সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ

জামায়াত পরিবারের সন্তান এখন সেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ

ইন্দুরকানী প্রতিবেদক বৃহস্পতিবার, জুলাই ৯, ২০২০ ৬:৫৪ অপরাহ্ণ

জামায়াত পরিবারের সন্তান এম এম ওবায়দুল্লাহকে পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের কমিটিতে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে ক্ষুব্দ নেতাকর্মিরা। সাংগঠনিক নিয়ম বহির্ভূত ভাবে গোপনে দলীয় পদ দেয়ার অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার দুপুরে ইন্দুরকানী প্রেস ক্লাবে সংবাদ সংম্মেলনের আয়োজন করেন উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগ। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের ১নং যুগ্ন আহ্বায়ক মোঃ আরিফুর রহমান টুটুল।

এসময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, উপজেলা যুবলীগ নেতা শাহিন গাজী, ইকরামুল সিকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুবক্কর সিদ্দিক লাভলু, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান সোহাগ, উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ন-আহবায়ক আরিফুল রহমান টুটুল, ইউপি সদস্য জামাল হোসেন, পত্তাশী ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ন-আহবায়ক রফিকুল ইসলাম রফিক, উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি শাহাদাত হোসেন বাবু, বন্দর যুবলীগের সভাপতি মেহেদী হাচান সুমন, সাধারন সম্পাদক কামরুজ্জামান তুহিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাওলাদার শিমুল সহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

লিখিত বক্তব্যে টুটুল জানান, পিরোজপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের আহবায়ক শফিউল হক মিঠু ও যুগ্ন আহবায়ক শহিদুল ইসলাম শিকদারের যৌথ স্বাক্ষরিত জেলা সেচ্ছাবেবক লীগের একটি প্যাডে গত ২০-০১-২০২০ তারিখে করে এম এম ওবাইদুল্লাহকে সংগঠনের সহ-সভাপতি পদ উল্লেখ করে উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু ইন্দুরকানী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারী অনুমোদিত সভাপতি মাহামুদুর রহমান সোহেল ও সাধারন সম্পাদক আল-মামুনের ৫১ সদস্য বিশিস্ট পূর্নাঙ্গ কমিটি এবং পরে ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই তারিখের গঠিত শহিদুল ইসলাম হাওলাদার আহবায়ক ও আরিফুর রহমান টুটুলকে যুগ্ন-আহবায়ক করে ৩১ সদস্য বিশিস্ট কমিটিতেও ওবাইদুল্লাহর কোন নাম নেই।

উক্ত কমিটি বহাল থাকা সত্ত্বেও সংগঠনের কাউকে না জানিয়ে কিংবা কোন সভা আহবান না করে আগের কমিটির কোন সদস্য নয় এমন ব্যক্তিকে কিভাবে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হল তা আমাদের বোদগম্য নয়। শুধু তাই নয়, তিনি সম্পূর্ণ আ.লীগ বিরোধী ঘরানার লোক এবং ২০১৩ সালে এলাকায় আ.লীগ বিরোধী সহিংস নানা কর্মকান্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে সম্পৃক্তার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি ঐ সময়ে নাশকতা মূলক কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অপরাধে তার বিরুদ্ধে দুটি মামলাও হয়েছে। তার নামে মামলা হওয়ার পর খুলনা গিয়ে আশ্রায় নেন। বছর খানেক আগে এলাকায় আসার পর বিভিন্ন এলাকার আ.লীগের কিছু নেতাকর্মির সাথে গোপন সখ্যতা গড়েন তিনি। তবে এমন ব্যক্তি কিভাবে আ.লীগের মত স্বাধীনতার স্বপক্ষের একটি সহযোগী সংগঠনে পদ পায় তা নিয়ে প্রশ্ন এখন সাধারন নেতাকর্মির মাঝে?

তিনি আরো বলেন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হয়ে সম্প্রতি ফেসবুকে ব্যানার, প্রোস্টারিং ও মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষ্যে স্বেচ্ছাসেবকলীগের ব্যানারে বৃক্ষরোপন কর্মসূচী পালন সহ এবং নিজেকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয় দিয়ে থাকেন ওবায়দুল্লাহ। তাই জামায়াত শিবির সমার্থক ওবায়দুল্লাহকে অনতিবিলম্বে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে মুজিব আদর্শের একজন সৈনিককে উক্ত সাংগঠনিক পদে বসানোর আহবান জানান তিনি। এজন্য তিনি জেলা ও কেন্দ্রীয় সেচ্ছাসেবক লীগ নেতৃবৃন্দের দৃস্টি আকর্শণ করেছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ইন্দুরকানী আ.লীগ এবং সহযোগী কোন সংগঠনের সাথে ওবায়দুল্লাহ কখনই জড়িত ছিলনা। সে জামায়াত পরিবারের সন্তান।

উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সিনিয়র সভাপতি আলী আকবর বলেন, ওবায়দুল্লাহ নামে আমি এই সংগঠনে কাউকে চিনিনা।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত এম এম ওবাইল্লাহ জানান, আমি বঙ্গবন্ধু আইন ছাত্র পরিষদ এর খুলনা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক পদে আছি। আমাকে পিরোজপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের আহবায়ক ও যুগ্ন আহবায়ক ২০১৯ সালের ৯ সেপ্টেম্বর তারিখে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের কমিটিতে সহ-সভাপতি শূন্যপদে কো-অপ্ট করে নেয়। পরবর্তীতে অত্র কমিটির সভাপতি মাহমুদুর রহমান সোহেল সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করলে আমাকে ২০-০১-২০২০ ২০২০ সালের ২০ জানুয়ারী জেলা কমিটি আমাকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে সংগঠন পরিচালনার দায়িত্ব দেন।
এ ব্যাপারে জেলা সেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ন-আহবায়ক শহিদুল ইসলাম সিকদারের সাথে মুঠোফোনে যোগোযোগের চেস্টা করা হলে তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।