ইন্দুরকানীতে নারী সদস্যের অপপ্রচারের প্রতিবাদে ইউপি চেয়ারম্যানের সংবাদ সম্মেলন

ইন্দুরকানী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি শুক্রবার, জুলাই ৩১, ২০২০ ১:০৮ পূর্বাহ্ণ

পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেনের বিরুদ্ধে এক নারী ইউপি সদস্যের অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সংম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে এ সংবাদ সম্মেলন করেন ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন। এসময় ৮টি ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
কবির হোসেন তার বক্তব্যে জানান, ইউপি সদস্য লাকি বেগমের ছেলে সাগর এবং স্থানীয় ফয়সাল ফকির এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জুয়া ও মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। গত কয়েক দিন আগে পশ্চিম বালিপাড়া গ্রামের মাসুম শেখকে তারা ৩৮০ পিচ ইয়াবা দোকানের পিছনে রাখতে দেয়। সেই ইয়াবা হারিয়ে যাওয়ায় পরে গত শুক্রবার টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে তার উপর নির্যাতন করা হয়। আর এ বিষয়টি নিয়ে লাকি তার স্বামী আনোয়ার ও ফয়সাল লোকজন নিয়ে মাসুম শেখ নামে এক দরিদ্র কিশোরকে চুরির অপবাদ দিয়ে শারীরিক টর্চার সহ চোখে মরিচের গুড়া দিয়ে নির্যাতন করায় পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ নিয়ে আসে আমার কাছে। ইয়াবা সংক্রান্ত বিষয় হওয়ায় ঐ কিশোরের মা থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। পরে ঐ কিশোরের পরিবার নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে থানায় একটি অভিযোগ দেন। আর এ বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা আমার কাছে জানতে চাইলে আমি তাদের দেয়া অভিযোগটি জানাই। এ নিয়ে পরে বিভিন্ন গনমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়। আর এরই রেশ ধরে ইউপি সদস্য লাকি ও তার স্বামী গতকাল ২৯ জুলাই দুপুরে বরিশাল প্রেস ক্লাবে ইন্দুরকানী থানার ওসি হাবিবুর রহমান, ওসি (তদন্ত) এ এম মাহাবুবুর রহমান ও আমাকে জড়িয়ে বিভিন্ন অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেন।
নির্যাতনের শিকার মাসুম শেখ বলেন, আমি অনেকদিন ধরে লাকি মেম্বারের বাড়ীতে দিনমজুর হিসেবে কাজ করি। শুক্রবার ফয়সাল আমাকে লাকি মেম্বারের বাড়ী থেকে ৩৮০পিচ ইয়াবা নিয়ে আসতে বলে। আমি ইয়াবা ফয়সালের কাছে এনে দিলে বিক্রি করার পরে বাকি গুলো আমাকে আনোয়ারের দোকানের পিছনে রাখতে বললে আমি রেখে আসি। পরে সেখানে ওই ইয়াবা না পাওয়ার কারনে আমাকে তার বাড়ীতে নিয়ে ৫০হাজার টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে আমার চোখে মরিচের গুড়া দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে রড ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আঘাত করেন।
এ ব্যাপারে সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য মুক্তা বেগম বলেন, এই পরিষদে আমরা ৩ জন নারী সহ ৯ জন ইউপি সদস্য আছি। কিন্তু বিগত সাড়ে ৪ বছরে পরিষদের কোন কাজ নিয়ে চেয়ারম্যানের সাথে আমাদের কোনদিন কোন ঝামেলা হয়নি। চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ইউপি সদস্য লাকি বেগমের অভিযোগের বিষয়টা সম্পূর্ণ তার মনগড়া।
ইউপি সদস্য আবুল হোসেন জানান, আমাদের চেয়ারম্যান সবসময় সমন্বয় করে আমাদের সাথে কাজ করেছেন। লাকি বেগম এলাকার বাইরে গিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে চেয়ারম্যান সম্পর্কে যেসব বিষয়ে দোষারোপ করেছে তা মিথ্যা ও বানোয়াট।
ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম বলেন, মুলত এক কিশোরকে মারধরের ঘটনার সূত্র ধরে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে লাকি মেম্বার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে।
ইউপি সদস্য মোস্তফা কামাল বলেন, লাকি বেগমের স্বামী, সন্তান মাদক, জুয়া সহ এলাকা ও এলাকার বাইরে নানা রকম অপরাধ মূলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। এসব বিষয়ে তাদের নামে মামলাও রয়েছে।
ইউপি সচিব উত্তম কুমার সাহা বলেন, চেয়ারম্যান সবার সাথে সুসম্পর্ক রেখে এতদিন কাজ করেছেন। আর ঐ নারী ইউপি সদস্য লাকি বেগমের সবার চাইতে তিনি তার সংরক্ষিত ওয়ার্ডে পরিষদ থেকে কাজ নিয়েছেন বেশি। অথচ তিনি ব্যক্তিগত সমস্যার জন্য ক্ষোভের বসে এখন চেয়ারম্যানকে দোষারোপ করে তার নামে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
ইন্দুরকানী থানার ওসি মো: হাবিবুর রহমান জানান, পরিবারের দেয়া অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক তদন্তে মাসুম শেখ নামে এক কিশোরকে নির্যাতনের সত্যতা মেলে। এ ঘটনা নিয়ে ঐ নারী ইউপি সদস্য সংবাদ সম্মেলন করে আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তুলেছে তা মিথ্যা ও বানোয়াট। তার ছেলের বিরুদ্ধে মাদক (ইয়াবার) মামলা রয়েছে। ঐ মামলায় চার্জশিটও দিয়েছে পুলিশ।
তিনি আরো জানান, কিশোরকে নির্যাতনের ঘটনায় ইউপি সদস্যের স্বামী জড়িত ছিলেন না এটা প্রমানিত হওয়ায় আমরা তার নাম কেটে দেই। আমার থানায় কাউকে মামলা দিয়ে অহেতুক ভাবে আসামী করে হয়রানী করার কোন নজির নেই।