বরিশালে পরিবহন শ্রমিকে ছাঁটাই আতঙ্ক

বিএসএল নিউজ ডেস্ক সোমবার, জুন ২৯, ২০২০ ১২:০২ পূর্বাহ্ণ

করোনা প্রাদুর্ভাবের শুরুতে ২ মাসের অধিক সময় যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকাকালে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন দেয়া হয়নি। ২ মাস পর পহেলা জুন থেকে ফের যানবাহন চলাচল শুরু হওয়ার পর এবার শ্রমিক-কর্মচারী ছাঁটাই শুরু করেছে পরিবহন মালিক কর্তৃপক্ষ। গত প্রায় ১ মাসে শুধুমাত্র বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে ৮জন শ্রমিক-কর্মচারীকে।

দীর্ঘদিনের কর্ম হারিয়ে চরম বেকায়দায় পড়েছেন তারা। একমাসে ৮জন শ্রমিক-কর্মচারী ছাঁটাই হওয়ায় চাকরি হারানোর আতংকে ভুগছেন বরিশালে হাজারো পরিবহন শ্রমিক-কর্মচারী। করোনাকালে শ্রমিক-কর্মচারী ছাঁটাই বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন বরিশালের শ্রমিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ এবং জেলা প্রশাসক।

গত ২৪ মার্চ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত বরিশাল থেকে অভ্যন্তরীণ এবং দূরপাল্লা রুটের বাস চলাচল বন্ধ ছিলো। এই সময়ে অধিকাংশ মালিক তাদের শ্রমিক-কর্মচারীদের কোন বেতন দেননি। এতে অমানবিক পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন তারা। আশা ছিলো পরিবহন চলাচল শুরু হলে পাল্টে যাবে পরিস্থিতি। কিন্তু গত ১ জুন থেকে গণপরিবহন চলাচল শুরু হওয়ার পর থেকে নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে দূরপাল্লা রুটের অনেক কাউন্টারের শ্রমিক-কর্মচারী ছাঁটাই করা হয়েছে।

সাকুরা পরিবহনের টিকেট মাস্টার মো. জহির, কলারব য় মো. হাসু, মো. শহিদ, মো. মালেক, মো. পারভেজ, মো. মিজান ও প্রশান্ত এবং সৌদিয়া পরিবহনের কলার বয় নিলয়কে জুনের প্রথম সপ্তাহে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে কোন কারণ ছাড়াই। এছাড়া অন্যান্য পরিবহনেও অনেক শ্রমিক-কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। হঠাৎ বেশ কয়েকজন শ্রমিক-কর্মচারীকে ছাঁটাই করায় চাকরি হারানোর আতংক সৃষ্টি হয়েছে অন্যান্য শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যেও।

চাকরিচ্যুত মো. হাসু বলেন, ১৭ থেকে ১৮ বছর তিনি সাকুরা পরিবহনে কলার বয়ের চাকরি করেছেন। করোনার কারণে মালিক চালাতে পারছেন না অজুহাত দেখিয়ে তিনি সহ অনেককে ছাঁটাই করা হয়েছে। হঠাৎ চাকরিচ্যুত হওয়ায় তিনিসহ প্রত্যেকে পড়েছেন বিপদে। এখন রিজিকের মালিক ছাড়া কোন উপায় নাই। একই অভিযোগ করেছেন চাকরিচ্যুত অন্যান্য শ্রমিক-কর্মচারীরা। তারা বলেন, সরকার বাসের ভাড়া ৬০ ভাগ বৃদ্ধি করেছে। এখন তাদের লোকসান হয় না। তারপরও তারা নানা অজুহাতে শ্রমিক ছাঁটাই করে তাদের বিপদে মধ্যে ঠেলে দিয়েছেন। পরিবার পরিজন নিয়ে তারা মানবেতর পরিস্থিতি মোকাবেলা করছেন বলে জানান।

সাকুরা পরিবহন বরিশালের ম্যানেজার মো. আনিছুর রহমান বলেন, বরিশাল থেকে আগে প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ ট্রিপ বাস চলাচল করতো। এখন সর্বোচ্চ ৮ থেকে ১০ ট্রিপ দিচ্ছে। এতেও যাত্রী হয় না। ১০-১২ জন যাত্রী নিয়ে একেকটি বাস গন্তব্যে যাচ্ছে। এতে খরচের টাকাও উঠছে না। বর্তমান প্রেক্ষাপটে খরচ সাশ্রয়ের জন্য কিছু শ্রমিক-কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাদের আবার কাজে ফিরিয়ে আনার কথা বলেন সাকুরা পরিবহন ম্যানেজার আনিছুর রহমান।

বরিশাল সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি নগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ছাঁটাইকৃত শ্রমিকরা বিষয়টি শ্রমিক ইউনিয়নকে অবহিত করেননি। তারা লিখিতভাবে জানালে শ্রমিক ইউনিয়ন বিষয়টি নিয়ে মালিকদের সাথে আলোচনা করতে পারতো। করোনা প্রেক্ষাপটে শ্রমিকদের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ। এই মুহূর্তে শ্রমিক-কর্মচারী ছাঁটাই অমানবিক। তিনি শ্রমিক-কর্মচারীদের ছাঁটাই বন্ধ এবং ছাঁটাইকৃতদের ফের কাজে ফেরানোর জন্য সংশ্লিষ্ট মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান।

বরিশালের জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান বলেন, ২ মাস বন্ধ থাকার পর পরিবহন চলাচল শুরু হয়েছে। সরকার পরিবহনের ভাড়াও বাড়িয়েছে। এই অবস্থায় পরিবহনের শ্রমিক-কর্মচারী ছাঁটাই করা যুক্তিসঙ্গত নয়। এই মুহূর্তে শ্রমিক-কর্মচারী ছাঁটাই করা অমানবিক। করোনাকালে শ্রমিক-কর্মচারী ছাঁটাই করার মতো অমানবিক কাজটি না করার জন্য মালিকদের প্রতি অনুরোধ জানান বরিশালের জেলা প্রশাসক।