ইন্দুরকানী হাসপাতালের পরিচ্ছন্ন কর্মী ও আয়ার হাতে নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ

পিরোজপুর প্রতিবেদক রবিবার, জুন ২৮, ২০২০ ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ

পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে অতিরিক্ত ওষুধ প্রয়োগে এক প্রসূতির সন্তান প্রসবের ৪ ঘন্টা পর ঐ নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর এ ঘটনা ঘটিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও আয়া।

আর এতেই নবজাতকটির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মৃত সন্তানের বাবা মোতালেব হোসেন। ঘটনার ৫ দিন পর শনিবার ইন্দুরকানী প্রেস ক্লাবে এমন অভিযোগ করেন তিনি।

ইন্দুরকানী উপজেলার ভবানিপুরর গ্রামের সুপারি ব্যবসায়ী মোতালেব জানান, আমার স্ত্রী রেকসোনা বেগম (৩৫) গর্ববতী। তার সন্তান প্রসবের জন্য যেন ইন্দুরকানী হাসপাতালের আয়া কহিনুর বেগমকে ডাকা হয় সে জন্য কহিনুর দীর্ঘ দিন ধরে অনুরোধ করেছে আমাকে।

তাই রবিবার রাতে আমার স্ত্রীর প্রসব বেদনা উঠলে কহিনুরকে জানাই। তবে আমার চাচীকে তার সাথে থেকে সহযোগিতার জন্য অনুরোধ করি। কিন্তু কহিনুর আমার বাড়িতে গিয়ে সে আবার ফিরে এসে হাপাতালের এক পরিচ্ছন্নতা কর্মী পারভিন বেগমকে অনেকগুলো ওষুধসহ নিয়ে যায়।

তারা আমার স্ত্রীর ঘরে প্রবেশ করে সবাইকে বের করে দেয়। তাদের ইচ্ছামত ইনজেকশন দিতে থাকে আমার স্ত্রীকে। এক পর্যায়ে সন্তান প্রসবের সময় হওয়ার আগেই জোর করে অনেক শক্তি প্রয়োগে পুত্র সন্তাননের প্রসব ঘটায়। এর পরেই আমার স্ত্রী ও সন্তান অসুস্থ হয় পড়ে।

তখন রাতেই ইন্দুরকানী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ আমিন উল ইসলাম ধমক দিয়ে বলেন, কি করছেন আপনাকে তো এখন এরেস্ট করানো দরকার। পরে অবস্থা খারাপ দেখে প্রসুতিকে দ্রুত পিরোজপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেন। পথি মধ্যেই সন্তান মারা যায়।

পরের দিন সোমবার মুমূর্ষু অবস্থায় স্ত্রীকে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করি। তার অবস্থা শংকটাপন্ন। মোতালেব আরো বলেন,আমার ৪টি কন্যা সন্তান রয়েছে। এবার একটি পুত্র সন্তান হলো তাও আবার ভুল চিকিৎসায় মারা গেল।

এব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিছন্ন কর্মি পারভিন জানান, আমি ডেলিভারি করিয়ে চলে আসছি। পরে শুনছি নাকি বাচ্চা মারা গেছে। এ বিষয় আমি কিছু জানি না।

এ বিষয় অভিযুক্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়া কহিনুর এ ঘটনার কিছ্ইু জানেন না বলে জানান। কথায় এক পর্যায় তিনি সন্তান প্রসবের সময় উপস্থিত ছিলেন বলে স্বীকার করেন। তবে তিনি প্রসূতি বিদ্যায় পারদর্শী নন বলেও জানান।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ডেলিভারি করানোর জন্য সিএসবিএ ট্রেনিং প্রাপ্ত হতে হয়। কিন্তু এরা দুজনে কেউই ট্রনিং প্রাপ্ত নন। তাছাড়া হাসপাতালে ডেলিভারি করানোর নিয়ম থাকলেও কর্তপক্ষের অবহেলায় তা করা হয়না। যার কারনে ঝূকিপূর্ণ অবস্থায় অনেক সময় প্রসূতিদের পিরোজপুর নেবার পথে মৃত্যু ঘটে।

শুধু তাই নয়, অভিযোগ রয়েছে দুর্ঘটনায় আহত কিংবা স্ট্রোক বা হার্ট এ্যাটাকের কোন রোগী আসলে চিকিৎসকরা কোন মতে দেখে চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারীকে দিয়ে চিকিৎসার বাকি কাজ সারেন। এটা এ হাসপাতালের প্রতিদিনের একটা নিয়মিত রুটিন।

ডা: শংকর কুমার ঘোষ এবং ডা: এস এ খান পদন্নতি জনিত কারনে এখান থেকে বদলি হয়ে যাবার পর এখানে আউডডোরের চিকিৎসা ব্যবস্থা একেবারেই ভেঙ্গে পড়েছে। বর্তমানে যারা চিকিৎসক রয়েছেন তারা দায়সারা ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: জহুরুল হক অসুস্থ্য থাকায় হাসপাতালের দায়িত্বে রয়েছেন আরএমও ডা: আমিনুল ইসলাম। কিন্তু তার বিরুদ্ধে রয়েছে অধিকাংশ রোগীদের সাথে খারাপ ব্যবহার করার অভিযোগ।

এ এলাকায় তার বাড়ি হওয়ায় রয়েছে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ। আর এ জন্য এলাকার অনেক রোগীই হাসপাতালে আসছেন না। পাচ্ছেননা তারা ঠিকমত চিকিৎসা সেবা। এজন্য বর্তমানে হাসপাতালে রোগী সংখ্যা নেমে এসেছে অর্ধেকে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত মেডিকেল অফিসার মোঃ আমিন উল ইসলামের কাছে নবজাতকের মৃত্যুর বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়া কহিনুর ও পরিছন্ন কর্মী পারভিন এর ভুলের কারনে প্রসতির পুত্র সন্তানটির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।