প্রধানমন্ত্রী জানেন কিভাবে ক্রাইসিস ম্যানেজ করতে হয়- শ.ম রেজাউল করিম

নিজস্ব প্রতিবেদক বৃহস্পতিবার, জুলাই ৩০, ২০২০ ১০:৩৭ অপরাহ্ণ

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ.ম রেজাউল করীম বলেছেন, ‘সাংবাদিকরা সাংবাদিকতা করতে গিয়ে বিভিন্ন জায়গায় হয়রানির শিকার হচ্ছেন, এটা কাম্য নয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তথ্য অধিকার আইন চালু করেছেন, নাগরিকদের তথ্য জানার অধিকার রয়েছে। গণমাধ্যমের প্রতি শেখ হাসিনার বিশেষ দৃষ্টি রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে করোনাকালীন পরিস্থিতিতে বরিশাল বিভাগের মূল ধারার সাংবাদিকদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি’র বক্তৃতায় মন্ত্রী এ কথা বলেন।

এর আগে বরিশাল সাংবাদিক ইউনিয়ন (জেইউবি) এর সহযোগিতায় বরিশাল সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট। এতে সভাপতিত্ব করেন জেইউবি’র নির্বাহী সদস্য সুশান্ত ঘোষ। অনুষ্ঠানের শুরুতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের প্রত্যক্ষদর্শী শহীদ জননী মরহুমা সাহান আরা বেগম এর স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

পরে করোনাকালীন পরিস্থিতিতে কর্মরত বরিশাল বিভাগের ৪টি জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের ২০০ সাংবাদিকের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তার ১০ হাজার টাকা করে মোট ২০ লক্ষ টাকার অনুদানের চেক বিতরণ করেন প্রধান অতিথি শ.ম রেজাউল করীম।

এসময় মন্ত্রী শ.ম রেজাউল করীম আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেস্ট ক্রাইসিস ম্যানেজার। তিনি জানেন কিভাবে ক্রাইসিস ম্যানেজ করতে হবে। গোটা জাতিকে নিয়ে এগিয়ে যেতে তিনি কখনো হতাশ হননা। বরং তিনি তার কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে আজ অনন্য এক ব্যক্তি।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি নিজেও গণমাধ্যমের লোক। তাই আমি গর্বিত বোধ করি। সাংবাদিকরা হয়রানি হলে আমার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়। সাংবাদিকদের অকারণে হয়রানি করা ঠিক না এবং সাংবাদিকদের সত্য চেপেও যাওয়া ঠিক না।

মন্ত্রী বলেন, ‘গণমাধ্যম যে সহযোগিতা করতে পারে তা অন্য কেউ পারে না। সত্য কথা বলতে গেলে সবাই অখুশী হয়। প্রকৃত সাংবাদিকদের কোন বন্ধু থাকে না। আমি বলবো আপনারা আমারও সমালোচনা করুন, তবে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে।

কাউকে হেয় করে সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে শ.ম রেজাউল করীম বলেন, ‘অকারণে কাউকে হয়রানি বা যেটা যুক্তিসঙ্গত নয় সেটা সংবাদ মাধ্যমে যেমন প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকা উচিত। তেমনি যেটা প্রকাশ না করলে মানুষের, সমাজের এবং দেশের ক্ষতি হবে সেটা অবশ্যই করা উচিত।

বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘এই সরকারের আমলে কেউ সাম্প্রদায়িক সংঘাত করতে পারে না। মানবিক জায়গাটা তখনই ধ্বংস হয়, যখন ইসলামকে ব্যবহার করা হয়। আমি জানি আপনারা যারা মফস্বলে কাজ করেন তারা কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। সবার মন জয় করে চলতে হয়। কারণ আমি নিজেও মফস্বলে সাংবাদিকতা করেছি।’

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, শ.ম রেজাউল করীম বলেন, ‘আমরা চাই বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিকাশ ঘটুক। সংবাদ মাধ্যমকে যেন প্রকৃত সাংবাদিকদের কল্যাণে ব্যবহার করা হয়। কোনভাবেই যেন সাংবাদিকরা মালিক পক্ষের অথবা অন্য কোন পক্ষের দ্বারা অবিচারের শিকারে পরিণত না হন। সরকারের পক্ষ থেকে আমরা বারবার আহ্বান জানাচ্ছি, এ ক্রান্তিকালে কোন সাংবাদিককে যেন ছাঁটাই করা না হয়। তাদের বেতন ভাতা দেওয়া এবং ওয়েজবোর্ড যাতে বাস্তবায়ন করা হয়। সে ক্ষেত্রে যদি প্রয়োজন হয় আর্থিকভাবে সরকারও সহযোগিতা করবে।

তিনি বলেন, ‘সংবাদ মাধ্যমকে টিকিয়ে রাখতে চাই দেশের স্বার্থে। সংবাদ মাধ্যম এ রাষ্ট্রের অন্যতম স্তম্ভ। সংবাদের মাধ্যমে আমরা অনেক কিছু করার প্রেরণা পাই, সূত্র পাই। এ জন্য সাংবাদিক ও সংবাদ মাধ্যমকে আমরা শ্রদ্ধার সাথে দেখছি।

জেইউবি’র সাধারণ সম্পাদক স্বপন খন্দকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের নির্বাহী পরিষদের সদস্য শেখ মামুনর রশীদ, সাংবাদিক শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব মতিউর রহমান তালুকদার।

এছাড়াও অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শহীদ আব্দুর রব সেননিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট মানবেন্দ্র বটব্যাল, সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট এস.এম ইকবাল, পিরোজপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সফিউল ইসলাম বাচ্চু, ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আক্কাস সিকদার, বরগুনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস খান ইমন প্রমুখ।

এসময় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘ডিজিটাল ও আইসিটি আইনের কারণে সাংবাদিকরা সবসময় কর্মক্ষেত্রে অনিরাপদ মনে করেন। বিভিন্ন কারণে এ দুটি আইনের অপপ্রচার ও অপব্যবহার চলছে। এতে সাংবাদিকরা তাদের কাজ করতে গিয়ে বেশি ভুক্তভোগী হয়। তাই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সংশোধনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।