কাউখালীতে ফলন ভাল হলেও হাসি নেই আমড়া চাষিদের মুখে

২০ আগস্ট ২০২০, ২০:০৫

নিজস্ব প্রতিবেদক

পিরোজপুরের কাউখালীতে আমড়া ফলনের ভরা মৌসুম। এবছর আমড়ার ফলন ভাল হলেও দাম কম। এই নিয়ে হতাশ শত শত আমড়া চাষী। গত বছর ভরা মৌসুমে আমড়া মণ প্রতি (৪০ কেজি) ৯শ’থেকে ১হাজার টাকা বিক্রি হলেও এ বছর মণপ্রতি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা দামে চাষীদের আমড়া বিক্রি করতে হচ্ছে।

মৌসুমে বাজার ছাড়াও পথে পথে প্রচুর বিক্রি হয় এই আমড়া। এটি একটি অর্থকরী ফল হিসেবেও নিজের জায়গা করে নিয়েছে। ফলে বেড়ে গেছে আমড়ার চাষ ও উৎপাদন।

কাউখালী উপজেলায় চলতি মৌসুমে আমড়ার ফলন ভাল কিন্তু আমড়া চাষিদের মুখে সেই হাসির রেখাটি বিস্তৃত নয়।

ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল আমড়ার ইংরেজী নাম গোল্ডেন অ্যাপেল। বিভিন্ন লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট, বাসে আর রাজধানীর ব্যস্ততম সড়কের সর্বত্রই প্রতিনিয়ত হকারদের ডাক শোনা যায় “লাগবে স্যার বরিশালের আমড়া।” বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন উপজেলায় এর ফলন বেশি বিধায় বরিশালের আমড়া বলেই পরিচিতি বেশি। বরিশাল বিভাগের পিরোজপুর জেলার কাউখালী উপজেলাসহ স্বরুপকাঠী ও নাজিরপুরে আমড়া আবাদ হয় বেশি। সেখানে বাণিজ্যিকভাবে আমড়ার চাষ হয়।

ওই এলাকায় এমন কোন বাড়ি পাওয়া যাবে না যে বাড়িতে কম করে হলেও একটি আমড়া গাছ নেই। রাস্তার পাশে বাড়ির উঠোনে একটি আমড়া গাছ লাগানো যেন প্রতিটি মানুষের নেশায় পরিণত হয়েছে। বহু মানুষ পতিত জমি কেটে আইল তৈরি করে, আবার কেউ কেউ ফসলী জমিতে আমড়ার বড় বড় বাগান সৃষ্টি করেছেন। কোন কোন চাষীর বাগান থেকে বছরে লাখ লাখ টাকা আয় হয়।

শ্রাবণ ভাদ্র মাসে পরিপক্ব আমড়া পাওয়া যায়। গ্রামের বেশির ভাগ এলাকায় আমড়া কেনা বেচার বেপারী রয়েছে। তারা ফালগুন চৈত্র মাসে কুড়ি দেখেই আগাম টাকা দিয়ে বাগান কিনে ফেলেন। আবার অনেক চাষী ভরা মৌসুমে নিজেরাই বাজারে আমড়া বিক্রি করেন। আষাঢ় মাস থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত গাছ থেকে আমড়া পেড়ে বাজারে নিয়ে বিভিন্ন আড়তে বিক্রি করা হয়। কাউখালী উপজেলার প্রধান বন্দর লঞ্চঘাট,দক্ষিণ বাজার, বেকুটিয়া, নতুনবাজারসহ বিভিন্ন বড় বাজারে রয়েছে আমড়ার আড়ত।

ওইসব আড়তে বেপারীদের কাছ থেকে আমড়া কিনে ঢাকা, চাঁদপুর, মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, মেঘনাঘাট এলাকায় চালান করা হয়। সেখানে আড়তদাররা বিভিন্ন মোকামের খুচরা বিক্রেতা ও পাইকারদের কাছে আমড়া বিক্রি করে। পিরোজপুর জেলার আমড়া আকারে বড় এবং সুস্বাদু হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানে এর চাহিদাও রয়েছে ব্যাপক।

কাউখালী এলাকার আমড়া চাষী জহিরুল ইসলাম জানান, এ বছর আমরার ফলন ভাল হলেও দাম পাওয়া যাচ্ছে না। লোকসানের মুখে কৃষকরাও।
বেপারীরা গৃহস্থদের কাছ থেকে এক বস্তা আমড়া(৯০কেজি) ১১থেকে১২’শত টাকায় কিনে কাউখালী মোকামে বিক্রি করে থাকেন ১৬থেকে ১৮’শত টাকায়।

কাউখালীর ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, একটি আড়ত থেকে ঢাকা বা মুন্সিগঞ্জ এক বস্তা আমড়া পৌঁছাতে খরচ হয় ২১০ থেকে ২১৫ টাকা। এরপর আড়তে বিক্রয় মূল্যের শতকরা ১০ ভাগ আড়তদারী দিতে হয়। প্রতিটি বস্তা(৯০কেজি) আমড়া বোঝাই করা হয়। বর্তমানে কাউখালীতে এক বস্তা আমড়ার দাম ১৬থেকে ১৮’শত টাকা। ঢাকায় বিক্রি হয় ২২’শ থেকে ২৪ টাকায়।

তিনি আরো বলেন, করোনার কারণে স্কুল কলেজ বন্ধ থাকায় এ বছর আমড়ার চাহিদা কম। তাই এবছর ফলন ভালো হলেও আমড়ার চাহিদা না থাকায় দাম পাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা।

কাউখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলী আজিম শরীফ বলেন, ‘কৃষি বিভাগ থেকে আমড়া চাষীদের সব রকমের পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। যার ফলে এ বছর ভাল ফলন পেয়েছেন চাষীরা।’ তিনি আরো বলেন, এ বছর কাউখালীতে আমড়া গাছে পোকা আক্রমণ না করায় ফলন ভাল হয়েছে।