সিঙ্গাপুরে ৬ মাসে ডেঙ্গুজ্বরে ১৪ হাজার আক্রান্ত

বিএসএল নিউজ ডেস্ক শুক্রবার, জুলাই ৩, ২০২০ ৬:২১ অপরাহ্ণ

সিঙ্গাপুরে চলতি বছরের (১ জানুয়ারি-জুলাই) ১৪ হাজারেরও বেশি ডেঙ্গুরোগী শনাক্ত করা হয়েছে। ২০১৩ সালে সর্বোচ্চ ২২ হাজার ১৭০ জনকে শনাক্ত করা হয়। ওই বছরে আটজনের মৃত্যুও হয়েছিল। ডেঙ্গুতে এ বছরে এখন পর্যন্ত ১৬ জন মারা গেছেন।

৩ জুলাই সিঙ্গাপুরের জাতীয় পরিবেশ এজেন্সি গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মে ও সেপ্টেম্বরের মধ্যে সিঙ্গাপুরে ডেঙ্গু মৌসুম। এই সময়ের মাঝামাঝিতে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

বেসরকারি সংস্থা এনইএ জানিয়েছে, বুধবার পর্যন্ত সিঙ্গাপুরে ৩৩৪টি প্রজননস্থল চিহ্নিত করা হয়েছে। তিন সপ্তাহ আগে ২০৫টি চিহ্নিত করা হয়। দেশটির উডলিঘ ক্লোজ, আলজুনাইড এবং গিলং সড়ক, বুকিত পাঞ্জাং রিং রোড, লিসেস্টার রোড/পোটং পাসির অ্যাভিনিউ ১ এবং বোর্নেমাউথ রোডে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে।

জানা গেছে, কিছু জায়গায় সংক্রমণের হার বেড়েছে। আলজুনায়েদ রোডে ১৯১ জন, বুকিত পাঞ্জাং রিং রোড ১৮৫ জন এবং বোর্নেমাউথ রোডে ১৭৫ জন ডেঙ্গুতে সংক্রমিত হয়েছেন।

দ্রুত হারে ডেঙ্গু ছড়িয়েপড়া অন্যান্য স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে সিঙ্গাপুরের গেল্যাং রোড, গেল্যাং পূর্ব অ্যাভিনিউ ১, ব্রাইটন ক্রিসেন্ট এবং অর্নসালাম চট্টি রোড/কিম ইয়াম রোড। এসব এলাকায় গত দুই সপ্তাহ ধরে গড়ে প্রতিদিন প্রায় দুই থেকে পাঁচটি নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, শনাক্ত হওয়া বেশিরভাগ মশার প্রজনন হচ্ছে বাড়ি ও আবাসিক অঞ্চলে। গত কয়েক মাস ধরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যাপক প্রচার সত্ত্বেও কিছু মালিক এখনও প্রজনন নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয় নিয়মগুলো পালন করছেন না।

১৫ জুলাই থেকে মশা-প্রজনন অপরাধের জন্য বাসা-মালিকদের মোটা অঙ্কের জরিমানা করা হবে। একাধিক স্থানে প্রজনন দেখা দেওয়ায় তাদের আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। ৩০০ ডলার জরিমানার বিধানও করা হয়েছে। এসব অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটলে কঠোর শাস্তি পেতে হবে বলে জানানো হয়েছে।

এনইএ জানিয়েছে, গত তিন সপ্তাহে সিঙ্গাপুরজুড়ে ৬৯০০টি জায়গা পরিদর্শন করা হয়েছে। মশার প্রজনন ও ক্যান্সার সংক্রমণ রোধে মালিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।