বাজারের ফলের সাথে প্রতিনিয়ত খাওয়ানো হচ্ছে বিষ

নিজস্ব প্রতিবেদক বুধবার, জুন ১০, ২০২০ ৫:৩২ অপরাহ্ণ

চলছে মধু মাস জৈষ্ঠ। বছরের এই সময়টিতে আম, জাম, কাঠাল, লিচু, আনারস, পেয়ারা, কলা, তরমুজ, ফুট, লকট, আমরুল, আতা, শরিফা ইত্যাদি ফলে বাজার আসতে শুরু করে। তবে এরই মধ্যে বাজারে উঠা এসব ফল কতটা স্বাস্থ্যসম্মত নিরাপদ তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সাধারণ মহলে।

কেননা মৌসুমের আগে থেকেই বাজারে ওঠা এসব মৌসুমী ফলে বাগান মালিক, ফল ব্যাবসায়ি এবং অসাধু বিক্রেতারা অতি লাভের আশায় অপরিপক্ক ফলে ফরমালিন, কার্বাইড, প্রোমাইড এবং বিভিন্ন ধরনের বিষক্ত হরমন ব্যবহার করে কৃত্তিম উপায়ে পাকানোর অভিযোগ রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, অপরিপক্ক ফলের পচনরোধ, দ্রুত পাকানো, আকর্ষনীয় কালার আনার জন্য মাত্রাতারিক্ত পরিমানে ব্যবহার করা হয় মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর বিভিন্ন কেমিক্যাল। যা খাওয়ার পরে মানবদেহের বিভিন্ন উপসৎর্গ হিসেবে দেখা দেয়।

আলাপকালে ভান্ডারিয়া উপজেলার উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা লুৎফর রহমান লিখন বিএসএল নিউজকে বলেন, কৃষি বিভাগের যে নির্দিষ্ট নির্দেশনা তা অতি মুনফা লোভের আশায় অনেক সময় কৃষক মানছে না। আবার কৃষক মানলে মধ্যসত্তাভূগী ব্যবসায়ীরা লোকচক্ষুর আড়ালে এমন কারসাজি করে থাকে।

উপজেলা নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক (স্যানিটারি ইন্সপেক্টর) আঃ হালিম ফলে ক্ষতিকারক কেমিক্যাল মিশ্রনের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, সুযোগ সন্ধানী ব্যবসায়ীদের এমন কারসাজির বিষয়টি আমরাও জানি। কিন্তু দুঃখজনক এটাই যে কার্বাইড, ফরমালিন বা বিষাক্ত হরমন মাপার কোন যন্ত্র আমাদের কাছে নেই। তাই চাইলেও আমাদের পক্ষে কিছু করা সম্ভব হচ্চে না।

তিনি আরো বলেন, এই মেশিন শুধুমাত্র বি এস টি আই এর কাছে। এর বাইরে ঢাকার তিনটি ল্যাবে পরীক্ষা হয়ে থাকে। এখন থেকে নমুনা পাঠাতে যে সময় আর দূরত্ব তা থেকে সঠিক ফলাফল আশা করা যায় না।

অপরদিকে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আন্দোলনের নেতা শিহাদাৎ হোসেন বলেন, বাজার ঘুরে বাস্তব যে ধারনা পাওয়া গেল তা ভয়াবহ। শতকরা ৯০% ভাগ ফল কোন না কোনভাবে ক্ষতিকর ওষুধের উপস্থিতি পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, ‘শুধু মাত্র যে ফল একসাথে এক রং এবং পুরোটা না পেকে আস্তে আস্তে পাকে সেটাতেই শুধু মাত্র ক্ষতিকর উপাদান নাই।

পুষ্ঠিরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার সিমা খাতুন বিএসএল নিউজকে বলেন, এই ফল নিয়মিত খেলে মানবদেহের জন্য মারাক্তক ক্ষতিকর। বিশেষ করে শিশুদের মারাত্নক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলবে। তাই সবার সচেতনতা বৃদ্ধি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা আর আইনি ব্যবস্থা জোরদার না করলে এবং নিয়মিত বাজার মনিটরিং এর অভাবে ফলের বিষক্রিয়া আমাদের মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁলিতে ফেলবে বলে ধারনা অঝিজ্ঞ মহলের।