখারা, দই রং, রাঁধুনি, ফিরিঙ্গি, এলাচ, কালো এলাচ, জিরা, লং, দারুচিনি, তেজপাতা, চাইনিজ চিপস (চাইনিজ খাবারে ব্যবহার হয় এমন মসলা), কারিপাতা, জয়ফল, জয়ত্রি মসলার গবেষণা হয়ে থাকে।

এরমধ্যে এখানে ১৪টি মসলার ৩১টি জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে মসলা গবেষণা কেন্দ্র বিভিন্ন মসলার জাত উন্নয়নে সফলতা অর্জন করে তা কৃষকদের হাতে পৌছে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

বাংলাদেশে ৩২ লাখ মেট্রিক টন চাহিদার বিপরীতে মসলার উৎপাদন হয় মাত্র ১৮ লাখ মেট্রিক টন। এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রা পূরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের অধীনে শিবগঞ্জে প্রতিষ্ঠা করা হয় দেশের একমাত্র মসলা গবেষণা কেন্দ্র। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি পর্যটকদের কাছেও বেশ জনপ্রিয়। দেশের পর্যটকদের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটকরাও বেড়াতে আসেন এখানে।

এখানে বেড়াতে আসা খুলনার এক পর্যটক রায়হান শরিফ বলেন, দেশের একমাত্র মসলা গবেষণা কেন্দ্রটির কথা এতদিন শুধু শুনেছি। আজ দেখতে আসলাম। খুব ভালো লাগলো। আমাদের দেশে সব ধরনের মসলা উৎপাদন হবে এটা আমাদের গর্ব।