কুবি শিক্ষার্থীর বিদ্যুৎ উৎপাদনের যন্ত্র আবিষ্কার

মঈনুদ্দীন মুহাম্মদ ইরফান রবিবার, জুলাই ১৯, ২০২০ ৮:৩৮ অপরাহ্ণ

রানা মজুমদার। কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার সাওড়াতলি গ্রামের সেলিম মজুমদার ও জফুরা বেগমের আট ছেলেমেয়ের মধ্যে ষষ্ঠ। পড়ছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ১২তম আবর্তনে৷

প্রযুক্তির এই যুগে নানা আবিষ্কারের মধ্যে রানা মজুমদার আবিষ্কার করেছেন স্বল্প খরচে এবং কম সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের যন্ত্র। বাইসাইকেলের চাকা ঘুরিয়ে উৎপাদন করা যাবে বিদ্যুৎ। দুই চাকার সাইকেলের এক চাকা ঘোরালেই উৎপাদিত হবে বিদ্যুৎ যা দিয়ে চলবে বৈদ্যুতিক লাইট, ফ্যান এবং টিভি। কম সময়ে আর সল্প খরচে সাইকেলের চাকা ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব বলে দাবি করেন তরুণ এই বিজ্ঞানী। সাইকেলের চাকার গতিশক্তির মাধ্যমে চুম্বকক্ষেত্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। এতে ঘরে বসে স্বল্পসময়ে কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব।

বৈশ্বিক চলমান করোনা মহামারির কারণে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের সময়টা পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে বাইসাইকেল থেকে মোটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের যন্ত্র আবিষ্কার করেন রানা। বিশ্বে এর আগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন ধনকুবের মানোঝ ভরগ্যাভা প্যাডেল ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব এমন একটি অভিনব বাইসাইকেল আবিষ্কার করেন। এ ছাড়া আরও অনেকেই সাইকেলের প্যাডেল ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের যন্ত্র আবিষ্কার করলেও এই যন্ত্রটি তুলনামূলকভাবে ভিন্ন বলে মনে করেন কুবির এই তরুণ বিজ্ঞানী। তার আবিষ্কৃত যন্ত্রটি জেনারেটরে অধিক সাশ্রয়ী বলে দাবি করেন তিনি।

রানা বলেন, “চাহিদানুযায়ী আমাদের দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হওয়ায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে দেশের যে চাহিদা আছে তা মেটানো যায় না। সেক্ষেত্রে আমার যন্ত্রটি হেল্পফুল হবে। বেশি লোডশেডিং হলে সাইকেল চালিয়ে বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো যাবে। এ ছাড়া যেসব এলাকায় এখনও বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি সেখানে এই সাইকেল জেনারেটর ব্যবহার করা যাবে। অবশ্যই এর আগেও সাইকেল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের যন্ত্র আবিষ্কার হয়েছে। তবে সেসব থেকে আমারটা ভিন্ন। আমারটি কম খরচে অধিক বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে এবং যন্ত্র থেকে শতভাগ আউটপুট পাওয়া যাবে। আমার আবিষ্কৃত সাইকেল জেনারেটর থেকে লাইট, ফ্যান, টিভি, পানি উত্তোলনের পাম্প মেশিন চালানো সম্ভব। তবে এটার সাপোর্ট নির্ভর করবে ব্যাটারির শক্তির ওপর। যদি বেশি ভোল্টের ব্যাটারি ব্যবহার করি তা হলে বেশি সময় ধরে সাপোর্ট দিবে। তবে বিদ্যুৎ সংযোগহীন এলাকায় এই জেনারেটর থেকে সবচেয়ে বেশি সুবিধা ভোগ করতে পারবে।”

যন্ত্র আবিষ্কারের ভাবনা কিভাবে আসলো সেই প্রশ্নের জবাবে রানা বলেন, “ছোটবেলায় যখন মোটর দিয়ে পাখা বানাতাম তখন একটা ভাবনা মাথায় ঘুরত যে কারেন্ট দিলে মোটর ঘোরে, যদি মোটর ঘোরাই তা হলে কি কারেন্ট তৈরি হবে? সেই চিন্তাভাবনাকে বাস্তবে পরিণত করতে পারলাম।” তিনি আরো বলেন, মূলত গ্রামের মানুষের আর্থিক সামর্থ্য খুব বেশি না থাকলেও স্বল্প খরচে সাইকেল কেনার সামর্থ্য রয়েছে। গ্রামের মানুষ যাতে এই স্বল্প ব্যয়ের সাইকেল জেনারেটর ব্যবহার করতে পারে সে কথা মাথায় রেখেই যন্ত্রটি তৈরি করা করেছি। তবে আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে আপাতত বড় পরিসরে এ যন্ত্র তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান রানা। যদি বিশ্ববিদ্যালয় বা সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পান তা হলে জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন বলে মনে করেন এই খুদে বিজ্ঞানী।