বিসিসি নির্বাচনের আরও একটি বছর পার

নিজস্ব প্রতিবেদক বৃহস্পতিবার, জুলাই ৩০, ২০২০ ১১:৩৭ অপরাহ্ণ

আরও একটি বছর পার করলো বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান পরিষদ। ২০১৮ সালের ৩০ জুলাই নির্বাচনের মাধ্যমে গঠন হয়েছিল মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ’র নেতৃত্বাধীন এই পরিষদ। যদিও নির্বাচন পরবর্তী গেজেট প্রকাশ ও আইনি জটিলতার কারণে এ পরিষদের দায়িত্ব গ্রহণে সময় লেগে যায় প্রায় চার মাস। অর্থাৎ ২৩ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেছিলেন সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহসহ ৪০ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। এর আগে গত ২২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শপথ করান মেয়র সাদিক আবদুল্লাহকে। সে হিসেবে বর্তমান সিটি পরিষদের দুই বছর পূর্তি হবে ২৩ অক্টোবর।

জানাগেছে, ‘২০১৮ সালের ৩০ জুলাই বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর দুই মাস পরে নবনির্বাচিত মেয়র এবং মোট ৩১ জন কাউন্সিলরকে সরকারি গেজেটভুক্ত করে নাম প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ৯টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণে অনিয়মের অভিযোগের কারণে ৯ কাউন্সিলরকে গেজেটভুক্ত করা হচ্ছিল না। এ কারণেই পিছিয়ে যায় মেয়র এবং অন্যান্য কাউন্সিলরদের শপথ গ্রহণ। পরে ১৩ অক্টোবর ৯টি কেন্দ্রে পুন:ভোট গ্রহণের মাধ্যমে ৯টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর মেয়র, ৩০টি সাধারণ ওয়ার্ড এবং ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলরের শপথ গ্রহণের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছিল।

এদিকে দেখতে দেখতে বর্তমান পরিষদ নির্বাচিত হওয়ার দুটি বছর পেরিয়ে গেলেও নগরবাসীর আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটেনি। দুই বছরে তিন থেকে চারটি সড়কের উন্নয়ন ছাড়া দৃশ্যমান কোন উন্নয়ন চোখে পড়েনি। বেশিরভাগ সড়কের অবস্থা এখনও বেহাল। সড়ক এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলেও করোনার কারণে থমকে গেছে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড।

যদিও দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে আলোচিত হন সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। যার মধ্যে একটি ছিল সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবনকে দুর্নীতিমুক্ত করে সেবার মান উন্নয়ন করা। তার এই উদ্যোগের ফলে নগরভবন কেন্দ্রিক নাগরিক সেবা নিশ্চিত হচ্ছে শতভাগ। তাছাড়া দুর্নীতি বন্ধের পাশাপাশি নগর ভবনে বেড়েছে বিসিসি’র নিজস্ব আয়ও।

এছাড়া শহর পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্যোগেও প্রশংসিত হয়েছেন মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। চলমান করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও শহর পরিচ্ছন্ন রাখার কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতেই চলছে। তাছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নিয়মিত পরিশোধের পাশাপাশি তাদের দেয়া হয়েছে উৎসব ভাতাও। এমনকি বাড়ানো হয়েছে শ্রমিক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনও। যদিও করোনা পরিস্থিতির কারণে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী বা শ্রমিকরা পাননি গত ঈদ এবং আসন্ন কোরবানির বোনাস। যা সিটি কর্পোরেশন বা পূর্বের পৌরসভার ইতিহাসে নজিরবিহীন বলে দাবি তাদের। তারপরও চলমান মহামারি পরিস্থিতির কারণে বিষয়টি মেনে নিয়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।