এখনো বাক্সবন্দি শেবামেকের করোনা পরীক্ষার পিসিআর মেশিন

নিজস্ব প্রতিবেদক বুধবার, এপ্রিল ১, ২০২০ ৮:২১ অপরাহ্ণ

করোনাভাইরাস নিয়ে একটু বেশীই আতঙ্কিত বরিশাল তথা দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। কেননা এই অঞ্চলে নেই করোনা পরীক্ষার কোন পরীক্ষার কিংবা পরীক্ষার কোন ব্যবস্থা। যে কারণে বর্তমান সময়ে সাধারণ জ্বর, হাচি, কাশি হলেও সেই রোগীকে পাঠানো হচ্ছে করোনা বিভাগে।

শুধু তাই নয়, এসব সমস্যা নিয়ে আসা ব্যক্তিরা পাচ্ছে না চিকিৎসা সেবাও। সম্প্রতি বরিশাল করোনা ওয়ার্ডে মৃত্যু হওয়া নারী এবং পুরুষও চিকিৎসা অবহেলায় মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ স্বজনদের।

এদিকে নানা শঙ্কার অবসান ঘটিয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে (শেবামেকে) করোনা পরীক্ষাগার চালুর উদ্যোন নেয়া হয়েছে। এমনকি করোনা পরীক্ষার যে প্রধান যন্ত্র পলিমারী চেইন রিক্যাকশন (পিসিআর) সেটা এরই মধ্যে শেবামেকে এসে পড়েছে।

অথচ দুঃখের বিষয় হলো কবেনাগাদ ল্যাবটি চালু হবে সেটা এখনো সু-স্পষ্ট হয়নি। এমনকি মেশিনটি বরিশালে পৌঁছাবার ৭২ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও খোলা হয়নি মেশিনের বাক্সটি। গত ৭২ ঘন্টায় অগ্রগতি হয়েছে শুধু নির্দেশ আর ল্যাবের স্থান পরিদর্শন।

জানাগেছে, বরিশাল বিভাগে এখনো করোনায় আক্রান্ত কেউ সনাক্ত হয়নি। যদিও করোনা আক্রান্ত সন্দেহে এরই মধ্যে বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বেশ কয়েকজনকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে মারাগেছে দু’জন। তবে তারা করোনা আক্রান্ত ছিলো কিনা সেটা নিশ্চিত নন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, দক্ষিণাঞ্চলে করোনায় আক্রান্ত সন্দেহজনক ব্যক্তিদের পরীক্ষার জন্য গত সোমবার সকালে বরিশাল শেবামেকে করোনা পরীক্ষার মেশিন পিসিআর এসে পৌছায়। পরে সেটিকে স্থাপনের উদ্দেশ্যে কলেজের একাডেমিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় ফার্মাক্লোজী বিভাগে নিয়ে রাখা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত খোলা হয়নি মেশিনের বাক্সও।

ইতিপূর্বে কলেজ অধ্যক্ষ ডা. অসীত ভূষন দাস জানিয়েছেন, ‘মঙ্গলবার ঢাকা থেকে ইঞ্জিনিয়ার এসে মেশিন কোথায় বসবে সেটা দেখবেন। এছাড়া আরও কিছু যন্ত্র রয়েছে সেগুলো তারা সাথে করে নিয়ে আসবেন। কিন্তু মেশিন আর তিন দিন অতিবাহিত হলেও ঢাকা থেকে প্রকৌশলীরা আসেননি বলে জানাগেছে।

অপরদিকে গত মঙ্গলবার বরিশাল জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্স অনুষ্ঠানে যোগদিনে বরিশাল সদর আসনের এমপি ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্ণেল (অব,) জাহিদ ফারুক শামীম আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে করোনা ভাইরাস পরীক্ষা শুরুর নির্দেশ দেন। তার দেয়া সেই নির্দেশনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার শেষ হবে ৭২ ঘন্টা। কিন্তু ওই সময়ের মধ্যে এটি চালু করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

এর কারণ উল্লেখ করে অধ্যক্ষ বলেছেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগার। এর জন্য নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করতে হবে। তাই একটি কক্ষ পূর্বে থেকে নির্ধরণ করা। সেখানকার বাহ্যিক কাজ ইতিপূর্বে করা হয়েছে। বাকি কাজ গণপূর্ত বিভাগ এখনো করছে। তারা কাজ শেষ করার পরেই মেশিন স্থাপন এবং কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব।

এদিকে ১ এপ্রিল বুধবার দুপুরে শেবামেকে পিসিআর মেশিন স্থাপনের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্ণেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম-এমপি। এসময় তিনি মান বজায় রেখে দ্রুত পিসিআর মেশিন স্থাপন করে করোনা ভাইরসা পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু করার জন্য প্রকৌশল বিভাগ ও কলেজ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখানে এসেছি পিসিআর মেশিন বসানো ও ল্যাবের জন্য যে কাজ হচ্ছে তা দেখার জন্য। আমরা চাই মেশিনের কাজ দ্রুত শুরু করতে। আমি বলেছি, আগামীকাল রাতের মধ্যে যদি কনস্ট্রাকশনের কাজ অর্থাৎ রিপেয়ারিং যদি শেষ হয়ে যায় তাহলে পরশুদিন থেকে ল্যাবের জন্য কাজ শুরু করতে পারবে। আমি তাদের (প্রকৌশলীদের) একটা টাইম শিডিউইল দিয়েছি, যদিও তাদের চেষ্টা ও আন্তরিকতার শেষ নেই। কনষ্ট্রাকশনের কাজ শেষে আগামীকাল রাতে আবার আমরা আসবো। এরপর মেশিন বসানোর কাজ শুরু হবে। ইনশআল্লাহ আমরা দ্রুততার সাথে কাজ করার চেষ্টা করছি, কারোও আন্তরিকতার কমতি নেই। আগামী ৩/৪ দিনের মধ্যে কমপ্লিট হবে বলে আশা করছি।

এসময় তিনি সাম্প্রতিকসময়ে গুজব ছড়ানোর বিষয়ে বলেন, আমরা গুজবকে খুব পছন্দ করি, কাজ নাই তো, তাই ঘরে বসে আছি, তো গুজব ছড়াচ্ছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গতকাল যখন ভিডিও কনফারেন্স করেছেন, তখন বারবার বলেছেন গুজবে কান দিয়েন না, গুজব ছড়াবেন না। বাংলাদেশে কিন্তু এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাস মোটামুটিভাবে কন্ট্রোলে রয়েছে।

গুজব ছড়ালে শুধু শুধু সাধারণ লোকজনের ভেতরে একটা ভয়-ভীতির কাজ করবে। আমি বরিশালবাসীকে আবেদন করেবা আপনারা গুজবে কান দিবেন না, বরিশালবাসী সুরক্ষিত আছে ভয়ের কোন কারণ নেই। নিজের বাড়িতে থাকুন, নিজের এবং পরিবারের প্রতি খেয়াল রাখেন। গুজব থেকে বিরত থাকেন। আর যারা গুজব ছড়াচ্ছে তাদের আমরা ধরতে পারলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।