নাটকীয়তায় বাতিল শেবাচিম পরিচালকের বদলির আদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক বুধবার, এপ্রিল ১, ২০২০ ১:১১ পূর্বাহ্ণ

কার্যকর হলোনা বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতাল পরিচালক ডা. মো. বাকির হোসেন এর বদলির আদেশ। বরং নাটকীয়ভাবে তা বালিত করা হয়েছে। ৩১ মার্চ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রনালয়ের উপ-সচিব শারমিন আক্তার জাহান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তার বদলীর আদেশটি বাতিল করেন।

বেলা ১২ টায় মন্ত্রনালয়ের ওয়েবসাইটে এই প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয়। এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ হন বেশিরভাগ চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের মধ্যে দেখা দেয় নানা প্রশ্নের।

এদিকে একই প্রজ্ঞাপনে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চলতি দায়িত্বে পরিচালক হিসেবে বদলীর আদেশধীন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলতি দায়িত্বে পরিচালক ডাঃ এ,টি,এম,এম. মোর্শেদকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে বদলী করা হয়। তার স্থলে পরিচালকের দায়িত্ব প্রদান করা হয় ঝিনাইদহ ম্যাটস’র অধ্যক্ষ ডাঃ মুন্সী মোঃ রেজা সেকান্দারকে।

সূত্র মতে, ডাঃ মোঃ বাকির হোসেন ২০১৮ সালের ৩১ মার্চ শেবাচিম হাসপাতালে যোগদান করেন। শুরুতে তার কার্যক্রমে অনেকটা প্রাণ ফিরে পায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে। তবে পরবর্তীতে তার বদ আচরণে ক্ষুব্ধ হন চিকিৎসক থেকে শুরু করে সাধারণ কর্মচারীরাও। এমনকি তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যেই গণমাধ্যমে বক্তব্য দেন চিকিৎসকরা।

তাদের মতে ডা. বাকির হোসেন বদ মেজাজি। যিনি তার একার সিদ্ধান্তকে প্রাধান্য দিয়ে চলেন। চিকিৎসক থেকে শুরু করে রোগী পর্যন্ত সবার সাথে অশোভন আচরণ করেন। এমনকি কিছুদিন পূর্বে এক তরুন চিকিৎসকের মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে বিতর্কের মধ্যে পড়ে যান তিনি।

অভিযোগ উঠেছে, সুষ্ঠুভাবে হাসপাতাল পরিচালনায় বার বারই ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে আসছেন তিনি। যার ফলশ্রুতিতে হাসপাতালের অধিকাংশ পরীক্ষা নিরীক্ষার যন্ত্রই এখন বিকল হয়ে পড়ে আছে। নিয়ন্ত্রন করতে পারছে না দালাল চক্র। তাছাড়া তুমুল আলোচনার মধ্যে দিয়ে আদালতের নির্দেশে হাসপাতালে যোগদান করা তৃতীয় এবং চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারীদের বেতন দেয়ার নামে প্রত্যেকের কাছ থেকে মোটা অংকের কমিশন রাখেন তিনি।

যদিও কিছু ভালো কাজের উদ্যোগও নিয়েছেন তিনি। যার মধ্যে হাসপাতালে ইউরোলজী বিভাগ চালু করা, জাইকা প্রজেক্টের অধিনে বহুতল বিশিষ্ট হাসপাতাল এলাকায় পৃথক ৭ তলা বিশিষ্ট মাল্টিপারপাজ ভবন, ৫তলা বিশিষ্ট রেডিওলজী ও ইমেজিং, প্যাথলজী এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টার নির্মাণ প্রক্রিয়া শুরু করেন। সেই সাথে নতুন করে ১০ তলা বিশিষ্ট ক্যান্সার হাসপাতাল নির্মানের প্রক্রিয়াও হতে নেন তিনি। যদিও এই কাজ বাস্তবায়নের মূল ভূমিকায় রয়েছে গণপূর্ত বিভাগ।

স্বাস্থ্য সেবা উন্নয়ন কমিটির সভাপতি’র আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ-এমপি’র সহযোগীতায় মন্ত্রনালয়ে যোগযোগ করে দীর্ঘদিন পর নতুন একটি এ্যাম্বুলেস আনার ব্যবস্থা করেছেন তিনি। এ্যাম্বুলেন্সটি বর্তমানে সেবার কাজে নিয়োজিত রয়েছে। নিজ উদ্যোগে হাসপাতালের সামনে ও ৪র্থ শ্রেনীর স্টাফ কোয়াটারে সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। যদিও এটি কর্মচারীদের চাপের মুখে পড়েই করতে হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ‘অতি সম্প্রতি ডা. বাকির হোসেনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিচালক পদে বদলির আদেশ দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এর পর থেকেই শুরু হয় তার লবিং-তদবির। প্রথমত তিনি বদলির আদেশ গোপন করে আদেশ বাতিলের জন্য জোর চেষ্টা করেন। কিন্তু পরে তা ওপেন হয়ে যায়।

এদিকে তাকে বদলির আদেশের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর দিনই বদলি ঢেকাতে ঢাকায় চলে যান। স্থানীয় স্বাচিপ ও বিএমএ নেতাদের ম্যানেজ করে ঢাকায় গিয়ে আটকে দেন তার বদলির আদেশ। গুঞ্জন রয়েছে, স্বাচিপ-বিএমএ’র পাশাপাশি মন্ত্রণালয়েও ম্যানেক প্রক্রিয়ায় বদলির আদেশ ঠেকাতে সক্ষম হন ডা. বাকির হোসেন। আর বদলির আদেশ বাতিলের চিঠি পাওয়ার পর পরই ফের পূর্বের চরিত্রে অবতির্ন হন তিনি। যে কারণে তার বদলির আদেশ বাতিলে কর্মকর্তা কর্মচারীদের আনন্দিত হওয়ার থেকে ক্ষোভের সঞ্চারই বেশী হয়েছে বলে জানিয়েছেন সূত্রগুলো।