নগরীতে নেশা করিয়ে পিতা কর্তৃক কিশোরী মেয়েকে ধর্ষণ: মাকে কুপিয়ে জখম

নিজস্ব প্রতিবেদক বৃহস্পতিবার, জুলাই ৩০, ২০২০ ৮:৩৩ অপরাহ্ণ

নগরীতে পিতার বিরুদ্ধে মাদ্রাসা পড়ুয়া ১৪ বছর বয়সী কিশোরী মেয়েকে নেশা করিয়ে টানা পাঁচ দিন ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর এই ঘটনার প্রতিবাদ করায় মেয়ের মাকে মারধরসহ কুপিয়ে জখম করেছেন অভিযুক্ত বাবা।

বুধবার (৩০ জুলাই) বরিশাল নগরীর ৫ নম্বর ওয়ার্ডস্থ পলাশপুর বস্তির কমিশনার গলিতে এই ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ধর্ষিতা কিশোরীর মা বাদী হয়ে মহানগরীর কাউনিয়া থানায় স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

তবে মামলা দায়ের এবং ঘটনাটি জানাজানির আগেই পালিয়ে গেছেন অভিযুক্ত পিতা আব্দুস ছালাম। তিনি পলাশপুর এলাকায় সিভিল সার্জন অফিসের একজন টিকাদান কর্মী বলে জানাগেছে।

ধর্ষিতা কিশোরীর মামা আব্দুল করিম ও মহানগরীর কাউনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আজিমুল করিম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কিশোরীর মামা জানান, ‘তার ভাগ্নী নগরীর কশাইখানা এলাকার একটি মাদ্রাসার ৮ম শ্রেণির ছাত্রী। গত বুধবারের পূর্বে থেকে টানা পাঁচ দিন কিশোরী মেয়েকে নেশা করিয়ে ঘুমপাড়িয়ে ধর্ষণ করেন তার লম্পট বাবা আব্দুস ছালাম।

সবশেষ গত বুধবার বিকাল ৪টার দিকে ঘরের দরজা বন্ধ করে পুনরায় মেয়েকে ধর্ষণ করেন আব্দুস ছালাম। এসময় মেয়ের ডাক-চিৎকার শুনে ছুটে যান তার মা। মেয়েকে ধর্ষণের প্রতিবাদ করায় চরিত্রহীন স্বামী বেধড়ক মারধর এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল সেট ভেঙে ফেলেন। তাছাড়া রাতে দ্বিতীয় দফায় মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন আব্দুস ছালাম।

আবারও তাকে বাধা দেয়ায় স্ত্রীকে মারধরসহ কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করেন। এমনকি বটি দিয়ে তাকে জবাই করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ মেয়ের মা মাসুমা বেগম’র। এসময় তার ডাক চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসলে বুধবার রাত ৪ টার দিকে কৌশলে পালিয়ে যান ছালাম।

এদিকে কাউনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আজিমুল করিম বলেন, ‘খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তাছাড়া দুপুরের পরে মেয়ের মা বাদী হয়ে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলাও দায়ের করেছেন। তবে অভিযুক্ত বাবা আত্মগোপনে থাকায় তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তাকে ধরতে পুলিশের টিম কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, ‘মেয়ের মায়ের অভিযোগ অনুযায়ী বাবা কর্তৃক কিশোরী মেয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছে। তাই কিশোরীর শারীরিক পরীক্ষার জন্য শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে প্রেরণ করা হয়েছে। রিপোর্ট পেলে ধর্ষিত হয়েছে কিনা সে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। তাছাড়া মেয়ের মা’র হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।